28 C
আবহাওয়া
২:২৮ অপরাহ্ণ - জুন ১৪, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » কে এই হানি ট্র্যাপ শিলিস্তি?

কে এই হানি ট্র্যাপ শিলিস্তি?

কে এই হানি ট্র্যাপ শিলিস্তি?

বিএনএ, ঢাকা: শিলিস্তি রহমান, ওরফে সেলে নিস্কি, ওরফে সিনথিয়া রহমান। একেকজনের কাছে একেক নামে পরিচিত। ২২ বছরের তরুণী শিলাস্তি রহমানের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুরে। তার পরিবার সেখানেই থাকে। তবে তিনি বড় হয়েছেন পুরান ঢাকায়। বর্তমানে ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। উত্তরাতেই একটি মেস বাসায় থাকেন। তবে বেশিরভাগ সময় থাকেন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যার পর কিমা বানানোর পরিকল্পনাকারি আখতারুজ্জামান শাহীনের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায়। সে আখতারুজ্জামান শাহীনের গার্লফ্রেন্ড। শাহীন যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন এবং তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রেই থাকে। তবে তিনি মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশে এলে শিলাস্তিকে নিয়ে কলকাতায় প্রমোদভ্রমণে যেতেন। সেখানে কিছুদিন থেকে পরে দেশে চলে আসতেন। তাদের মধ্যে কয়েক বছর ধরেই প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। শিলাস্তি বিভিন্ন পার্টিতে অংশ নিতেন শাহীনের ফ্ল্যাটে।

পুরান ঢাকায় বেড়ে ওঠা এই তরুণী শিলাস্তি চেয়েছিলেন মডেল হতে। কিন্তু বিত্তশালী আখতারুজ্জামান শাহীনের খপ্পরে পড়ে হয়ে পড়েন উঁচু দামের পতিতা। শুধু শিলাস্তি নয় তার এক বান্ধবীকে ভোগ করতেন আখতারুজ্জামান শাহীন। তার ওই বান্ধবীকে নিয়েও একাধিকবার কলকাতা যান আখতারুজ্জামান শাহীন। শিলাস্তি ও তার বান্ধবীকে নিয়ে হানি ট্র্যাপ করতেন শাহীন।

কলকাতায় বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনার খুন হওয়ার পর অভিযুক্ত মাস্টারমাইন্ড শাহীনের বান্ধবী হিসেবে নাম আসে এই শিলিস্তি রহমানের। তিনি গত ১৩ মে কলকাতায় এমপি আনার খুন হওয়ার পর ১৫ মে ঢাকায় চলে আসেন প্রধান কিলার আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে। শাহীনের এই বান্ধবী বিমানবন্দর থেকে চলে যান বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শাহীনের অভিজাত ফ্ল্যাটে। সংসদ সদস্য হত্যাকাণ্ড সফল হওয়ায় ওই রাতেই শাহীন সেখানে ফুর্তি পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে মনোরঞ্জন করেন এই শিলিস্তি ওরফে সেলে নিস্কি। এর আগে ৩০ এপ্রিল শাহীনের সঙ্গে গিয়েছিলেন কলকাতায়। ১০ মে শাহীন দেশে ফিরলেও শিলিস্তি কে রাখা হয় কলকাতাতেই।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিলিস্তি অবশ্য বিত্তশালীদের ডেরায় গিয়ে নিজেও থাকতেন রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাট বাড়িতে। তাকে দিয়েই এমপি আনারকে কলকাতা নেয়ার ফাঁদ পাতেন খুনের মাস্টারমাইন্ড শাহীন। এখন পর্যন্ত এমনটাই ধারণা করছেন গোয়েন্দা সূত্র। সূত্র জানায়, হয়তো ওই হানি ট্র্যাপেই পা দিয়ে জীবন দিয়েছেন এমপি আনার।

তদন্ত সূত্র জানায়, শিলিস্তির সঙ্গে নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠন পিবিসিপি’র সংযোগ রয়েছে। এমনই সংগঠনের সঙ্গে গোপন সংযোগ রেখে চলছেন তিনি। ওই তরুণীকে এরই মধ্যে ঢাকা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কলকাতায় এমপি আনার খুন হওয়ার পর শাহীনের বান্ধবী হিসেবে নাম আসে এই শিলাস্তি রহমানের। যিনি এখন গোয়েন্দা হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। ডিবি সূত্র জানায়, এমপি আনার খুনের সময়ে এই শিলিস্তি কলকাতায় শাহীনের ভাড়া ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। তবে যে ফ্লোরে হত্যাকাণ্ড ঘটে, সেখানে তিনি ছিলেন না। পরে হত্যার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এখন পর্যন্ত হত্যায় সরাসরি তার সম্পৃক্ততা মেলেনি।

প্রসঙ্গত, কোনো সংসদ সদস্য দেশের বাহিরে গেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে তা অবহিত করার নিয়ম থাকলেও আনার তা গ্রহণ করেননি। তাছাড়া কলকাতায় তার সঙ্গে গাড়িতে এক নারীও ছিল। সেই নারী শিলিস্তি নাকি অন্য কেউ তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এদিকে কলকাতায় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার শিলিস্তি রহমানসহ তিনজনকে আদালতে তোলা হলে আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে তোলার সময় ক্যামেরা দেখে মুখ লুকাতে থাকেন শিলাস্তি রহমান। পরে আদালতের ডকে তোলা শিলিস্তি কাঁদতে থাকেন। আদালতে শুনানির আগে শিলিস্তি রহমান জিজ্ঞাসা করেন, আমি কীভাবে আসামি হই, আমি শুধু ওই বাসায় ছিলাম। তাছাড়া কিছুই জানি না। এ সময় হাউমাউ করে কান্না করে শিলিস্তি।রিমান্ড শুনানির একপর্যায়ে একজন আইনজীবী ওকালতনামায় তার সই নিতে গেলে ওই আইনজীবীকে শিলিস্তি বলেন, আমি কেন স্বাক্ষর করবো? আমি কি আসামি নাকি? তিনি আরও বলেন, আমাকে এখানে কেন আনা হয়েছে, আমি জানতে চাই। আমাকে বলেছে সাক্ষী দিয়ে চলে যাবা। শিলিস্তি এ সময় বলেন, আমি কিছু জানি না।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারত থেকে আসা দেশটির ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর চার সদস্যদের একটি দলের সঙ্গে এরই মধ্যে বৈঠক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিরা ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছেও একই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া প্রত্যেকেই আনোয়ারুল আজিম হত্যাকাণ্ডে এবং তার মরদেহ গুম করার কাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

বিএনএনিউজ/ শামীমা চৌধুরী শাম্মী/ বিএম/এইচমুন্নী 

Loading


শিরোনাম বিএনএ