27 C
আবহাওয়া
১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ - মে ৭, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমী ও আহলে সুন্নাত মাদ্রাসা থাকবে না!

জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমী ও আহলে সুন্নাত মাদ্রাসা থাকবে না!


বিএনএ, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে মাথায় রেখে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট এক বাক্সে রাখতে গত এক বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কিছুটা সফলও হয়েছে। সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব- (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রসংস্কার, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, জুলাই আন্দোলনের খুনিদের দৃশ্যমান বিচার এবং জাতীয় পার্টি, ১৪ দলীয় জোটভূক্ত দলগুলোর নিবন্ধন বাতিলে দাবিতে  চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিশের সঙ্গে  রাজনৈতিক মাঠে দেখা যাবে জামায়াত ইসলামীকে। তারা নিজ নিজ দল থেকে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচী ঘোষণা করেছে।

ইসলামী ছাত্র শিবির ঢাকা ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে জয়ী হওয়ার পর  জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে নিয়ে জনগণের কাছে বিএনপিকে চাঁদাবাজ, দখলদারের দল বলে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে জামায়াত ইসলামী।

কিন্তু গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ডাকবাংলো মাঠে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে  জামায়াত ইসলামী সর্ম্পকে  হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির প্রবীণ ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ইসলামের দুশমন। আর, জামায়াত ইসলামী  দেওবন্দী কওমী মাদরাসার দুশমন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির বলেন, “আল্লাহ না করুন, আমি কসম করে আজকে বলে দিয়ে যাচ্ছি, এই ফেরাউনের জাত যদি কোনোভাবে কখনো সরকারে আসতে পারে, তাহলে দেওবন্দী কওমী ধারা এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ধারার  মাদরাসার কোনো অস্তিত্ব কোথাও রাখবে না। আমি আজকে সাফ এই কথাটা বলছি। আপনারাই তা দেখবেন। আমি কসম করে বলতে পারি। আল্লাহ পানাহ্ দিন, আল্লাহ আমাদেরকে পানাহ দিন’’ বলেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী  বলেন “ আমরা জামায়াতে ইসলামকে ইসলামি দল মনে করি না। জামায়াতে ইসলাম মদিনার ইসলাম চায় না, তারা মওদুদীর ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায়।  জামায়াতে ইসলাম সকল ভ্রান্ত ফেরকা সমূহের মধ্যে নিকৃষ্ট দল। এমনকি তারা কাদিয়ানী সম্প্রদায় থেকেও নিকৃষ্ট। কেননা জামায়াতে ইসলামের দ্বারা ইসলামের যে ক্ষতি হয়েছে, কাদিয়ানীদের দ্বারাও সে ক্ষতি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়েছে ইসলাম হেফাজতের জন্য। আমাদেরকে ভ্রান্ত আক্বিদার দলসমূহকে মোকাবেলা করতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে।

এ দিকে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অসত্য ও মনগড়া। তাঁর এ বক্তব্যের মধ্যে সত্যের লেশমাত্রও নেই। তাঁর এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর মতো একজন বরেণ্য আলেমের মুখে এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য শোভা পায় না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশে অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও ইসলামিক প্রেসার গ্রুপ হিসাবে বাংলাদেশের গতি প্রকৃতির বদলের একটি বড় ফ্যাক্টর। ২০২৪ জুলাইয়ে কোটা বিরোধী এবং শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে এক দফার আন্দোলনে কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের বড় ধরনের ভূমিকা ছিল। ঢাকার সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি ও শাহবাগ এলাকাসহ সারাদেশে মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষকরা টানা সড়ক অবরোধ করে আওয়ামী লীগের পতন তরান্বিত করে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াত ইসলামীকে আক্রমণ করে বিভিন্ন সভাসমাবেশে যেভাবে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন তা অব্যাহত থাকলে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে তর তর করে বেড়ে উঠা বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী চরম ইমেজ সংকটে পড়বে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আগামী বছরের সম্ভাব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সৈয়দ সাকিব

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ