Bnanews24.com
Home » বিএনপি’র হাতে হারিকেনই ধরিয়ে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ কভার বাংলাদেশ রাজনীতি সব খবর

বিএনপি’র হাতে হারিকেনই ধরিয়ে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিতে হবে

বিএনএ ডেস্ক: বিএনপি নেতারা হারিকেন নিয়ে আন্দোলন করছে। তো তাদের হাতে হারিকেনই ধরিয়ে দিতে হবে, তাদের সবার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেন। আর দেশের মানুষকে আমরা নিরাপত্তা দেব এবং দেশের মানুষ যাতে ভাল থাকে সেই ব্যবস্থা নেব। এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (১ আগস্ট) সকালে শোকবহ আগস্টের প্রথম দিনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। গণভবন থেকে রাজধানীর ধানমন্ডী ৩২ এর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর সংলগ্ন এলাকার অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের কথা ছিল প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার আমরা দিয়েছি। আজকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশ্বের প্রত্যেকটা দেশই-আমেরিকা হোক, ইংল্যান্ড হোক বা আমাদের প্রতিবেশী ভারত হোক সকলেই এদিকে নজর দিয়েছে। এ বিষয়টা সবার মাথায় রাখতে হবে। যখন উন্নত দেশগুলো হিমশিম খায় তখন আমরা আগাম ব্যবস্থা নিয়েছি যেন ভবিষ্যতে কোন বিপদে না পড়ি, সাশ্রয়ী হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, সাশ্রয়ী হবার অর্থ এই নয় যে এখান থেকে লুটপাট করে খেয়েছি। লুটপাটতো বিএনপিই করে গেছে। আমরা সেই লুটপাট বন্ধ করে উন্নতি করেছি নইলে কিভাবে মাত্র ৩ বা সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট থেকে আজকে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা আজকে অর্জন করেছি।

কৃষক লীগের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী
কৃষক লীগের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী

বলেন, ’৯৬ সালে ২১ বছর পর রাষ্টীয় ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ১৬শ’ মেগাওয়াট থেকে ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াটে উন্নীত করে আওয়ামী লীগ। পরে বিএনপি-জামায়াত জোটের আমলে সেটা কমে ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াটে দাড়ায়। বলেন, যারা এটা করেছে আসলে তারাই লুটপাট করেছে। আর যারা বাড়াতে পারে তারা লুটপাট করে না বরং প্রতিটি পয়সাকে কাজে লাগানোতেই এই উৎপাদনটা বৃদ্ধি হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে জনসংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটির ওপরে, কিন্তু হিসেবটা কারো কারো পছন্দ হচ্ছে না। এই হিসেবেটা যাদের পছন্দ নয় এবং তারা যদি জনসংখ্যা বাড়িয়েই যেতে চায় তাহলেও দেশের নাগরিক হিসেবে সরকার তাদের খাদ্য সংস্থান করবে। কিন্তু আমরা চাই প্রত্যেকটি পরিবার যেন একটি সুখী পরিবার হয় এবং সবাই যেন সুন্দর ভাবে বাঁচতে পারে, প্রতিটি ছেলে-মেয়ে সুন্দর ভাবে লেখাপড়া করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ এর ১ অক্টোবরের নির্বাচনে কি কোন মানুষ ভোট দিতে যেতে পেরেছে? সমস্ত বাংলাদেশে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এরা তো প্রকাশ্যে সিল মারতো। একেকটা বাসে করে যাবে বিএনপির সন্ত্রাসীরা একেকটা বুথে ঢুকবে, সিল মারবে, বাক্স ভরবে আর চলে আসবে। আর সেটা না পারলে সোজা ফলাফল ঘোষণা।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ’৭৫ এর বিয়োগান্তক বেদনাবিধূর অধ্যায় স্মরণ করে এর প্রেক্ষাপট সৃষ্টিতে সে সময়কার ব্যাপক বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের বিভিন্ন প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই তাঁকে হত্যার পথ বেছে নেয় ঘাতক চক্র। জাতির পিতা হত্যাকান্ড ইতিহাসের একটি কলংকজনক অধ্যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাঁদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য জাতির পিতা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন আপনজন হিসেবে বাবাকে যেজন্য তাঁরা কাছে পাননি সেই বাঙ্গালিদের হাতেই কেন জাতির পিতাকে জীবন দিতে হলো সে প্রশ্নের উত্তর আজো খুঁজে ফেরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে অপবাদ দিয়ে ১৫ আগস্ট ঘটানো হলো তাহলে দেশের কি পরিবর্তন তারা আনলো সেটা দেখার ইচ্ছ ছিল বলেই আমি কুড়িগ্রামের চিলমারি গিয়ে ৩ মাইল হেঁটে কাদা-পানি মাড়িয়ে, মেঠে পথ ভেঙ্গে সেই বাসন্তীর বাড়ি গিয়ে দেখেছি ছিন্ন কাপড়ে বাসন্তিকে, তার মা অসুস্থ, একটি বেড়ার চালার নিচে কোনমতে পড়ে আছে। তাকে ঘরও বলা যায় না। মাছি ভনভন করছে।তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তাঁর বাবার রক্ত নিয়েওতো বাসন্তীদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি তাহলে কেন হত্যা করা হলো?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এ জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর এদেশে খুনী ও যুদ্ধাপরাধীদেও যে রাজত্ব গড়ে উঠেছিল সেভাবে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

বিএনএ/এ আর