বিএনএ, ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন তার বক্তব্যে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ঈদ উৎসবের মতো একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঠিক তখন গত ২৯শে আগষ্ট জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে গণঅধিকার পরিষদ সমাবশ ও মিছিল বের করে। এতে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সাথে তাদের সংঘাত হয়। একই দিনে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হামলায় গণঅধিকার পরিষদের প্রধান নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন।

নুরুল হক নুরকে লাঠি পেটা করার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এরপর থেকে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবি আরো প্রবল হয়। গণ অধিকার পরিষদের দাবির প্রতি সমর্থন জানায় জাতীয় নাগরিক পাটি, চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ। যার ফলশ্রুতিতে গণ অধিকার পরিষদ আরও শক্তি নিয়ে ৫ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টির অফিসে মিছিল নিয়ে এসে ভাঙ্চুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণ অধিকার পরিষদের হঠাৎ জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা, অগ্নিযোগ করার নেপথ্য কারিগর ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে অনেকটা বেকায়দায় ফেলতে গণ অধিকার পরিষদকে দিয়ে এসিড টেস্ট করিয়েছে। যার প্রমাণ মিলেছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে।
গত ৩১শে আগস্ট অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ তাহেরের নেতৃত্বে ৪ সদস্য ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য জাতীয় পার্টি ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর’। আর জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে মহাজোটের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিবে। সেই ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় আওয়ামী লীগের ভোটাররা মহাজোট প্রার্থীকে ভোট দিবে। সেই ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী দল হওয়ার স্বপ্ন শিকায় উঠবে। সেকারণে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ চায় জামায়াতে ইসলামী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের এই রাজনৈতিক মহা পরিকল্পনা ও নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে পারলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা হয়ে যাবে । তারই ধারাবাহিকতায় ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাড়াতে পারে জামায়াতে ইসলামীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করা দলগুলো। এতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ আরও দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে এবং জামায়াতে ইসলামীর শক্ত ভিত তৈরি হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড এবং যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণার নেপথ্য ভয়াবহ ‘নীল নকশা’ বিএনপি’র কাছে পরিস্কার হয়ে যায়। ফলে দলটি কোন রাজনৈতিক দলকে সরাসরি নিষিদ্ধ না চেয়ে বিচারের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।
গত ১৬ই সেপ্টেম্বর গুলশানের নিজ বাসায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড বা কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা বিএনপি সমর্থন করে না। যারা জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা চাচ্ছে, তাদের বক্তব্য যদি সত্য হয় তাহলে তারা সেই অভিযোগটা আদালতে উত্থাপন করতে পারে।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হয় তাহলে দেশে একটা সাংবিধানিক শূন্যতা বিরাজ করতে পারে। সেই শূন্যতার মধ্যে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হবে। ঐক্য বিনষ্ট হলে সেটির সূত্র ধরে কথিত ফ্যাসিবাদ সুযোগ নেবে এবং তাদের হাত ধরে আঞ্চলিক শক্তিগুলো এখানে জড়িত হয়ে যেতে পারে পরস্পরের বিরুদ্ধে। তাছাড়া একটি বৈশ্বিক শক্তিও সেই সুযোগটা নিতে পারে। স্থিতিশীল রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা না করতে পারলে এই আশঙ্কাগুলো একদম উড়িয়ে দেওয়া যায় না, বলেন সালাউদ্দিন আহমেদ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেছেন, রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে বা কিছু আসন বেশি পাওয়ার লোভে জাতীয় স্বার্থের বহিরে গিয়ে কেউ যদি সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় সেটি ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনবে।
বিএনএ/ শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

