24 C
আবহাওয়া
১০:২১ অপরাহ্ণ - মে ১, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » বন্ধ হওয়া কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী 

বন্ধ হওয়া কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী 


বিএনএ, ঢাকা : আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সমাবেশের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সময় শহীদ শ্রমিকদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ শ্রমিক ভাইদের, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আত্মাহতি দিয়েছেন সেই শ্রমিক ভাইদের এবং ২৪ এর জুলাই আগস্ট মাসে ছাত্রজনতার আন্দোলনে শ্রমিক দলের ৭২ জন শহীদকে।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ স্বৈরাচারকে ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করে দিয়েছে এই দেশ থেকে। সেই স্বৈরাচারের সময়ে আমরা দেখেছি এই দেশের প্রত্যেকটি খেটে খাওয়া মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সময় কিভাবে দেশের অর্থনীতিকে লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। দেশের শিল্প কলকারখানাগুলোকে ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং এক পর্যায়ে গিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন হচ্ছে শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র, নারী, পুরুষ সকলে মিলে দেশ গড়ার পালা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১২ তারিখে নির্বাচনের আগে বলেছিলাম এই দেশকে পুনর্গঠন করা ছাড়া, রাষ্ট্র মেরামত করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমরা আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর তিন বছর আগে কিভাবে রাষ্ট্র পুর্ণ মেরামত করা যায়, কিভাবে সংস্কার করা যায়, তার প্রত্যেকটি ৩১ দফায় আমরা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম।

উপস্থিত জনতার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে তারেক রহমান বলেন, ‘মনে আছে আপনাদের? সেখানে আমরা কৃষকদের কথা বলেছি, শ্রমিক ভাইদের কথা বলেছি, ছাত্রদের কথা বলেছি, আমরা নারীদের কথা বলেছি। প্রত্যেকটি শ্রেণি পেশার মানুষের কথা সেদিন আমরা সেখানে বলেছি। কারণ এই দেশের শ্রমিক ভাইয়েরা বাঁচলে এই দেশের মানুষ ভালো থাকবে। এই দেশের শ্রমিকরা বাঁচলে, কৃষকরা বাঁচলে এই দেশের মানুষ ভালো থাকবে।

তিনি বলেন, ‘সেজন্য নির্বাচনের আগে বলেছিলাম সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা শ্রেণি – পেশার যাদেরকে যেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সে অনুযায়ী কাজ শুরু করবো। আপনারা দেখেছেন, আমরা সরকার গঠন করার সাথে সাথে আমাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি যা ধীরে ধীরে সকল পরিবারের কাছে পৌঁছাবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়িয়েছি, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার কথা বলেছিলাম সেই কৃষিঋণও আমরা মওকুফ করেছি। তাদের কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজও শুরু করেছি। বলেছিলাম নতুন প্রজন্মের ভেতর থেকে আমরা পেশাদার খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের খেলোয়াড়দের তুলে ধরতে চাই।

তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন দেশের শিশুদের মধ্য থেকে প্রতিভাবানদের নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বের করে নিয়ে এসেছিলেন আমরাও ঠিক সেই কাজটি শুরু করেছি। নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় আগামী প্রজন্মের ভালো খেলোয়াড়দের আমরা বের করে নিয়ে আসবো।’

দেশের মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে হারিয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি যখনই বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পক্ষে যাত্রা করেছে, ধীরে ধীরে এই দেশে মিল কলকারখানা গড়ে উঠেছে, অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পক্ষে যাত্রা শুরু করেছে আমরা দেখেছি ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে এমার্জিং টাইগারের খেতাবে ভূষিত হয়েছে।

তিনি বলেন, কিন্তু বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে কিছু মহলের সেটি পছন্দ নয়। সেই মহল চায় না দেশের মানুষ তার ভাগ্য পরিবর্তনে পরিশ্রম শুরু করুক। ১২ তারিখের পর বাংলাদেশ তো আবার গণতন্ত্রের পক্ষের পথে চলা শুরু করল। এখন তারা চেষ্টা করছে বিশ্বদরবারে প্রথমে বাংলাদেশকে বিতর্কিত একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু বিশ্ব দেখছে বর্তমান সরকারের পেছনে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন রয়েছে। এ সরকার জনগণের দ্বারা গঠিত সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন দেশ গড়তে চাই। দেশের মানুষ পরিশ্রম করে যেভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের পাশে থেকে আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য আমাদের নির্বাচনের সময় স্লোগান ছিল ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এইটি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ স্লোগান।

তিনি বলেন, আজকের এই মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি। আসুন আমরা দেশগড়ার শ্রমিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করবো, দেশগড়ার শ্রমিক হিসেবে আমাদের জীবনের বাকি দিনগুলো অতিবাহিত করবো।

প্রশ্ন ছুড়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কি এই প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করতে পারি? আমার সাথে আছেন আপনারা দেশ দেশগড়ার শ্রমিক হিসেবে কি আপনারা নাম লেখাতে রাজি আছেন? মনে রাখতে হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই একটি কথা ‘প্রথম বাংলাদেশ , আমার শেষ বাংলাদেশ। জীবন বাংলাদেশ, আমার মরণ বাংলাদেশ।’ আসুন এই বাংলাদেশে আমাদের প্রথম ঠিকানা। এই বাংলাদেশই আমাদের শেষ ঠিকানা।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নয়াপল্টনে এটিই তার প্রথম কোনো সমাবেশে অংশগ্রহণ।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম মজনু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি, কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দ।

বিএনএনিউজ/এইচ.এম।

Loading


শিরোনাম বিএনএ