30.5 C
আবহাওয়া
৭:১৭ অপরাহ্ণ - জুন ২১, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » সিইউএফএল ছাড়ছেন না কামরুল, দৈনিক ভাগবাটোয়ারা ৬৫ হাজার টাকা!

সিইউএফএল ছাড়ছেন না কামরুল, দৈনিক ভাগবাটোয়ারা ৬৫ হাজার টাকা!


বিএনএ,চট্টগ্রাম :বাংলাদেশে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)র অফিস আদেশ জারি হয়েছে ১৩ দিন আগে। কিন্তু ত চেয়ার ছাড়ছেন না কর্মকর্তা! সরকারি আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর জুড়ে থাকার চেস্টার নেপথ্য রয়েছে দৈনিক ৫০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার সার ডিলার থেকে নেয়া চাদা! দেশের ৭টি সার কারখানা থাকলেও শুধু চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেড (সিইউএফএল) চলছে এমনই এক নজিরবিহীন চাদাবাজি!

গত ১০ জুন বিসিআইসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো: মাসুদ পারভেজ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সিইউএফএল-এর উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো: কামরুল ইসলাম খন্দকারকে চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী পেপার মিল লি: বা কেপিএমএল-এ বদলী করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও, ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন সিইউএফএল-এই! কিন্তু কেন?

অনুসন্ধান বলছে, এই বদলি ঠেকাতে পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন স্বয়ং সিইউএফএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান! কামরুল ইসলামকে ছাড়পত্র না দিয়ে কারখানায় রেখে দেওয়ার জন্য উচ্চ পর্যায়ে জোর তদবির চালাচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, কামরুলের স্থলে বদলী হয়ে আসা কেপিএমএল-এর মহাব্যবস্থাপক এস.এম আব্দুল্লাহ আল মামুনকে যাতে ছাড়পত্র না দেওয়া হয়, সেজন্য কেপিএমএল-এর এমডি শহীদুল্লাহর কাছে অনুরোধও করেছেন এই মিজানুর রহমান!

একজন উপ-ব্যবস্থাপককে ধরে রাখতে এমডি মিজানুর রহমানের এত দরদ কেন? কেন তিনি নিয়ম ভেঙে কামরুলকে আগলে রাখছেন? উত্তরটা লুকিয়ে আছে সিইউএফএল-এর ভেতরের এক বিশাল কালো বিড়ালে!

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমডি মিজানুর রহমানের যত দুর্নীতি আর অনিয়ম—তার প্রধান হোতা ও ক্যাশিয়ার হলেন এই কামরুল ইসলাম খন্দকার।

অভিযোগ রয়েছে, এই কামরুলের মাধ্যমেই সার ডিলারদের কাছ থেকে প্রতিটি ট্রাকে লোডিং বাবদ এক হাজার তিনশত টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়।

সিইউএফএল থেকে দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি ট্রাক লোড হয়। হিসাব করে দেখুন, প্রতিদিন শুধু ট্রাক লোডিং থেকেই অবৈধভাবে পকেটে ঢুকছে ৫০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা! প্রতিদিন গড়ে ৪০ ট্রাক করে হিসাব করলে মাসে এই অংক দাড়ায় ১৫ লাখ ৬০টাকা! আর এই বিপু ভাগের একটি অংশ যায় ওপর মহলে। এই বিপুল অঙ্কের অবৈধ আয়ের ভাগ বাটোয়ারা ঠিক রাখতেই কামরুল ইসলামকে ছাড়তে নারাজ এমডি মিজানুর রহমান।

সূত্র বলছে, সারাদেশে ৫৬০০ ডিলার নিরাপদে ব্যবসা করলেও, কেবল সিইউএফএল-এর অধীনে থাকা ৮টি জেলার মাত্র ১৪৪ জন ডিলারকে জিম্মি করেছে এমডির এই পকেট সিন্ডিকেট! এই ১৪৪ জন ডিলার যখনই সিইউএফএল কারখানা থেকে সারের বরাদ্দ নিতে আসেন, তখনই তাদের ওপর নেমে আসে এই ১৩০০ টাকার জুলুম! আর এই ১৪৪ জন ডিলার তখন বাধ্য হয়ে সেই চাঁদার ক্ষতিপূরণ তুলতে সারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের ওপর।

কেপিএমএল –এ বদলি হ্ওয়া কামরুল ইসলাম খন্দকারকে কেন ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না? এই প্রশ্নের জবাবে এমডি মিজানুর রহমান মিডিয়ার সামনে এক অদ্ভুত বাহানা তৈরি করেছেন। তিনি দাবি করেছেন— “কামরুল ইসলামকে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়নি। তার নাকি কিছু কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, সেগুলো শেষ হলেই তাকে ছাড়া হবে।” শুধু তাই নয়, ট্রাকে ট্রাকে যে ১৩০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে এমডি সাহেব এক্কেবারে ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানেন না! তিনি মন্তব্য করেছেন, এই চাঁদাবাজির কথা নাকি তিনি জানেনই না! তবে বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখবেন।

কিন্তু সিইউএফএল-এর ভেতরের সূত্রগুলো বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা! এই অসমাপ্ত কাজের অজুহাত স্রেফ একটি নাটক। পর্দার অন্তরালে চলছে অন্য খেলা। কেনাকাটা আর টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম বহাল রাখতেই কামরুল ইসলামকে নিজের পাশে ধরে রাখতে চান এমডি মিজানুর রহমান।
আর এই বদলি ঠেকাতে তারা কত দূর পর্যন্ত হাত বাড়িয়েছেন শুনবেন? সিইউএফএল-এর আরিফ নামে এক কর্মকর্তার মাধ্যমে সরাসরি তদবির পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মিডিয়া সেলে! সেখান এক প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এমডি মিজানুর রহমান একদিকে নিজের বদলি বিলম্বিত করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে তার দুর্নীতির খাস পার্টনার কামরুল ইসলামের বদলি আদেশ পুরোপুরি বাতিল করার জন্য দিনরাত দৌড়ঝাঁপ করছেন!

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সিইউএফএল-এর ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিংসহ বিভিন্ন কাজের ঠিকাদার নিয়োগের টেন্ডারে যখন ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়ে, তখন বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ কেবল কামরুল ইসলামকেই নয়, স্বয়ং এমডি মিজানুর রহমানকেও একযোগে বদলি করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল!

এই খবর টের পেয়েই এমডি মিজানুর রহমান দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে ছুটে যান বিসিআইসি সদর দপ্তরে। সেখানে গিয়ে নিজের চামড়া বাঁচাতে তিনি এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেন! টেন্ডার জালিয়াতির সমস্ত দায় নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে সরাসরি চাপিয়ে দেন তার পরম বন্ধু কামরুল ইসলাম খন্দকার এবং অন্যান্য অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর! অর্থাৎ, নিজের পিঠ বাঁচাতে নিজের লোকদেরই বলির পাঁঠা বানান এই দুর্নীতিবাজ এমডি!

শুধু তা-ই নয়, বিসিআইসি কর্তাদের কাছে অনুনয়-বিনয় করতে তিনি নিজের পারিবারিক অজুহাতও সামনে আনেন। তিনি জানান, তার দুই সন্তান চট্টগ্রামে পড়াশোনা করছে এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী স্বয়ং সিইউএফএল-এর পাশে ডিএপি কারখানায় চাকরি করেন! এই অবস্থায় তাকে বদলি করলে নাকি তার সংসার ভেসে যাবে! একই সাথে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদবির করায়, এই যাত্রায় কোনোমতে বেঁচে যান সিইউএফএল-এর অনিয়ম ও দুর্নীতির আসল বরপুত্র— ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান!

বিএনএ

Loading


শিরোনাম বিএনএ