Bnanews24.com
Home » মাঠ পর্যায়ে এখনও চিকিৎসক-নার্সের অভাব: প্রধানমন্ত্রী
কভার জনদুর্ভোগ বাংলাদেশ সব খবর স্বাস্থ্য

মাঠ পর্যায়ে এখনও চিকিৎসক-নার্সের অভাব: প্রধানমন্ত্রী

চিকিৎসক-নার্সের অভাব

বিএনএ ডেস্ক: অনেক ডাক্তার ও নার্স জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যেতে চান না। মাঠ পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সংঞ্জাম দেয়া হয়েছে। তারপরও চিকিৎসক ও নার্সের অভাব দেখা যায়। এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আশা করি, ডাক্তাররা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখবে। চিকিৎসা সেবা দিতে উপজেলা পর্যায়ে যাবেন। প্রয়োজনে মানুষকে অনলাইনে চিকিৎসা সেবা দেয়ার অনুরোধও জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ঘরে বসে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়াই সরকারের লক্ষ্য। বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারের নেয়া উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে দেশের মানুষ। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বেসরকারি খাতে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বেসরকারি খাতে স্বাস্থ্য সেবার মান যাতে বাড়ে সেই ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, মনে রাখতে হবে, সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে খুব অল্প খরচে চিকিৎসা নিতে আসে। তারা যাতে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা পায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠিত অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দিতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমাদের ডাক্তারদের উদার হতে হবে। দরজা বন্ধ করে রাখলে আলো-বাতাস ঢোকে না। এ বিষয়ে বিশেষভাবে ভাববেন।

চিকিৎসা খাতে গবেষণা এখনও অপ্রতূল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গবেষণায় আরও গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু চিকিৎসা দিলেই চলবে না। গবেষণা ছাড়া চিকিৎসায় উৎকর্ষ সাধন সম্ভব নয়। বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধনের মাধ্যমে চিকিৎসা গবেষণায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন
সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন

এর আগে বহুল প্রতীক্ষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বিএসএমএমইউ’তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং আধুনিক অপারেশন থিয়েটারসহ হাসপাতালটি যে কোন সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসক দ্বারা রেফার করা সমস্ত গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করবে। প্রায় ৫ থেকে ৮ হাজার রোগী হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবা পাবেন।

এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক অনেক বাংলাদেশীর জন্য একটি বিকল্প হবে। কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালে ৭৫০ শয্যা থাকবে। এছাড়াও ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, একটি ১শ’ শয্যার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, একটি ১শ’ শয্যার জরুরি ইউনিট, ছয়টি ভিভিআইপি এবং ২২টি ভিআইপি কেবিন এবং ২৫টি ডিলাক্স কেবিন থাকবে।

বিশেষায়িত পরিষেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন, জিন থেরাপি এবং রোবোটিক সার্জারি। বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজনের জন্য ছয়টি মনোনীত কেন্দ্রও থাকবে, যেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডে আটটি শয্যা থাকবে। ছয়টি মনোনীত কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে বিশেষায়িত অটিজম, মাতৃকালীন যত্ন এবং শিশু যত্ন, জরুরি চিকিৎসা সেবা, হেপাটোবিলিয়ারি এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি, কার্ডিওলজি ও সেরিব্রোভাসকুলার ডিজিজ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে নেফ্রোলজি।

মাধ্যমিক পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসযন্ত্রের ওষুধ, সাধারণ অস্ত্রোপচার, চক্ষুবিদ্যা, দন্তচিকিৎসা, চর্মরোগ বিদ্যা, ও শারীরিক ওষুধ এবং পুনর্বাসন।

হাসপাতালে ৩শ’ জন চিকিৎসকসহ প্রায় ১৫শ’ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী রোগীদের পরিষেবা দেবেন।
এ লক্ষে ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় কমপক্ষে ১২০ জন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকান্ড একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে করা হবে এবং রোগীর তথ্য ১০০ বছরের জন্য রেকর্ড করা হবে।

এই প্রকল্পটি ২০১৬ সালে গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় মোট ১ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল এক হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে, যেখানে সরকার বরাদ্দ করেছে ৩৩০ কোটি টাকা এবং বিএসএমএমইউ ১৭০ কোটি টাকা।

বিএনএ/এ আর