বিএনএ, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও নতুন ঝড়! ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দিয়েছেন এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার। ২২ শে সেপ্টেম্বর ৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের লাইভ সাক্ষাৎকারে তিনি কেবল তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কেই প্রত্যাখ্যান করেননি, বরং বাংলাদেশে ফেরার এক সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও ঘোষণা করেছেন! তিনি বলেছেন—২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। বর্তমান বিএনপি সরকারের কঠোর অবস্থানের মুখে এটি কি আদৌ সম্ভব, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গোপন রাজনৈতিক কৌশল?
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে এই রায়কে সম্পূর্ণ “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “প্রহসন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের মানুষের স্বার্থে এবং তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রক্ষা করতে তিনি যেকোনো আইনি লড়াই, এমনকি কারাবরণের মুখোমুখি হতেও মানসিকভাবে প্রস্তুত। অর্থাৎ, আইনি বা আইনি ব্যবস্থার বাহিরে যেকোনো চাপ মোকাবিলা করার বার্তা তিনি এই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিলেন।
সবচেয়ে বড় চমক ছিল তাঁর বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা। শেখ হাসিনা বলেন, “আমি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাতৃভূমিতে ফিরে আসার ব্যাপারে একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।” তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা যোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রশ্নটি এখন আর ‘কখন’ ফিরবেন তা নয়, বরং ‘কীভাবে’ একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে ফেরা যায়, সেটাই মূল বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করার মাধ্যমে তিনি মূলত তাঁর দল আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে চাইছেন এবং বর্তমান সরকারকে একটি প্রচ্ছন্ন আলটিমেটাম দিচ্ছেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা কেবল দেশের ভেতরের রাজনীতি নয়, বরং ভারতের ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগকে উসকে দিয়ে একটি বড় বার্তা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে অসাংবিধানিক সরকার চলছে এবং দেশে চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে, যা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে হুশিয়ার করে বলেন, বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করা বাস্তবসম্মত হবে না, বরং গভীর অর্থনৈতিক একীকরণই এখন সময়ের দাবি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে নিজের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছেন।
এনডিটিভি-কে দেওয়া শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকার প্রমাণ করে, মাঠের রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও তিনি পর্দার আড়ালে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক লবিংয়ে বেশ সক্রিয়। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—বর্তমান বিএনপি সরকার যেখানে তাঁর বিচারের দাবিতে অটল, সেখানে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁর ফেরার এই পরিকল্পনা কি বাস্তব রূপ পাবে? নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল?
শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

