Bnanews24.com
ইসলাম ও ঐতিহ্য টপ নিউজ সব খবর

রমজানে ইফতারের গুরুত্ব

রমজানে ইফতারের গুরুত্ব

বিএনএ ডেস্ক: রমজানের প্রথমভাগের রহমতের দশ দিন শেষ হয়ে গেছে। শুরু হয়েছে মাগফিরাত তথা পাপ মোচনের দশ দিন। সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তায়ালা রোজার মধ্যে যেমন ফজিলত দান করেছেন,  ইফতারের মধ্যেও তেমন ফজিলত দিয়েছেন।

ইফতারের সময়টি মহান আল্লাহর কাছে  খুবই পছন্দনীয়। এসময় যখন কোনো মুমিন ইফতার সামগ্রী নিজের সামনে রেখে নিদিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, তখন আরশের মালিক ওই মুমিনের তাকওয়া (আল্লাহর প্রতি ভয়) ও আনুগত্য দেখে ব্যাপক খুশি হন।যে কারণে ইফতারের সময় আল্লাহর কাছে মুমিনদের দোয়া সহজেই কবুল হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংখ্য হাদিসে যথাসময় ইফতার করার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,  যতদিন ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে তোমরা  ইফতার করবে; ততদিন আল্লাহর কল্যাণ লাভ করবে।

ইফতারের বিষয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,তোমরা খেজুর দ্বারা ইফতার কর। কেননা এর মধ্যে বরকত রয়েছে। আর যদি খেজুর না পাও তবে পানি দ্বারা ইফতার কর। কেননা পানি পবিত্র। [সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং ২৩৫৫ ও ৬৫৮]

রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলতের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোন রোজাদারকে ইফতার করায়, তবে সেটি তার গুনাহ মোচন করে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রোজাদারের মুক্তির কারণ হয়।

অপর হাদিসে বলা হয়েছে,  যে ব্যক্তি রোজাদারকে কিছু খেজুর বা সামান্য পানির শরবত অথবা এক কাপ দুধ দ্বারা ইফতার করায়, তবে সেটি তার জন্য ক্ষমার কারণ হয়। আর এ রমজান মাসের প্রথমভাগে আল্লাহর রহমত, মধ্যভাগে পাপ মোচন ও শেষভাগে জাহান্নাম থেকে মুক্তি বিদ্যমান।

নবীজি (সা.) বলেছেন: ইফতারের সময় আল্লাহ বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন আর এটি রমজান মাসের প্রত্যেকটি রাতে এবং এসময় রোজা পালনকারী প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। [বায়হাকি: ৩৬০৫]

জায়েদ ইবনে খালেদ জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে  রোজাদারকে ইফতার করালো তার রোজাদারের ন্যায় সাওয়াব হবে। আর এতে রোজাদারের নেকি বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।

সাহাল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, লোকেরা কল্যাণ থেকে মাহরুম বা বঞ্চিত হবে না, যতক্ষন তারা দ্রুত ইফতার করবে।[সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৮৫৬ ও ১০৯৮]

ইফতারের সময় করণী: সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা।ইফতারের সময় অন্য কাজে ব্যস্ত না হয়ে ইফতার করা।ইফতারের সময় বেশি বেশি দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা।খেজুর, সাদা পানি কিংবা দুধ দিয়ে ইফতার করে মাগরিবের নামাজ জামাআতে পড়া।ইফতারে দেরি করে জামাআত তরক না করা।ইফতারের সময় ভারী খাবার না খাওয়া। মাগরিব আদায় করে তৃপ্তিসহ পরিমাণ মতো খাবার খাওয়া। আর তাতে শরীর থাকে সুস্থ ও সবল। ইফতারের সময় অতিরিক্ত খাবার খেলে জামাআত ও ইবাদত থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

ইফতারের আগে দোয়া:-উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আ’লা রিযক্বিকা আফত্বারতু।

অর্থ : ‘আল্লাহর নামে (শুরু করছি); হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্যে রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ মুরসাল, মিশকাত)

ইফতারের পর বা ইফতার করার সময় দোয়া পড়া

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করাকালীন সময়ে বলতেন-উচ্চারণ : ‘জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।’

অর্থ : ‘ (ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো ‘ (আবু দাউদ, মিশকাত)

বিএনএনিউজ/আরকেসি