Bnanews24.com
Home » মাংকিপক্স এ আক্রান্ত একরোগী যা বললেন
বিদেশি মিডিয়া সব খবর স্বাস্থ্য

মাংকিপক্স এ আক্রান্ত একরোগী যা বললেন

মাংকিপক্স

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বলা হচ্ছে সারা বিশ্বে এবছরের জুলাই মাস পর্যন্ত মাংকিপক্স ভাইরাসের প্রায় ১৪,০০০ সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

ব্রাজিলের থিয়াগো আক্রান্ত ব্যক্তিদের একজন। থাকেন সাও পাওলো শহরে। কিছু উপসর্গ নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে যাওয়ার পর জানতে পারলেন যে তিনিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পরিসংখ্যানের অংশ হয়ে গেছেন।

তার শরীরে যেসব উপসর্গ দেখা দিয়েছিল সেগুলো হচ্ছে: প্রচণ্ড জ্বর, ক্লান্তি, কাঁপুনি এবং সারা শরীরে ঘা।

কিন্তু যে সমস্যাটি তার কাছে তীব্র হয়ে ওঠে ছিল তা হচ্ছে যৌনাঙ্গ ও তার আশেপাশে ব্যথা, ফুলে যাওয়া এবং জ্বালাপোড়া করা। তিনি বলছেন তার যৌনাঙ্গের ত্বকে কমপক্ষে ন’টি জায়গায় ঘা তৈরি হয়েছিল।

“এর ফলে ব্যথা করতো, এবং প্রচুর চুলকানি হতো,” বিবিসি নিউজ ব্রাজিলের কাছে তিনি তার এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, “পুরো জায়গাটা ফুলে ওঠেছিল, কখনো কখনো মনে হতো ওখানে আগুন ধরে গেছে।”

যে ভাইরাসের কারণে স্মলপক্স হয়, সেই একই পরিবারের একটি ভাইরাস মাংকিপক্স সংক্রমণের জন্য দায়ী। তবে এটি অতোটা মারাত্মক নয়। আক্রান্ত প্রাণী যেমন বানর, ইঁদুর এবং কাঠবিড়ালের মাধ্যমে এই ভাইরাসের সংক্রমণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মানুষ থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ তেমন একটা দেখা যায় না। তবে কেউ যদি আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসেন, তাহলে তার দেহেও এই ভাইরাসটির সংক্রমণ হতে পারে।

ফেটে যাওয়া চামড়া, চোখ এবং মুখের পাশাপাশি এটি শ্বাসপ্রশ্বাস সংক্রান্ত যেসব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ রয়েছে- যেমন ফুসফুস, শ্বাসনালী, এসবের মধ্য দিয়েও মানুষের দেহে প্রবেশ করে।

কেউ যদি আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা কাপড়, বিছানা এবং তোয়ালে স্পর্শ করেন তাহলে এসবের মাধ্যমেও রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কী ধরনের উপসর্গ

থিয়াগোর দেহে উপসর্গগুলো দেখা দিতে শুরু করে ১০ই জুলাই।

“প্রথমে আমার খুব ঠাণ্ডা লাগতে শুরু করলো, এবং তার পর প্রচণ্ড জ্বর ওঠলো। মাথাব্যথা হচ্ছিল এবং খারাপ লাগছিল। আমার মনে হচ্ছিল সারা শরীর যেন ভেঙে পড়ছে,” বলেন তিনি।

“আমি ভেবেছিলাম আমার হয়তো ঠাণ্ডা লেগেছে, এমনকি আমি হয়তো কোভিডেও আক্রান্ত হয়েছি। কিন্তু পরদিন গোসল করার সময় আমি প্রথমবারের মতো আমার পিঠে ও লিঙ্গে কিছু ক্ষত বা ঘা লক্ষ্য করলাম।”

এর পরে তার পা, উরু, বাহু, পেট, বুক, মুখ এবং যৌনাঙ্গে এই ঘা ছড়িয়ে পড়লো।

“এগুলো ছিল দেখতে ফুলে যাওয়া ফুসকুড়ির মতো, ব্যথা করতো,” বলেন তিনি।

উপসর্গ দেখা দেওয়ার তিনদিন পর তিনি হাসপাতালে যান।

এর প্রায় সপ্তাহ-খানেক আগে তিনি তার একজন বন্ধুর সংস্পর্শে গিয়েছিলেন যার দেহে মাংকিপক্সের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।

রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেল যে তার দেহেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। তিনি যৌন-বাহিত সংক্রমণের পরীক্ষাগুলোও করালেন, কিন্তু সেগুলোর রিপোর্ট পাওয়া গেল নেগেটিভ।

“হাসপাতালে যেতে আমার কিছু সময় লেগে গিয়েছিল। কারণ তীব্র ব্যথার ফলে আমার পক্ষে কাপড় পরা অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। এমনকি গাড়িতে বসে কোথাও যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল ব্যথার কারণে। আর ফুলে যাওয়ার কারণে অবস্থার আরো অবনতি হয়েছিল।” সূত্র : বিবিসি বাংলা