বার্মিজ গরু পাচারের নতুন রুট নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু

।।এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন।।

আরো পড়ুন

‘চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদ বিল’ পাস

ববিতে ৩৭৭ আসন ফাঁকা, ভর্তির ৯ম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

বিএনএ, কক্সবাজার: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ওপা‌রেই মিয়ানমার। ক‌য়েক‌টি ছোট পাহাড় বেয়ে সহ‌জে হেঁটে যাওয়া যায়। এই পথকে বার্মিজ গরু পাচারের ‘নতুন রুট’ হিসেবে বেছে নিয়েছে পাচারকারীরা। গত তিন মাস ধরে প্রতি রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও বাইশারী ইউনিয়‌নের নতুন এই রুটে গরু পাচার হয়ে আস‌ছে। পাচারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জড়িত বলে জানিয়েছেন ওসব এলাকার বাসিন্দারা।

সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি সকালে বান্দরবানে ৮০টি বার্মিজ গরু আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির আলীকদম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আটক ৮০টি গরুর আনুমানিক বাজার দর এক কোটি টাকা।’

নতুন রুট হল-কক্সবাজারের গর্জনিয়া, ঈদগড়, কচ্চপিয়া ও নিকটবর্তী  পার্বত্য বান্দরবানের    নাইক্ষ্যংছড়ি  উপজেলার চেরারকুল, ফুলতলী, জারুলিয়ার ছড়ি, আশারতলী, চাকঢালা, নিকুছড়ি, বাইশারী, ঈদগড় ও আলীক্ষ্যং।

স্থানীয়রা বলছেন, মিয়ানমা‌রে গরুর দাম বাংলাদে‌শের তুলনায় অ‌নেক কম। বেশি দাম পাওয়ার আশায় বাংলাদে‌শে গরু পাচার করা হয়। আগে আলীকদম ও লামা সীমান্ত দিয়ে বার্মিজ গরু পাচার হ‌লেও বর্তমা‌নে নতুন পথ বেছে নিয়েছে পাচারকারীরা। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও বাইশারী ইউনিয়‌নের জনপ্রতি‌নি‌ধি, রাজ‌নৈ‌তিক নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গরু পাচা‌র করে আসছে পাচারকারীরা। অ‌নে‌কে গরু পাচা‌রের পাশাপাশি ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য পাচার কর‌ছে।

মা‌ঝেম‌ধ্যে উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাচা‌র হওয়া গরু আটক করলেও পাচারকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। প্রতি রা‌তেই বা‌র্মিজ গরু পাচার হ‌য়। পাচা‌রকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের নেতা, বিএন‌পি ও স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী একজোট হয়েছেন। তাদের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে স্থানীয় জনপ্রতি‌নিধিদের। পাচারকারীদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র থাকায় স্থানীয়রা প্রতিবাদের সাহস পান না। স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালালেও পাচার বন্ধ হয় না।

স্থানীয় দুজন জনপ্রতিনিধি জানান, গত তিন মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী সদর ইউনিয়‌নের ক‌ম্বো‌নিয়া, জারু‌লিয়াছ‌ড়ি, ফুলতলী, আশারতলী, জামছ‌ড়ি, চেরারকুল, চাকঢালা, নিকুছ‌ড়ি ও বাইশারীর ঈদগড়, আলীক্ষ্যং, কাগজী‌খোলাসহ কয়েকটি প‌য়েন্ট দি‌য়ে বার্মিজ গরু পাচার হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, কুতুব মেম্বার, জিয়াবুল, গিয়াসউদ্দিন, আতাউল্লাহ, জ‌হির উদ্দিন, আলী হোসেন, নুরুল ইসলাম, আবদুল গফুর, নুরুল আবছার সোহেল, জাকের আহমদ, ফকির আলম, আবু নোমান, নজরুল ইসলাম, কচ্ছ‌পিয়ার জ‌সিম উদ্দিন, জহির উদ্দিন, আবুল কালাম, এম সেলিম, সোহেল সিকদার, আবদুর রহিম ও বাইশারীর মো. আলম গরু পাচারে জড়িত। এদের মধ্যে কেউ গরু বেচাকেনা করেন, কেউ প্রশাসন‌কে ম্যানেজ ক‌রে পাচা‌রে সহ‌যো‌গিতা করেন আবার কেউ ইয়াবা পাচার করেন।

এছাড়া কুতব মেম্বার রামু কচ্ছপিয়ার জহির উদ্দিন ও জিয়াবুল হকসহ কয়েকজন খামার দিয়ে দেশীয় গরুর পাশাপাশি বার্মীজ গরু পালন করে আসছে। পরে সুযোগ বুঝে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে দেন বলে ও অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামি লীগ সদস্য তসলীম ইকবাল চৌধুরী বলেন, সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান অবৈধ গরু পাচার কাজে জড়িত। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন বলেন, গত তিন চার মাস ধরে সদর ও বাইশারী ইউনিয়ন দিয়ে অবৈধ গরু পাচার হচ্ছে। বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসনকে অভিযানে সহযোগিতা করেও পাচার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। কারা পাচার করছে তা জানিনা। তবে অনেকে পূর্বশত্রুতার উদ্দেশ্যে আমার নাম বলতেও পারে। ব্যাংক লেনদেন যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সহজে অবৈধ গরু পাচার কারীদের ধরা সম্ভব। এছাড়া সেন্ডিকেটের মাধ্যমে যারা গরু বিক্রির নিলামে অংশ নেন তাদের ব্যাংক হিসাব তল্লাশি করলে পাচারে জড়িতদের ধরা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এটি সত্য গরু পাচারের আড়ালে অনেকেই ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য ও পাচার করছে।

নতুন রুট দিয়ে অবৈধ গরু পাচার হচ্ছে এসব স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (উএনও) রোমেন শর্মা।

তিনি বলেন, পাচারে জনপ্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। কিন্তু এখনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাতে পাইনি। পুলিশ, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে গিয়েও জনপ্রতিনিধিদের নাম বলেননি। তবে অভিযোগ গুলো তদন্ত করছি। তদন্তে যদি কোন জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্তত পাওয়া যায় তখন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিএনএ/এমএফ