Bnanews24.com
Home » বর্জ্য বাণিজ্যে: ‘৩০ লাখ টাকা খরচ করে কাজ পেয়েছি’
রাজধানী সব খবর

বর্জ্য বাণিজ্যে: ‘৩০ লাখ টাকা খরচ করে কাজ পেয়েছি’

বর্জ্য বাণিজ্যের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

বিএনএ, ঢাকা:  রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় বর্জ্য বাণিজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকার বাসিন্দারা। শনিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে শনির আখড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়। এসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নুরপুর-১, নুরপুর-২, পাটেরবাগ, মুক্তধারা, ইসলামবাগ (রসুলবাগ, রহমতবাগ, শাহজালালবাগ), পলাশপুর, জনতাবাগ, স্মৃতিধারা, দক্ষিণ রায়েরবাগ, মেরাজনগর (দনিয়ার অংশ), মদিনাবাগ, দক্ষিণ জনতাবাগ এলাকা নিয়ে ডিএসসিসির ৬০ নম্বর ওয়ার্ড। সম্প্রতি এই ওয়ার্ডে দরপত্রের মাধ্যমে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটের বর্জ্য অপসারণে দায়িত্ব পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এম এন্টার প্রাইজ। কার্যাদেশ অনুযায়ী বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণ বাবদ প্রতি ফ্লাট থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকা করে দেওয়া কথা। কিন্তু তারা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে নিচ্ছে। এ ছাড়া দোকানপাট থেকে মাসে ৩০ টাকার পরিবর্তে দৈনিক ১০ থেকে ৩০ টাকা হারে টাকা নিচ্ছে। যার মাসিক টাকার পরিমান দাঁড়ায় ৩০০ থেকে ৯০০ টাকা। কেউ বেশি টাকা দিতে না চাইলে তারা বর্জ্য নেয় না। এতে ডিএসসিসির ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

ছবি- বর্জ্য বাণিজ্যের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ (1)

বিষয়টি ডিএসসিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বক্তারা আরও বলেন, বর্জ্য সংগ্রহ নিয়ে এই বাণিজ্যের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছেন। এখন পুরো ওয়ার্ডের সব রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা স্তুপ হয়ে থাকে। সেখান থেকে দূর্গন্ধ ও রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছির উৎপত্তি হচ্ছে। এ ছাড়া বেশি টাকা দেওয়া লাগবে দেখে অনেকে নালা, ড্রেন,খাল ও রাস্তার পাশে ময়লা ফেলছেন। অবিলম্বে এই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করতে হবে।

মানববন্ধনে স্থানীয়দের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, গত বছরও এস এম এন্টার প্রাইজ এই ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পেয়েছিল। তখন তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ফলে তাকে তিনবার শোকজ করেছিল ডিএসসিসি। এবার সেই একই প্রতিষ্ঠানকে ডিএসসিসি আবারো দায়িত্ব দিয়েছে। এখন বাড়তি টাকা না দিলে ইজারাদার নিজে ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বাসাবাড়ি, দোকানপাটে গিয়ে মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর করছেন। এক কথায় এই ওয়ার্ডের সবাই ওই ঠিকাদারের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে।

ফারুক আহমেদ আরও বলেন, এসএম এন্টার প্রাইজের মালিক জনৈক শফিক। তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বলে পরিচয় দেন। তিনি ওয়ার্ডের সবাইকে বলেন, ‘আমি মেয়রের লোক, মেয়রের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) নাছিরুল হাসান সজীব একান্ত আমাদের কাছের লোক। বর্জ্য বিভাগের প্রধানকে তিন লাখ টাকা দিয়েছি। বিভিন্ন টেবিলে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে এই কাজ এনেছি। তাই মেয়রের কাছে অভিযোগ করে কোন লাভ হবে না। আমি টাকা বেশিই নিবই। এলাকায় থাকতে হলে দিতেই হবে’।

মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকার বিক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রকাশ করে। প্রায় ১০ মিনিট অবস্থানের পর নিজ থেকেই অবরোধ তুলে নেয়া হয়।প্রেসবিজ্ঞপ্তি।