বিএনএ,ফেনী:২০২২ সালে ঢাকা-কক্সবাজার রেললাইন যোগাযোগ উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, রেল জনবান্ধব করতে নানা উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ব্রডগেজ লাইনে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। এর কাজ শেষ হলে ৭০-৮০ কিলোমিটার গতির রেল ১২০-১৫০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম হবে।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রজেক্টের আওতায় চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণকাজ চলছে। ২০২২ সালের শেষ দিকেই এই লাইন উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সমাবেশ শেষে মন্ত্রী ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্ল্যাটফর্ম উঁচুকরণ, স্টেশন বিল্ডিং রিনোভেশন, এক্সেস কন্ট্রোল এবং প্ল্যাটফর্ম শেড নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্রশীল, ফেনী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব চৌধুরী প্রমুখ।
রেললাইনের কাজ চলছে পুরোদমে
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত শহর কক্সবাজার। সড়ক ও বিমানপথই এখানে আসার মাধ্যম ছিল। সেই সাগরপাড়েই এবার হচ্ছে ট্রেনের দৃষ্টিনন্দন স্টেশন। কক্সবাজারের অংশে এগিয়ে যাচ্ছে রেললাইন নির্মাণকাজ।
ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দের পাড়ায় একটি বড়সড় ঝিনুক তৈরি করছে রেলওয়ে। ঝিনুকটির দুই অংশের মাঝে ফাঁকা থাকবে ছয়তলা উচ্চতার সমান। এই ঝিনুকটির পেটেই হবে মূল স্টেশন, যেখানে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের স্টেশনের সব সুবিধা।
দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, যাত্রী নামার পরে এখানে সব ধরনের সুবিধা থাকবে। হোটেল, ফুড কোর্ট ও অন্যান্য শপিং মল সব কিছুই থাকবে। এই স্টেশনের সব কিছুই অটোমেটেড সিস্টেমে হবে।
দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, যাত্রী নামার পরে এখানে সব ধরনের সুবিধা থাকবে। হোটেল, ফুড কোর্ট ও অন্যান্য শপিং মল সব কিছুই থাকবে। এই স্টেশনের সব কিছুই অটোমেটেড সিস্টেমে হবে।
দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত থাকছে ৯টি রেলস্টেশন- যা হবে দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজার।
জানা যায়, কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প চালু হলে প্রাথমিকভাবে ঢাকা থেকে সরাসরি একটি ট্রেন যাবে কক্সবাজারে। ট্রেনটি চট্টগ্রামে থামবে। এটি শুধু পর্যটকের জন্য। ঢাকা থেকে রাত ৯টায় ছেড়ে কক্সবাজারে পৌঁছাবে সকাল ৬টায়। চট্টগ্রাম থেকেও সকাল-বিকেল পর্যটকদের নিয়ে দুটি ট্রেন যাবে কক্সবাজারে, মাঝপথে থামবে চকরিয়ায়। দুই ঘণ্টায় কক্সবাজারে পৌঁছাবে এ দুটি ট্রেন।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত ছয় জোড়া লোকাল ট্রেনও চলবে। এসব ট্রেন পথে দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ঈদগাহ ও রামুতে থামবে।
বিএনএ/ ওজি
![]()

