26 C
আবহাওয়া
৫:৪১ অপরাহ্ণ - সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » আসিফ নজরুলের ছাগল শিকারিদের টার্গেট এবার রুমিন ফারহানার হাঁস!

আসিফ নজরুলের ছাগল শিকারিদের টার্গেট এবার রুমিন ফারহানার হাঁস!


বিএনএ, ডেস্ক : যে মুখে সাবাড় হয় সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ছাগল… সেই মুখেই এবার স্বতন্ত্র এমপির হাঁস চিবিয়ে খাওয়ার হুঙ্কার! হ্যাঁ, বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতি এখন রূপ নিয়েছে এক চরম বেপরোয়া আর সিনেমাটিক ক্রাইম থ্রিলারে!”

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর ক্ষমতার অলিন্দে যারা ছিলেন, তাদের কয়েকজন এক রাতে পাঁচিল টপকে আইন উপদেষ্টার ছাগল জবাই করে উৎসব করেছিলেন… তারাই এবার প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দিচ্ছেন ‘নৌকা খুঁজলে হাঁস আস্ত রাখব না, খেয়ে ফেলব!’ আপাতদৃষ্টিতে এটি ছাগল-হাঁসের গল্প মনে হলেও, এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং রক্তক্ষয়ী এক রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ! কী ঘটেছিল মিন্টু রোডের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ছাগল নিয়ে? আর কেনই বা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার নির্বাচনী ‘হাঁস’ এখন ড. ইউনূসের পৃষ্টপোষকতায় গড়ে উঠা এনসিপির’ প্রধান টার্গেট?

YouTube player

ঘটনার শুরুটা হয়েছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের এক রুদ্ধশ্বাস রাতে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৎকালীন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মিন্টু রোডস্থ সরকারি বাংলোয় ঘটে এক নজিরবিহীন ও অদ্ভুত ঘটনা। অভিযোগ ওঠে, জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ দলবল নিয়ে ড. আসিফ নজরুলের বাংলোর দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে থাকা উপদেষ্টার ছোট মেয়ের পোষা দুটি ছাগল তারা ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে বাংলোর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়—দেয়াল টপকানোর পর নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং রিফাত রশিদ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে এক ধরণের ব্যঙ্গাত্মক ভেংচি কাটছেন, যা এই চরম বেপরোয়া কাণ্ডের একটি বড় প্রমাণ!

বাংলোর বাইরে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা একটি রিসিভিং টিমের হাতে ছাগলগুলো তুলে দেওয়া হয়। কারওয়ান বাজার থেকে কসাই ডেকে এনে একটি ছাগলকে সঙ্গে সঙ্গেই জবাই করা হয় এবং পাশে আসিফ মাহমুদের ফ্ল্যাটে এনসিপি ও ছাত্রনেতাদের মাংসের পার্টি জমে ওঠে।

তবে সবচেয়ে নাটকীয় টুইস্ট ছিল অন্য ছাগলটিকে নিয়ে! সেই ছাগলটিকে তারা জীবিত অবস্থায় ফেরত পাঠান, তবে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল একটি রাজনৈতিক প্ল্যাকার্ড; যাতে লেখা ছিল—”চুপ্পুর পদত্যাগ চাই।”

এই ঘটনায় উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে উপদেষ্টা পরিষদে নালিশ জানালে, পরিস্থিতি শান্ত করতে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বাজার থেকে নতুন ছাগল কিনে ড. আসিফ নজরুলের বাংলোয় পাঠালেও তা গ্রহণ করেননি আসিফ নজরুল ।

কিন্তু এই ছাগল কাণ্ডের পর রাজনীতির জল অনেকদূর গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজপথে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সুনির্দিষ্ট ন্যারেটিভ ডালপালা মেলতে শুরু করেছে—তাহলো “আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরে আসবে!” ৫ই আগস্টের পর যে দলটিকে সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পর্দার আড়াল থেকে সেই দলটিকে আবারও পুনর্বাসনের এক প্রচ্ছন্ন চেষ্টা চলছে। শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, তাকে যদি মেরেও ফেলা হয়, তিনি ফিরবেন এবং তাকে দেয়া মৃত্যুদন্ড আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবেলা করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ, এমনকি সংসদের ভেতর ও বাইরের কিছু প্রভাবশালী স্বাধীন কণ্ঠস্বরও আকার-ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য আওয়ামী লীগকে মাইনাস করা সম্ভব নয়। আর ঠিক এই “ফিরে আসার বয়ান”-এর প্রেক্ষাপটেই জন্ম নিয়েছে হাঁসকান্ড!

হ্যাঁ! ছাগল খাওয়া সেই মুখগুলো এবার মাঠে নেমেছে ‘হাঁস খাওয়ার’ নতুন বয়ান নিয়ে। তাদের টার্গেট ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত প্রভাবশালী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা! রোববার ৩০শে আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির এক জনসভায় দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার সেই “আওয়ামী লীগের ফিরে আসার বয়ান” গুঁড়িয়ে দিতে একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে ‘নৌকাডুবি হয়েছে। এখন রুমিন ফারহানার ‘হাঁস’ যদি ডুব দিয়ে সেই নিষিদ্ধ নৌকা খুঁজতে যায়, কিংবা আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার পক্ষে কোনো রকম ওকালতি করে—তবে এদেশের জনগণ সেই হাঁস আস্ত রাখবে না, আস্ত চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে!

আপাতদৃষ্টিতে এটিকে গ্রামীণ রূপক বা সস্তা ট্রোল মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর ও কৌশলগত রাজনৈতিক চাল।
প্রথমত, আওয়ামী লীগের ছায়া পুনর্বাসন রুখে দেওয়া! বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় পর্দার আড়াল থেকে একটি বয়ান বা ন্যারেটিভ ছড়ানোর চেষ্টা চলছে যে, আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরে আসবে। এনসিপি এই হুমকির মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিলেন—সংসদের ভেতরে বা বাইরে রুমিন ফারহানার মতো কোনো স্বতন্ত্র হেভিওয়েট এমপি যদি দেশের স্থিতিশীলতার নামে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পক্ষে বা তাদের সাথে কোনো ব্যাকডোর সমঝোতার ওকালতি করার চেষ্টা করেন, তবে এনসিপি রুখে দিবে।

দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের যে কোনো প্রচ্ছন্ন বয়ানকে শুরুতেই রাজপথে পিষে ফেলার এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এটি। রুমিন ফারহানার মতো স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলোকে চাপে রাখা, যাতে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো রাজনৈতিক জাস্টিফিকেশন তৈরি করতে না পারেন।

তৃতীয়ত, প্রথাগত রাজনীতির ভদ্রতার খোলস ভেঙে ফেলা! ড. আসিফ নজরুলের বাংলোর ছাগল সাবাড় করা থেকে শুরু করে রুমিন ফারহানার হাঁস খাওয়ার হুঙ্কার—এগুলো প্রমাণ করে নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি আর ড্রয়িংরুমের গোলটেবিল বৈঠকে বা স্রেফ প্রেস ব্রিফিংয়ের ভদ্রতায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি সম্পূর্ণ বেপরোয়া, সোজা-সাপ্টা এবং মাঠপর্যায়ের আক্রমণাত্মক মেজাজের। তারা বোঝাতে চাচ্ছেন, যেকোনো ধরণের ‘তলে তলে আপস’ তারা অত্যন্ত নগ্নভাবে মীমাংসা করবেন।

আসিফ নজরুলের সেই বাংলোর ছাগল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার হাঁস—বাংলাদেশের রাজনীতি এখন রূপ নিয়েছে রূপক আর প্রচ্ছন্ন হুমকির এক নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে। কিন্তু প্রশ্ন রয়েই যায়—আওয়ামী লীগের ফিরে আসার এই বয়ান কি আসলেই সত্য, নাকি নতুন বিপ্লবীরা “হাঁস-ছাগলের রাজনীতি”র আড়ালে শুধুই নিজেদের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার এক বেপরোয়া চাল খেলছে?

 

সৈয়দ সাকিব

Loading


শিরোনাম বিএনএ