25 C
আবহাওয়া
৪:৫৮ অপরাহ্ণ - মে ২, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » আসিফের জন্য স্বয়ং ড. ইউনূস কল করেছিলেন!

আসিফের জন্য স্বয়ং ড. ইউনূস কল করেছিলেন!


বিএনএ, ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)র সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী।

রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ কাউন্সিল হলে শুক্রবার সকালে আয়োজিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সাদিক কায়েমের নাম ঘোষণা করার মাধ্যমে জামায়াত পরিষ্কার করে দিল যে, জোটের ছোট শরিকদের মতামত বা ত্যাগের চেয়ে তাদের নিজস্ব দলীয় এজেন্ডাই মুখ্য।

YouTube player

সাবেক গণ-অধিকার পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে বিএনপি থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত মো. রাশেদ খান শুক্রবার নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের সময় এনসিপির আসিফ মাহমুদকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়েনি জামায়াতে ইসলামী। বরং নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকাকালীন আসিফের অভিযোগগুলো সামনে আনে জামায়াত। দলটি তাদের শরিক দল এনসিপিকে লোকদেখানো গুরুত্ব দিলেও, আসিফের বিতর্কের দায় নিতে চায় না।’ রাশেদ খান বলেন, আসিফ মাহমুদকে আসন ছাড়ার জন্য স্বয়ং ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াত আমিরকে কল করেছিলেন! তবুও রাজি হন নি তিনি।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘এবার দেখা যাক, এনসিপি কতোটুকু আসিফ মাহমুদের পাশে দাঁড়ায়। খেলা যে চলছে কোন লেভেলে… তুমি আমাকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি হিসেবে অধ্যাদেশ পাশ করাতে ভোট দিবা, আর আমি কেন খেলবো না! হ্যাঁ, এটাই জামায়াত! পুরোপুরি খেলে দিল…..’

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন এমন খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ডাকসুর পরাজিত ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের।

শুক্রবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে আব্দুল কাদের বলেন, জামায়াত থেকে সাদিক কায়েমকে মনোনয়ন দিয়েছে দেখলাম। অথচ এই সাদিক ভাইরা ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেরদেরকে এই একটা জায়গায় আলাদা হিসেবে দেখিয়েছেন। প্রতিপক্ষের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের কাছে কুৎসা রটিয়েছেন। জোর গলায় প্রচার করেছেন, “তারা লেজুড়বৃত্তিক সংগঠন না, বাকি সবাই লেজুড়বৃত্তি করবে আর মাদার পার্টির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে না।”

শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টা আসলেই আমলে নিয়েছে। অন্যান্য ইশতেহারের পাশাপাশি শিবিরের বিজয়ের জন্য এই বিষয়টা অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

কিন্তু কিছুদিন পরে দেখা গেলো, ভিপি সাহেব হেলিকপ্টারে উড়ে জামায়াতের প্রোগ্রাম করতেছেন, দিনরাত নির্বাচনী জনসভা করে বেড়াচ্ছেন! তখন কিছু শিক্ষার্থী শক খাইলো- “কইলো, লেজুড়বৃত্তি নাকি করবে না; তাহলে এখন এগুলা কি করতেছে!”

এখন আবার জামায়াত থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে দেখে বাদবাকি নাদান শিক্ষার্থীরাও শক খাবে, “ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজমান, এখনো মেয়াদ শেষ হয় নাই আর অ-লেজুড় ভিপিসাব তোড়জোড় শুরু করেছেন নিজের আর নিজ দলের আখের গুছানোতে!”

প্রসঙ্গত, এনসিপি থেকে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়াকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল অনেক আগেই।

রাজনীতির মাঠ বড়ই বিচিত্র। বিশেষ করে যখন আদর্শের চেয়ে কৌশল বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন দীর্ঘদিনের মিত্ররাও অচেনা হয়ে যায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ১১ দলীয় জোটের ভেতরে এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে কি জোটের ঐক্য শুধু নামেই? নাকি এখানে কৌশলের আড়ালে কাউকে সরিয়ে দেওয়ার খেলা চলছে?

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

Loading


শিরোনাম বিএনএ