বিএনএ, বিশ্বডেস্ক: তুরস্ক এবং সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। ইতোমধ্যেই ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে মৃতের সংখ্যা।এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছেন বহু মানুষ। এরই মধ্যে আবারও ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ দশমিক ৫।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) অনুসারে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে আরেকটি ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পে হতাহতের বিশদ বিবরণ এখনও আসেনি। দ্বিতীয় অগভীর ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় ১:২৪ মিনিটে আঘাত হানে।
এবারের ভূমিকম্পটির উৎপত্তি স্থল কাহরামানমারাস প্রদেশের একিনোজু শহরের ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে।
তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আনাদলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে তুরস্কের সাতটি প্রদেশের অন্তত দশটি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরগুলো হলো গাজিয়ান্তেপ, কাহরামানমারাস, হাতে, ওসমানিয়া, আদিয়ামান, মালাতিয়া, সানলিউরফা, দিয়ারবাকির এবং কিলিস। এই সাতটি প্রদেশে এখনো পর্যন্ত ৯১২ জন নিহত এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতাই। আশঙ্কা করা হচ্ছে ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকেই চাপা পড়েছেন।
অন্যদিকে সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়েদেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সিরিয়ার আলেপ্পো, হামা এবং লাকাতিয়া শহরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই ভূমিকম্পে। এই তিনটি শহরে এখনো পর্যন্ত অন্তত ৩৩৯ জন নিহত এবং ২হাজারের বেশি আহত হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা আরও ২২১ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইউএসজিএস-এর দেয়া তথ্যানুসারে, সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৪ টা ১৭ মিনিটে প্রথম দফায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানার ১১ মিনিট পর আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে তুরস্কের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একটি এলাকায়। এ দফায় ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭। এর মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যেই অন্তত ২০ বার আফটার শক অনুভূত হয়েছে তুরস্ক, সিরিয়া ও তার আশেপাশের এলাকায়।
ইউএসজিএস আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সিরিয়া, লেবানন এবং সাইপ্রাস থেকেও এই ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে। এমনকি মিসরের রাজধানী কায়রোতেও এর তীব্রতা টের পাওয়া গেছে।
বিএনএ/এমএফ
![]()

