20 C
আবহাওয়া
৯:০৭ অপরাহ্ণ - জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ফিফথ কলামিস্ট’ ষড়যন্ত্র! জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায় তুরস্ক!

ফিফথ কলামিস্ট’ ষড়যন্ত্র! জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায় তুরস্ক!


বিএনএ ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজনীতি রাজনৈতিক দলগুলো একটি অস্থির সময় পর করছে। ক্ষণে ক্ষণে রূপ পাল্টাচ্ছে। সেই সঙ্গে  নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এসে নির্বাচনী আবহে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রভাব, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা—সব মিলিয়ে রাজনীতি এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি।

YouTube player

সম্প্রতি চ্যানেল ২৪-এর ‘মুক্তমঞ্চ’ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী এসব বিষয় নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আর কেবল দেশের জনগণের হাতে নেই, বরং তা বহুলাংশে বিদেশি শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে মনে করেন ড. দিলারা চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় মিডিয়ায় একটি খবর ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে যে, তুরস্ক বাংলাদেশে

ড. দিলারা বলেন, “ভারতীয় মিডিয়া খবর ছড়িয়েছে যে তুরস্ক জামায়াতকে এখানে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করছে’’।

তুরস্ক কেন জামায়াত বা বর্তমান সরকারের একাংশের প্রতি আগ্রহী হতে পারে? এর নেপথ্যে রয়েছে সামরিক ও প্রযুক্তিগত স্বার্থ।  ড. দিলারা চৌধুরীর মতে, তুরস্ক বাংলাদেশের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) বিক্রি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ সামরিকভাবে স্বাবলম্বী হোক বা তুরস্কের ঘনিষ্ঠ হোক—এটি প্রতিবেশী দেশ ভারত বা পরাশক্তি আমেরিকা সহজভাবে নিচ্ছে না। ফলে, বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে এক ধরণের আন্তর্জাতিক স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, যেখানে তুরস্কের ‘সফট কর্নার’ জামায়াতের দিকে রয়েছে বলে ভারতীয় ভাষ্যকাররা দাবি করছেন।

ড. দিলারার আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে ‘ফিফথ কলামিস্ট’ (Fifth Columnist) শব্দটি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় ফিফথ কলামিস্ট হলো তারা, যারা এদেশের নাগরিক এবং এদেশের পাসপোর্টধারী, কিন্তু কাজ করে বিদেশি শক্তির স্বার্থে—অর্থাৎ নিজের দেশের বিরুদ্ধে।

ড. দিলারা চৌধুরী ক্ষোভের সাথে জানান, বাংলাদেশে এই ফিফথ কলামিস্টদের অভাব নেই। তারা প্রশাসন, রাজনীতি এবং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে আছে। এমনকি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর কারো কারো বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগের গুঞ্জন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই গোষ্ঠীটি বিদেশি প্রভুদের ইশারায় বাংলাদেশের রাজনীতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার কথা থাকলেও, ড. দিলারা চৌধুরী মনে করেন তা এখন প্রায় অসম্ভব। তার লন্ডনে থাকা  চিকিৎসক  বোনের  বরাতে তিনি জানান, ভেন্টিলেশনে থাকা এবং হার্ট ও লাং ইনফেকশন হওয়া একজন রোগীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশে নেওয়া ডাক্তারি শাস্ত্রমতে প্রায় অসম্ভব।

বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন দলীয় প্রধান নন, তিনি এখন একটি ‘ন্যাশনাল ফিগার’ বা জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছেন। ড. দিলারা তাকে গ্রিক মিথোলজির ‘ট্রাজিক ফিগার’-এর সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যদি নিষ্ক্রিয় হয়ে যান বা তার কোনো অঘটন ঘটে, তবে বাংলাদেশের রাজনীতির ভরকেন্দ্র নড়ে যাবে। বিশেষ করে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী উল্লেখ করেন,  বিএনপি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে ‘অনিবার্য কারণে’ নির্বাচন পেছানোর সুযোগ রাখার কথা বলেছে। এই ‘অনিবার্য কারণ’ বলতে মূলত খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি বা মৃত্যুজনিত সংকটকেই ইঙ্গিত করা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। খালেদা জিয়াবিহীন বিএনপি নির্বাচনে গেলে দলটির ঐক্য ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

মায়ের মৃত্যুশয্যাতেও কেন তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না—এই প্রশ্ন এখন জনমনে। ড. দিলারা চৌধুরী এর পেছনে কয়েকটি যৌক্তিক ও কৌশলগত কারণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, তারেক জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র বা তুরস্কের গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টতার যে গুজব ভারতীয় মিডিয়া ছড়াচ্ছে, তা তার ফিরে আসার পথকে আরও দুর্গম করে তুলেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা এবং তারেক রহমানের দেশে না ফেরার অনিশ্চয়তা—এই দুই মিলিয়ে বিএনপি এখন গভীর অস্তিত্ব সংকটে। ড. দিলারা চৌধুরীর ভাষায় বিএনপি এখন “মাইনকা চিপায়”  পড়েছে।

খালেদা জিয়ার মত সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতার অবর্তমানে তারেক রহমান দলের হাল ধরলেও, মাঠ পর্যায়ে তার নিয়ন্ত্রণ এবং ‘বটগাছের ছায়া’ থেকে বেরিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

একদিকে নির্বাচন পেছানোর ইঙ্গিত, অন্যদিকে তড়িঘড়ি করে প্রার্থী ঘোষণা—বিএনপির এই দ্বিমুখী আচরণ তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করছে। বগুড়ার মত দুর্গেও এবার বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, যা দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এগোচ্ছে। তাদের ভোট ব্যাংক বাড়ছে এবং নেতিবাচক ভোটের (অর্থ্যাৎ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিমুখ ভোটার) সুবিধা তারা পেতে পারে। তুরস্কের মত দেশের সমর্থন এবং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জোরে জামায়াত ভবিষ্যতে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেন দেশের প্রবীন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।

ড. দিলারা চৌধুরীর বিশ্লেষণ , আগামী নির্বাচন ও ক্ষমতার পালাবদল কেবল ভোটের সংখ্যার ওপর নির্ভর করছে না। এর সাথে জড়িয়ে আছে খালেদা জিয়ার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ, তারেক রহমানের ফেরার আইনি ও নিরাপত্তা জটিলতা এবং তুরস্ক-ভারত-আমেরিকার ত্রিমুখী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ।

ড. দিলারা চৌধুরীর মতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জটিল সমীকরণে বিএনপি যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় এবং সংস্কারের পথে না হাঁটে, তবে দলটিকে বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে, বিদেশি শক্তির আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে জামায়াতে ইসলামী রাজনীতির ‘কি-ফ্যাক্টর’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

সৈয়দ সাকিব

 

 

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ