Bnanews24.com
Home » লোহাগাড়ায় এক সঙ্গে দুই সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিযোগ
বৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃহত্তর চট্টগ্রাম লোহাগাড়া সব খবর

লোহাগাড়ায় এক সঙ্গে দুই সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিযোগ

লোহাগাড়ায় এক সঙ্গে দুই সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিযোগ

বিএনএ, লোহাগাড়া(চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মাওলানা শহীদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের শাহ আতাউল্লাহ আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় (ননএমপিওভূক্ত) দীর্ঘদিন ধরে চাকরী করে আসছিলেন মাওলানা শহীদুল ইসলাম। মাদ্রাসার পাশে ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে শাহ আতাউল্লাহ মাজার কেন্দ্র নামে সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রেও তিনি শিক্ষকতা করছেন। পরবর্তীতে ২০২০সালের জুলাই মাসে এমপিও ভুক্ত ঘোষিত হওয়ার পর পটিয়া রহমানিয়া মুহাম্মদিয়া কাদেরীয়া খরণখাইনে এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। দায়িত্ব পাওয়ার পর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে মসজিদ ভিত্তিক সহজ কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রে তার আপন ভাগিনা রবিউল হোসেনকে  দায়িত্ব দিলেও ওই কেন্দ্রে তিনি ক্লাস নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সরকারী বিধিমালা অনুযায়ী দু্ইস্থানে সরকারী চাকরী করার সুযোগ নেই। মাওলানা শহীদুল ইসলাম রহমানিয়া মুহাম্মদিয়া কাদেরীয়া খরণখাইনে এবতেদায়ীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।অন্যদিকে, সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র থেকে প্রতি মাসে রেভিনিউ স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ড্র করছেন ৫হাজার টাকা।

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শহীদুল হক হোসাইনী জানান,আমার জানামতে দু স্থানে সরকারী চাকরী করার সুযোগ নেই। তিনি পটিয়াতে একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসায়(এমপিও ভুক্ত)  চাকরী করেন। আবার আমাদের এলাকার সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রে ভাগিনাকে ক্লাস দিয়ে তিনি বেতন ড্র করেন এটা কিভাবে সম্ভব।আমরা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে অবহিত করেছি। এছাড়াও শাহ আতাউল্লাহ আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় (ননএমপি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ) তিনি দায়িত্বপালনকালে অনেক অনিয়ম করেছে ।

বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন লোহাগাড়া উপজেলার মডেল কেয়ার টেকার মুহাম্মদ রাশেদুল হক জানান, এ বিষয়ে শুনার পর আমাদের দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।একজন শিক্ষক কোন ভাবেই দুইস্থানে চাকরী করতে পারবেনা। কয়েকদিন পূর্বে ফিল্ড সুপারভাইজার নুরুল হক সিকদার স্যারকে নিয়ে উক্ত কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে সেখানে শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে পায়নি।ফোন করলে রিসিভও করেনি। তার ভাগিনাকে দেখতে পেয়েছি। সে আমাকে কোন ধরণের রেজ্যুলেশনের কপি জমা দেয়নি। প্রতিমাসে তিনি সরকারী বেতন ড্র করেছে। তার ভাগিনা ক্লাস নিয়েছেন।সরকারী বিধিমতে তার ভাগিনা ক্লাস নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। সে অন্য আরেকটি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় চাকরী করে আমাদের জানা ছিলনা। আমরা তার বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে জানিয়েছি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে অভিযুক্ত মাওলানা শহীদুল ইসলাম জানান, এমপিও ভুক্ত একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসায় চাকরী হওয়ার পর আমার ভাগিনা ওই প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নিচ্ছেন নিয়মিত।

তিনি তার ভাগিনার বিষয়ে উপজেলা মডেল টেক কেয়ার মহোদয়কে রে্জ্যুুলেশন করে একটি কপি জমা দিয়েছেন।তিনি সাংবাদিক কে জানান, ভাই আমি আপনাকে কিছু খরচের টাকা পাঠাবো, আপাতত নিউজ করিয়েননা। এ বলে  তিনি কল কেটে দেন।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) শরীফ উল্যাহ জানান, এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে খতিয়ে দেখা হবে।

বিএনএ/ রায়হান সিকদার