37.1 C
আবহাওয়া
৪:১৬ অপরাহ্ণ - জুন ১১, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » পুলিশ হত্যার দম্ভোক্তি, প্রাণ বাঁচাতে সেই পুলিশের পায়ে মাহাদী!

পুলিশ হত্যার দম্ভোক্তি, প্রাণ বাঁচাতে সেই পুলিশের পায়ে মাহাদী!


বিএনএ, ডেস্ক : গত ২রা জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসির রুমে বসে এমন দম্ভোক্তি করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্যসচিব মাহাদী হাসান। বুধবার নিজের প্রাণ বাঁচাতে সেই পুলিশের কোলেই আশ্রয় নিতে হলো তাকে! কথিত জুলাই যোদ্ধাদের পালানো কী শুরু হয়ে গেছে? এমন মন্তব্য করেছেন অনেকে।

এই মাহাদী হাসানকে নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। গত ২রা জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়াতে গিয়ে ওসির সামনেই তিনি দিয়েছিলেন এক ভয়ঙ্কর স্বীকারোক্তি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বানিয়াচং থানায় আগুন দেওয়া এবং পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অহংকার করে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের হস্তক্ষেপে ২৪ ঘন্টার মাথায় গত ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান মাহাদী।

পরর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মাহাদী হাসান ফিনল্যান্ডের ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য দিল্লির ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিধি বাম সেখানকার লোকজন তাকে চিনে ফেলে। দিল্লি সফরের সময় মাহাদীর সাথে তুহিন আক্তার নামে এক নারীকে দেখা যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর ক্যামেরার সামনে ওই নারী নিজেই এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেন।

তিনি জানান, মাহাদীর চেয়ে তিনি বয়সে প্রায় ৮ বছরের বড়। ইউরোপের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ৬ মাস আগে মাহাদীর সাথে তার একটি ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ সম্পন্ন হয়েছিল। অর্থাৎ, ইউরোপে যাওয়ার জন্য এক নারীকে স্ত্রী সাজানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা ওই নারীর বক্তব্যেই প্রমাণিত হয়।

১৭ই ফেব্রুয়ারি দিল্লির ভিএফএস সেন্টারে মাহাদীর এই ভুয়া বিয়ের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর নেট দুনিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। এর ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ মাহাদীকে আটকে দেয়। সেখানে তাকে প্রায় ৪০ মিনিট কড়া হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে একপ্রকার হেনস্তা ও ‘ডিপোর্ট’ করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বাংলাদেশে ফেরত আসার পর মাহাদী হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে দাবি করেন, ভারতে তার সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাকে বিনা কারণে হেনস্তা করা হয়েছে। তবে তার সাথে থাকা ‘চুক্তিভিত্তিক স্ত্রী’ এবং ইউরোপে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের মুখে পড়তে হয় তাকে।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ-ই তোলপাড়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহাদী হাসান নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন। তবে কোনো আন্দোলনের ডাক দিতে নয়, বরং নিজের জীবন বাঁচানোর আকুতি নিয়ে। লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কয়েকজন তাকে ধাওয়া করেছে এবং তার ওপর হামলা করতে চাইছে।
প্রাণ বাঁচাতে অটো রিকসা নিয়ে তিনি সোজা গিয়ে ঢোকেন হবিগঞ্জ সদর থানায়। হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছিলেন মাহাদী। আর এই কারণেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে দলের ধাওয়া খেয়েই মাহাদী থানায় আশ্রয় নেন।
নিয়তির কি পরিহাস দেখুন! মাত্র ৫ মাস আগে যে পুলিশের ওপর হামলা আর হত্যার গৌরবে বুক ফুলিয়ে দম্ভোক্তি করেছিলেন, ছাত্রদলের হাত থেকে বাঁচতে সেই খাকি পোশাকের পুলিশের কাছেই তাকে হাত পাততে হলো।

পুলিশ হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগে জামিনে থাকা একজন ছাত্র নেতার এভাবে ভুয়া স্ত্রী সাজিয়ে গোপনে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা তার রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থানকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একদিকে দেশ ছাড়ার এই ব্যর্থ চেষ্টা, আর অন্যদিকে ছাত্রদলের ধাওয়া খেয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে সেই পুলিশেরই দ্বারস্থ হওয়া—সব মিলিয়ে মাহাদী হাসান এখন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে এক চরম পরিহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছেন।

রাজনীতি আর ক্ষমতার দাপট যে কত দ্রুত বদলে যেতে পারে, মাহাদী হাসানের এই ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। যে পুলিশকে তিনি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন, আজ সেই পুলিশই তার একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়।

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ