উচ্চ আদালতে এখনো পুরোপুরি বাংলা প্রচলন হয়নি’

রাজনীতি

বিএনএ ডেস্ক:জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই সর্বস্তরে বাংলাভাষা প্রচলনের আইন করেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রেই তা বাস্তবায়ন হলেও উচ্চ আদালতে এখনও পুরোপুরি বাংলা প্রচলন হয়নি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ডিজাইন অনুযায়ী তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, একুশের ধারাবাহিকতায় মুক্তির জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু এখনো মুক্তি পাইনি। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে সংসদীয় একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে একদিকে বৈষম্য বেড়েছে, অপরদিকে জবাবদিহিতা নেই কোথাও।

‘স্বাধীনতার আগে পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের বৈষম্য ছিল, কিন্তু ৯০ সালের পর থেকে দেশের মানুষের সঙ্গে বৈষম্য করছে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে। দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে দলীয়করণ চলছে। উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে তারাই চাকরি ও ব্যবসায় সুযোগ পাচ্ছে কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ সব অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে,’ জানান তিনি।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে সংবিধানে ৭০ ধারা সংযোজনের কারণে সরকার প্রধানের অধীনে দেশের নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও নিম্ন আদালত। আবার উচ্চ আদালতের নিয়োগ থেকে অনেক কিছুই সরকার প্রধানের প্রভাব থাকে, যাতে কোনমতেই গণতান্ত্রিক চর্চা সম্ভব নয়। তাই ৯০ সালের পর থেকেই দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা নেই।

‘দেশের মানুষ সব বৈষম্য থেকে মুক্তি চায়। দেশের মানুষ তাদের অধিকার পেতে চায়। ন্যায়বিচার ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা ফিরে পেতে চায় দেশের মানুষ। আইনের শাসন চায় দেশের মানুষ’, বলেন তিনি।

আলোচনার আগে ও পরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক শেরিফা কাদেরের তত্ত্বাবধানে এবং সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আহমেদের উপস্থাপনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সদস্যরা।

এ সময় ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবেশিত দেশের গান ও কবিতায় মুগ্ধ হয়েছেন উপস্থিত নেতারা।

পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি হচ্ছে সাধারণ মানুষের সংগঠন। জাতীয় পার্টি সাহসী মানুষের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। জাতীয় পার্টি কখনো মাথানত করেনি, জেল-জুলুম ভয় করে না জাতীয় পার্টি। গণমানুষের স্বার্থে সব ভয় উপেক্ষা করে রাজনীতির মাঠে থাকবে জাতীয় পার্টি।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সৈয়দপুরে জাতীয় পার্টি নেতা-কর্মীদের ওপরে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, সৈয়দপুর পৌর নির্বাচনে অন্যায়ভাবে আধিপত্য বিস্তার এবং নির্বাচনকে কলুষিত করতেই শনিবার রাত ১১টায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের ওপরে হামলা করেছে।

কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেছেন, জাতীয় পার্টি অসীম সম্ভাবনাময় একটি রাজনৈতিক শক্তি। জাতীয় পার্টিতে কখনোই নেতৃত্ব সংকট হয়নি, হবেও না। দেশের মানুষের কাছে জাতীয় পার্টি আস্থার সংগঠন।

জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান দিয়ে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সর্বস্তরে বাংলাভাষা চালু করতে আইন করেছেন। বাংলাভাষার মর্যাদা বৃদ্ধিতে অনেক কাজ করেছেন তিনি। তাই প্রয়াত রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রীয় পদক দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস.এম. ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, হেনা খান পন্নি, ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক এইচ.এম. শাহরিয়ার আসিফ, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, ইকবাল হোসেন তাপস, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পার্টির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া।

উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সেন্টু, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক শেরিফা কাদের, উপদেষ্টা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এমপি, ড. নুরুল আজহার শামীম, হারুন আর রশীদ, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, ইয়াহ্ ইয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, এনাম জয়নাল আবেদিন, লে. কর্নেল সাব্বির আহমেদ, আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক, সুলতান মাহমুদ, এম.এ. রাজ্জাক খান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *