25.8 C
আবহাওয়া
১১:২৩ অপরাহ্ণ - এপ্রিল ৩০, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » জাতির সঙ্গে এনসিপি’র ‘প্রতারণা’!

জাতির সঙ্গে এনসিপি’র ‘প্রতারণা’!


বিএনএ, ঢাকা: খুব বেশি দিনের কথা নয়, গত ২২ জুন এইভাবে গর্জে উঠে ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রচ্ছন্ন পৃষ্টপোষকতায় গড়ে উঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

ইংরেজীতে একটি কথা আছে “Barking dogs seldom bite” যারা বাংলা অর্থ ঘেউ ঘেউ করা কুকুরেরা খুব কমই কামড়ায়! অন্য কথায় যত গর্জে তত বর্ষে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রচ্ছন্ন পৃষ্টপোষকতায় গড়ে উঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির বেলায় এক প্রবাদ বাক্য গুলো শতভাগ সত্য।

গত বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেশ ঝাঁকজমকভাবে আত্মপ্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপি। দেশবাসির প্রত্যাশা ছিল জুলাই বিপ্লবের চেতনায় একটি নতুন, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এনসিপি তৃতীয় শক্তি হিসাবে রাজনৈতিক ব্যাঘ্র হবে। কিন্তু দলের কান্ডারিদের স্বার্থগত মতবিরোধ, দূর্নীতি, তদবির ও কমিশন বানিজ্যের জড়িত হওয়ার মধ্য দিয়ে বছর না ঘুরতেই দলটি বাঘের আদলে বিড়ালে পরিণত হয়েছে।

অথচ ক’দিন আগেও জাতিকে নতুন বন্দোবস্তের নামের শিশুকে ঘুমপাড়ানী মাসী-পিসির গল্প শুনিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে টিকে থাকতে বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সখ্যতা গড়তে ব্যর্থ হয়ে এখন সওয়ার হয়েছে জামায়াত ইসলামীর ঘাড়ে । আর এর মধ্য দিয়ে গণ বিপ্লবের ফসল এই দলটি জনসমর্থন হারিয়ে ইসলামী দল গুলোর লেজুড়ে পরিণত হয়েছে ।

কিছুদিন আগেও একক নির্বাচন করে নিম্ম কক্ষ ও উচ্চকক্ষে মিলিয়ে ৪ শত আসনের মধ্যে ৩ শত আসন নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখা দলটি বেলুনের মতো চুপসে গেছে। সেই সঙ্গে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নবাজ দলটির নেতা এখন কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়েপড়েছে।

জামায়াতে ইসলামীসহ ৮– দলীয় জোটের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর প্রতিবাদে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও তার স্বামী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। জারা ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন।

এর আগে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) সংসদীয় আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন।

পদত্যাগ করতে পারেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব নুসরাত তাবাসসুম ও যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতুসহ অন্তত: অর্ধশতাধিক নেতা। এদের মধ্যে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য শনিবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির আপত্তি ও গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।

চিঠিতে নেতারা তাঁদের আপত্তির ভিত্তি হিসেবে এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–সম্পর্কিত ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার কথা তুলে ধরেন।

নেতারা বলেন, এর আগে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একাধিকবার ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ১২৫ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এখন অল্প কিছু আসনের জন্য কোনো জোটে যাওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে তাঁরা মনে করছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিগত এক বছর ধরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্যান্য দলের ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটাজ, এনসিপির ওপর বিভিন্ন অপকর্মের দায় চাপানোর অপচেষ্টা, ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ -বাগছাস এবং পরবর্তীতে ছাত্রশক্তি বিষয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার, তাদের অনলাইন ফোর্সের মাধ্যমে এনসিপি ও আমাদের ছাত্রসংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্র হননের চেষ্টা এবং সর্বোপরি, ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠেছে।’

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রশ্নে তাদের অবস্থান—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও আমাদের দলের মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।’

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে বলে চিঠিতে নেতারা উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তাঁরা মনে করেন।

চিঠিতে এনসিপির নেতারা আরও বলেছেন, ‘আমরা অত্যন্ত আশঙ্কার সাথে লক্ষ করেছি, যখনই এই জোটের সম্ভাবনার খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে সামনে এসেছে, এর পরপরই আমাদের সমর্থনে থাকা কর্মী-সংগঠকসহ একটা বড়সংখ্যক মানুষ আমাদের দলের প্রতি তাঁদের সমর্থন সরিয়ে নিতে উদ্যত হয়েছেন। যদি আমাদের সমর্থন করা মধ্যপন্থী এবং নতুন রাজনীতি প্রত্যাশা করা মানুষেরা সমর্থন সরিয়ে নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে পার্টির মধ্যপন্থী সমর্থক ভিত্তি হারাব।’

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারিত হওয়া উচিত, কৌশলগত কারণে নীতিগত অবস্থান বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এভাবে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অস্থিরতা ও পদত্যাগের ঘটনা এনসিপি চরম সংকট পড়েছে। দেখা দিয়েছে অন্তদলীয় কোন্দল। যার জেরে দলটি জাসদ, মুসলিম লীগ কিংবা ফ্রিডম পার্টির পরিণতি হতে পারে। সেই সঙ্গে গণ আন্দোলনের মাধ্যমে জন্ম নেয়া জুলাই যোদ্ধাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি জামায়াতে ইসলামীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেলে অবাক হবার কিছুই থাকবে না।

সৈয়দ সাকিব

Loading


শিরোনাম বিএনএ