34 C
আবহাওয়া
৩:৪৪ অপরাহ্ণ - জুন ১, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » জেলার মাসুদ: নিজ জেলা কুমিল্লা, চাকুরি করেন চট্টগ্রাম কোটায়!

জেলার মাসুদ: নিজ জেলা কুমিল্লা, চাকুরি করেন চট্টগ্রাম কোটায়!


বিএনএ, ঢাকা : কথায় বলে, সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। এমন এক অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো: মাসুদ হাসান জুয়েল। তার বাড়ি কুমিল্লা হলেও চাকুরি নিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা কোটায়। শুধু তাই নয়, নিজ জেলায় চাকুরি করার বিধান না থাকলেও গত বছরের জুলাই- আগস্ট গণআন্দোলন পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির একজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতার আশির্বাদে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার পদে পোস্টিং পান তিনি।

YouTube player

নানা অনিয়ম দূর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া করিৎকর্মা মাসুদ হাসান জুয়েল সম্প্রতি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারাগারে পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ হাসান জুয়েল বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলী হয়ে যোগদানের অপেক্ষায় আছেন। এবার আসা যাক সেই বিশ্লেষণে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো: মাসুদ হাসান জুয়েল ২০০৮ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তরে যোগদান করেন। কুমিল্লার ছাত্রলীগ নেতা মো. মাসুদ হাসান জুয়েল চট্টগ্রাম জেলা কোটায় চাকুরিতে যোগদানকালে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তার স্থায়ী ঠিকানা ভূঁইয়া বাড়ী, ফুলতলী, থানা: দেবীদ্বার, জেলা: কুমিল্লা। কিন্তু তিনি আবেদন করেন চট্টগ্রাম এর জেলা কোটায়। ঠিকানা হিসাবে উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ হালিশহর, চানখালী রোড, চট্টগ্রাম বন্দর।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাসুদ হাসান জুয়েলের বাবার নাম মো. মনিরুল হক ভূইয়া। কুমিল্লার দেবিদ্বার, ফুলতলীর বাসিন্দা মনিরুল হক ভূইয়া কারারক্ষীতে ভর্তি হয়ে পদোন্নতির মাধ্যমে সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর হয়ে অবসরে যান। মাসুদ হাসান জুয়েলের চাচা সিনিয়র জেল সুপার গিয়াস উদ্দিন তাকে নিয়োগ প্রদানের জন্য সুপারিশ করে। তার ওই চাচা তখন এআইজি হিসেবে নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।

জুয়েলের আপন বড় ভগ্নিপতি সাবেক সহ: প্রধান কারারক্ষী শাহীন কুমিল্লা কারাগারে কর্মরত থাকাকালীন ১ লাখ ইয়াবা বড়িসহ আটক হন এবং যে কারাগারে তিনি রক্ষী ছিলেন সেই কারাগারে আসামী হিসাবে তার ঠাঁই হয়। পরবর্তীতে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়।
সূত্র জানায়, মো. এমরান (৩২), নামে একজন আসামী গত পহেলা মে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাটি তিনি ওই সময়ে কাউকে না জানিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে কারাগারের ঠিকাদার আলমের মাধ্যমে বাকলিয়া থানা পুলিশের সহযোগীতায় আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। কিন্তু তাকে আদালতে উপস্থাপন না করে সরাসরি কারাগারে নিয়ে আসেন। এছাড়া আসামী পালানো নিয়ে থানায় কোন ডায়েরি বা মামলা করা হয়নি। তবে ১০ই মে এই ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি হয়।

গত ২২শে সেপ্টেম্বর কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিযার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো: মাসুদ হাসান জুয়েলকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলী করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনেও উল্লেখ করা হয়েছে তার নিজ জেলা চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন উঠেছে, জেলার মাসুদ জুয়েল কিভাবে নিজ জেলায় পোস্টিং পেয়েছিলেন। বিধি অনুযায়ী নিজ জেলায় পোস্টিং নেওয়া অবৈধ। গত বছরের ১০ নভেম্বর ডিআইজি মো. টিপু সুলতান ও এআইজি তালেব সিন্ডিকেট মোটা অংকের টাকা নিয়ে জেলার মো. মাসুদ হাসান জুয়েল ও জেল সুপার ইকবাল হোসেনকে চট্টগ্রাম কারাগারে বদলী করেছেন এমন গুঞ্জন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ডিআইজি টিপু সুলতান ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর চট্টগ্রামের সাবেক ডিআইজি, বর্তমানে নুরে আলম মিনার মামা এবং পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে চাকুরিতে যোগদানের আগ পর্যন্ত কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন জুয়েল। তার আপন ভাই মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন কুমিল্লা নগর যুবলীগের সাথে জড়িত। আপন মামাতো ভাই ডিস ব্যবসায়ি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহারের ঘনিষ্ট জন হিসেবে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জুয়েলের ভাই মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন ও মামাতো ভাই মোহাম্মদ সালাউদ্দিন কুমিল্লা থেকে পালিয়ে কারা অধিদপ্তরের জেলারের সরকারি বাসভবনে গতবছর দুই মাস আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে নাজমুল হোসেন ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনার সঙ্গে দেখা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ হাসাস জুয়েল নিজে এককভাবে কারাগারের ক্যান্টিন পরিচালনা করেন। অতীতে ক্যান্টিনের বাজার-সদাই কারারক্ষীরা করে থাকলেও বর্তমানে কারাগারের সকল বাজার জেলার নিজে করেন। কেন্টিনের লাভের বড় একটি অংশ পদস্থরা ভাগাভাগি করেন।

চট্টগ্রাম জেলা কারাগারের ভিতরে যমুনা- ৮কে ভিআইপিদের আরাম-আয়েশের জায়গা হিসাবে গড়ে তুলেছেন। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে কারাগারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করেন জেলার জুয়েল। এ কাজে চট্টগ্রাম কারাগারের আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী বলে পরিচিত ঠিকাদার আলম ও বর্তমান জেলারের মামাতো ভাই মোহাম্মদ সালাউদ্দিন লেনদেনের বিষয়টি দফারফা করেন বলে সুত্রে প্রকাশ। তবে তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ হাসান জুয়েলের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বিএনএনিউজ/শামীমা চৌধুরী শাম্মী/এইচ.এম।

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ