বিএনএ ডেস্ক: পদত্যাগ করেছেন বর্তমান সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। আজ সোমবার সকালে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ।হঠাৎ কেন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি?
পদত্যগ পত্রে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এই তীব্র অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তার সমস্যা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই স্বার্থেই তিনি এই পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন।
রাঙামাটি-২৯৯ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাবা সুবিমল দেওয়ানও ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে বিচার বিভাগে দীর্ঘ ১৯ বছর কাজ করার পর, ২০০৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হন। মাত্র কয়েক মাস আগে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেও তার এই আকস্মিক বিদায় দেশের রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দীপেন দেওয়ান একজন নৃগোষ্ঠী (চাকমা) সম্প্রদায়ের নেতা হয়েও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির রাজনীতি করেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন। পার্বত্য অঞ্চলের জটিল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে—যেখানে আঞ্চলিক দলগুলোর (জেএসএস, ইউপিডিএফ) ব্যাপক প্রভাব রয়েছে—সেখানে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করা এবং একই সাথে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আস্থা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন ।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে প্রায়শই একটি গুঞ্জন ছড়ানো হয় যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ভারতের মিজোরাম এবং মিয়ানমারের চিন স্টেট-এর অংশ বিশেষ নিয়ে একটি স্বাধীন ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ বা ‘কুঁকি ল্যান্ড’ বানানোর পশ্চিমা চক্রান্ত চলছে। যদিও পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল ধারার আঞ্চলিক দলগুলো (যেমন জেএসএস বা ইউপিডিএফ) এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে এবং তারা সবসময়ই বাংলাদেশের সংবিধানের অধীনে স্বায়ত্তশাসন ও পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পেছনে কোনো “কূটচাল” রয়েছে কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষা বা গুঞ্জন রয়েছে।
বিএনএ/শাম্মী
![]()

