29 C
আবহাওয়া
৯:০৯ পূর্বাহ্ণ - জুলাই ২০, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হালচাল: সংসদীয় আসন-২৮১ (চট্টগ্রাম-৪)

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হালচাল: সংসদীয় আসন-২৮১ (চট্টগ্রাম-৪)


বিএনএ, ঢাকা:  বিএনএ নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধারাবাহিক নির্বাচনী হালচাল প্রচার করছে। এতে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ থেকে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর আসনভিত্তিক সাংগঠনিক হালচাল তুলে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছে বিএনএ নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম। আজ থাকছে চট্টগ্রাম-৪ আসনের হালচাল।

YouTube player

চট্টগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনটি সিতাকুন্ড উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ও ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ২৮১ তম আসন।

প্রসঙ্গত, অনেকের কাছে এই আসনটির সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিভ্রান্ত বা খটকা লাগতে পারে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুয়ায়ি জাতীয় সংসদের ২৮১তম সংসদীয় আসনটি ২০০১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম-২ হিসাবে পরিচিত ছিল। ২০০৮ সালে সীমানা পরিবর্তন হওয়ার পর আসনটি ২৮০তম চট্টগ্রাম-৩ হিসাবে পরিচিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন থেকে আসনটি ২৮১তম চট্টগ্রাম-৪ নামে পরিচয় বহন করে আসছে। ২৮১ তম সংসদীয় আসন থেকে এই পর্যন্ত যারা নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন তার ভিত্তিতে বিএনএ নিউজ টুয়েন্টি ফোর এর গবেষণা টিম সেইসব সংসদ সদস্যেদের তালিকা নির্বাচনী তথ্য-উপাত্ত, এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুয়ায়ি ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ২ শত ১৭ জন। ভোট প্রদান করেন ৮০ হাজার ৩ শত ৯৪ জন। নির্বাচনে বিএনপির এল কে সিদ্দিকি বিজয়ী হন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৩৬ হাজার ৮ শত ৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের এবিএম আবুল কাশেম । নৌকা প্রতীকে তিনি পান ২৮ হাজার ৯ শত ২৮ ভোট ।

১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ সব বিরোধী দল এই নির্বাচন শুধু বর্জন করে ক্ষান্ত হয়নি, প্রতিহতও করে। নির্বাচনে বিএনপি,ফ্রিডম পার্টি এবং কিছু নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দল, অখ্যাত ব্যক্তি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এই নির্বাচনে বিএনপির এল কে সিদ্দিকি কে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ দিন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাশ হওয়ার পর এই সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

১৯৯৬ সালের ১২ই জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ শত ৮৬ জন। ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ৪ হাজার ৬ শত ৩৫ জন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এবিএম আবুল কাশেম বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৪৫ হাজার ৪ শত ৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির এলকে সিদ্দিকী। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৪৩ হাজার ১ শত ২১ ভোট।

২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ১ শত ১০ জন। ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯ শত ১৯ জন। নির্বাচনে বিএনপির এল কে সিদ্দিকি বিজয়ী হন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৬৭ হাজার ৫ শত ১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের এবিএম আবুল কাশেম । নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৪৬ হাজার ৪৫ ভোট।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬ হাজার ৮ শত ৩৩ জন। ভোট প্রদান করেন ২ লাখ ৫২ হাজার ১ শত ৩৫ জন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ বি এম আবুল কাশেম বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪ শত ৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির আসলাম চৌধুরী। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ১২ হাজার ৬ শত ৫১ ভোট।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোঃ দিদারুল আলম চৌধুরী বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩ শত ৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাসদের আফম মফিজুর রহমান। মশাল প্রতীকে তিনি পান ৪ হাজার ৪ শত ২৬ ভোট।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে র্নিবাচনের দাবিতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেনি।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২ শত ২৮ জন। ভোট প্রদান করেন ৩ লাখ ৭ হাজার ৮ শত ১৫ জন।

নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মোঃ দিদারুল আলম চৌধুরী, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ইসহাক চৌধুরী, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির দিদারুল কবির, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সামছুল আলম হাসেম, মোমবাতি প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ আশরাফ হোসাইন এবং চেয়ার প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোজাম্মেল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোঃ দিদারুল আলম চৌধুরী বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ২ লাখ ৬৬ হাজার ১ শত ১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ইসহাক চৌধুরী । ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান মাত্র ৩০ হাজার ১৪ ভোট।

কারচুপির অভিযোগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বর্জন ও ফলাফল প্রত্যাখান করে।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পঞ্চম,ষষ্ঠ, অষ্টম সংসদে বিএনপি, সপ্তম, নবম দশম ও একাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনএ নিউজ টুয়েন্টি ফোর এর গবেষণা টিম দৈবচয়ন পদ্ধতিতে সারাদেশে জরিপ চালায়। জরিপে অংশগ্রহণকারি বেশীরভাগ ভোটার ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের সপ্তম, ২০০১ সালের অষ্টম ও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরেপক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তারই ভিত্তিতে বিএনএ নিউজ টুয়েন্টি ফোর চট্টগ্রাম-৪ আসনে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম ও নবম এই ৪টি নির্বাচনের প্রদত্ত ভোটের পরিসংখ্যানকে মানদন্ড ধরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি কল্পানুমান উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনে ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৫৮.১৭% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৫.৯৮%, বিএনপি ৪৫.৮৪%, জাতীয় পার্টি ৪.২২%, জামায়াত ইসলামী ১০.৬৩% স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ৩.৩৩% ভোট পায়।

১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৭৬.৬১% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৪৩.৪৬%, বিএনপি ৪১.২১%, জাতীয় পার্টি ৭.২৭%, জামায়াত ইসলামী ৭.১৬% স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ০.৯০% ভোট পায়।
২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৭৬.৪৪% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৩.৬৩%, ৪ দলীয় জোট ৪৯.৩১%, জাতীয় পার্টি ৩.৬৩% স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ১৩.৪৩% ভোট পায়।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৮২.১৭% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ১৪ দলীয় জোট ৫৩.৭৪%, ৪ দলীয় জোট ৪৪.৬৮%, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ১.৫৮% ভোট পায়।

চট্টগ্রাম-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মোঃ দিদারুল আলম চৌধুরী।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও মনোনয়ন চাইবেন। এছাড়া মনোনয়ন চাইবেন সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত এ বি এম আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও সীতাকুন্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আল মামুন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার বাসনা নিয়ে তিনি গত ৩০ অক্টোবর উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করেছেন। এস এম আল মামুন ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। আগামী মার্চ মাসে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আরও মনোনয় চাইবেন সীতাকুন্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল চৌধুরী।

এ ছাড়াও মনোনয়ন চাইবেন, একসময়ের জাতীয় পার্টির মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান শিল্পপতি ইমতিয়াজ ইকরামের ছোট ভাই মোহাম্মদ ইমরান এবং শিল্পপতি পারভেজ উদ্দীন চৌধুরী সান্টু।

বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে হরতাল অবরোধ পালন করছেন। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অনেকে কারাগারে আটক রয়েছেন। আটক আছেন এই আসনে বিএনপির একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। একাদিক মামলায় তার দুই বছরের বেশি সাজাও হয়েছে। সেই হিসাবে আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারবেন না। এমনকি বিদেশে অবস্থানরত তার স্ত্রী সহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কারন তারা ইতিমধ্যে ঋন খেলাপীর দায়ে দুই বছরেরও বেশী সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। আসলাম চৌধুরীর বিকল্প কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। তবে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াত ইসলামীর সীতাকুণ্ড দক্ষিণের আমির আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী জোটের মনোনয়ন চাইবেন।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইবেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব দিদারুল কবির দিদার । একাদশ জাতীয় সংসদেও তিনি প্রার্থী ছিলেন। তবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্বাচন কেন্দ্রীক।
নির্বাচনী ভাবনায় সংসদ সদস্য আলহাজ দিদারুল আলম বলেন, আমি ও আমার পরিবার আজীবন মানুষের সেবা করে যেতে চাই। গত ১০ বছরে সীতাকুণ্ডে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আবারও সীতাকুন্ড বাসীর সেবা করার সুযোগ দিয়ে উন্নয়নের যাত্রা অব্যাহত রাখবেন বলে আশা করি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে গত ৩০ অক্টোবর পদত্যাগকারি এস এম আল মামুন বলেন, আমি মনোনয়ন চাইবো। দেয়া না দেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী যাকেই মনোনয়ন দেবেন সবাই মিলে তার জন্য কাজ করবেন এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মামুন।

লায়ন আলহাজ মোহাম্মদ ইমরান বলেন, দলের নীতি ও আদর্শকে সামনে রেখে জনগণের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার এবং নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা যে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন সে স্বপ্নের সহযাত্রী হতে চান বলে উল্লেখ করেন লায়ন ইমরান।

শিল্পপতি পারভেজ উদ্দীন চৌধুরী সান্টু বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চাইবো। মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে জিতবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই শিল্পপতি।

তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম- ৪ (সীতাকুন্ড) আসনটি একক কোন রাজনৈতিক দলের ঘাটি নয়। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এলকে সিদ্দিকী ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদের আইনুল কামাল সংসদ সদস্য হন। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন বিএনপির এলকে সিদ্দিকী। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১১ দিনের ষষ্ট সংসদেও তিনি সংসদ সদস্য হন। কিন্তু এর ৪ মাস পর ১৯৯৬ সালের ৬ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মাষ্টার এবিএম আবুল কাসেমের কাছে পরাজিত হন। এর মাধ্যমে নৌকার বিজয় কেতন উড়ে দীর্ঘ ২৩ বছর পর! ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এলকে সিদ্দিকী পরাজয়ের শোধ নেন। পরাজিত করেন মাষ্টার এবিএম আবুল কাসেমকে। ২০০৮ সালে নবম সংসদে এলকে সিদ্দিকীকে মনোনয়ন না দিয়ে আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেন। নির্বাচনে আবুল কাসেম মাষ্টার বিজয়ী হন। কিন্তু ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নানা বির্তকিত কর্মকান্ডের জন্য আবুল কাসেম মাষ্টারকে মনোনয়ন দেননি । মনোনয়ন দেন শিল্পপতি মোহাম্মদ দিদারুল আলমকে। বিএনপি নির্বাচনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় খুব সহজে বিজয়ী হয় দিদারুল আলম। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হন তিনি।
কাকতালীয় হলে সত্য ১৯৯১ সাল থেকে যে দল এই আসনে বিজয়ী হয়েছে সেই দলই সরকার গঠন করেছে। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমানে সমান। পার্থক্য হচ্ছে আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দল রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নে প্রার্থীও বেশি। একেক জন একেক এলাকা দখল করে আছে। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আবুল কাসেমের ছেলে আব্দুলাহ আল মামুন। এটি আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের বহি:প্রকাশ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিএনপিতে দলীয় কোন্দল নেই। একাদিক মনোনয়ন প্রত্যাশীও নেই । সেই দিক থেকে বিএনপি নির্ভার। কিন্তু এই আসনে কারাগারে আটক আসলাম চৌধুরী ছাড়া বিএনপি জনপ্রিয় কোন প্রার্থীর এখনো দেখা মিলছে না।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হলে জাতীয় সংসদের ২৮১তম সংসদীয় আসন (চট্টগ্রাম-৪) আসনটিতে আওয়ামী লীগর জয়-পরাজয় নির্ভর করছে বিএনপির আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করার ওপর, এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিএনএ/ শাম্মী, রেহানা, ওজি ,ওয়াইএইচ

Loading


শিরোনাম বিএনএ