Bnanews24.com
Home » প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
টপ নিউজ সংগঠন সংবাদ সব খবর

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

বিএনএ ঢাকা: সারাদেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। আর এর মধ্য দিয়ে সন্তানদের নিয়ে কৈলাশে স্বামীর গৃহে চলে যান দেবী দুর্গা।  আবার এক বছর পর শরতের শুভ্র কাশফুলের মতো, মানব হৃদয়ে পূণ্যের পুষ্পরাশি প্রস্ফুটিত এবং অশুভকে বিনাশ করে ‘পিতৃগৃহ’এই ধরণীতে ফিরবেন তিনি। দেবী দুর্গা এবার এসেছিলেন ঘোড়ায় চড়ে, চলে গেলেন দোলায় চড়ে।

এরআগে বিজয়া দশমীর শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সকালেই দশ উপাচারে দেবীর বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জন দিয়ে শেষ হয়, দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। দশ উপাচারে অনুষ্ঠিত হয় দেবী দুর্গার বিহিত পূজা। শান্তিজল ছিটিয়ে, দেয়া হয় অঞ্জলী।

রাজধানীর বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটের বীণাস্মৃতি স্নানঘাটে শাহজাহানপুর বাংলাদেশ রেলওয়ে পূজা কমিটির প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা। ঢাকের শব্দের সঙ্গে কাসার ঘণ্টা বাজিয়ে প্রতিমাগুলো নদীতে বিসর্জন দেয় ভক্তরা।

এরআগে সারাদেশের মতো ঢাকেশ্বরী মন্দির কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ থেকে প্রতীকি প্রতিমা বিসর্জন দিতে সদরঘাট যান পূজা উদযাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর বেশির ভাগ মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হয় সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে। কড়া নিরাপত্তায় সদরঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে দুপুর ৩টার পর ট্রাক ও ভ্যানে করে সদরঘাটে প্রতিমা নিয়ে যান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রতিমা নিয়ে ঘাট এলাকায় সারি সারি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর পর্যায়ক্রমে ট্রাক থেকে  সেগুলো নামিয়ে নৌকায় করে নদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দেয়া হয় প্রতিমা বিসর্জন।

তার আগে বিষাদ ভুলে হাসিমুখে দেবীকে বিদায় জানাতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন সনাতন ধর্মালম্বীরা। বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে-অন্যকে সিঁদুরে রাঙান, নাচ-গান করেন, যেন সারা বছর এমন আনন্দে কাটে।

এছাড়া, প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতার জন্য ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দলও উপস্থিত ছিল।

এদিকে, লাখো পর্যটক আর ভক্তদের উপস্থিতিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে হয়ে গেল দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন। রং ছিটানো, আতশবাজি আর ঢাকঢোল বাজিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের করা হয় শোভাযাত্রা। বিসর্জন উপলক্ষে সৈকতে নামে দেশি-বিদেশি পর্যটক আর ভক্তদের ঢল। এ উপলক্ষে নেয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পুরো বিসর্জন পর্যবেক্ষণে রেখেছিল পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরের পর থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বহনকারী ট্রাকগুলো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দিকে আসতে থাকে। পুরো শহর জুড়ে নেয়া হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিকেল তিনটার পর থেকে  ভক্ত আর পর্যটকদের পদচারণায় লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট। সনাতন ধর্মবলম্বী আর সৈকত আগত পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিএনএনিউজ/আরকেসি