33 C
আবহাওয়া
৫:০৪ অপরাহ্ণ - মে ১৫, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » আদানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আদানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র


বিএনএ, বিশ্বডেস্ক : বাইডেন প্রশাসনের শেষ কয়েক সপ্তাহে ভারতের শীর্ষ ধনী গৌতম আদানির বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এনেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। প্রসিকিউটররা (কৌঁসুলি) তখন বলেছিলেন, মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে একটি ‘বিস্তৃত’ ঘুষের স্কিম চালিয়েছে আদানি গ্রুপ। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। মামলার বিষয়ে অবগত বেশ কয়েকজনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আদানির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

আদানি তার আইনি লড়াইয়ের জন্য নতুন একটি আইনজীবী দল নিয়োগ করার পরই এই নাটকীয় মোড় আসে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন রবার্ট জে জিউফ্রা জুনিয়র, যিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীদের একজন এবং বিখ্যাত ল ফার্ম ‘সালিভান অ্যান্ড ক্রমওয়েল’-এর কো-চেয়ারম্যান।

গত মাসে ওয়াশিংটনে বিচার বিভাগের সদর দপ্তরে আদানির পক্ষে জিউফ্রার নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বৈঠকে জিউফ্রা প্রায় ১০০টি স্লাইড উপস্থাপন করে দেখান যে আদানির বিরুদ্ধে মামলার কোনো প্রাথমিক প্রমাণ প্রসিকিউটরদের হাতে নেই।

এমনকি এই মামলা চালানোর আইনি এখতিয়ারও তাদের নেই।
তবে একটি স্লাইডে এমন এক অদ্ভুত প্রস্তাব ছিল, যা সবার নজর কাড়ে। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রসিকিউটররা যদি আদানির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তুলে নেন, তবে আদানি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করবেন।

একই বৈঠকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এবং ট্রেজারি বিভাগের আলাদা দুটি মামলারও সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন জিউফ্রা।

গত বৃহস্পতিবার এসইসি আদানির সঙ্গে তাদের একটি মীমাংসার কথা ঘোষণা করেছে। ট্রেজারি বিভাগও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের মীমাংসার কথা জানাতে পারে।

প্রসিকিউটররা পরে জিউফ্রাকে জানিয়েছিলেন যে ফৌজদারি মামলার সমাধানের ক্ষেত্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাবটি কোনো কাজে আসবে না। তবে সূত্রগুলো বলছে, বিচার বিভাগের অন্তত একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখেছিলেন।

১০ বিলিয়ন ডলারের এই প্রস্তাবটিকে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারতেন।

এটি মূলত ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিচারব্যবস্থার প্রতি ‘লেনদেনভিত্তিক’ দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রকটভাবে তুলে ধরে।
গত এক বছরে ট্রাম্প তার অনেক দাতা এবং ব্যবসায়িক অংশীদারকে বাঁচিয়েছেন। বিচার বিভাগ তার রাজনৈতিক মিত্রদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও তদন্ত বাতিল করেছে। প্রসিকিউটরিয়াল নিয়মনীতির এমন লঙ্ঘন এই ধারণা তৈরি করেছে যে ট্রাম্পের জমানায় ‘স্বাধীনতাও বিক্রির জন্য উন্মুক্ত’। আর এটিই অভিযুক্তদের এমন সব অর্থনৈতিক সমাধানের প্রস্তাব দিতে উৎসাহিত করছে, যা একসময় কল্পনাতীত ছিল।

ফৌজদারি মামলা বাতিল হলেও আদানিকে আর্থিক জরিমানা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার এসইসির মীমাংসায় আদানি গ্রুপকে ১৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে আদানিকে দিতে হবে ৬ মিলিয়ন ডলার এবং বাকিটা দেবেন তার সহ-অভিযুক্ত।

অন্যদিকে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের গ্যাস পরিবহনের অভিযোগে ট্রেজারি বিভাগ আদানির কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আলাদা তদন্ত করছিল। তারা এখন প্রায় ২৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ বিষয়ে আদানির মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

বিএনএনিউজ/এইচ.এম।

Loading


শিরোনাম বিএনএ