28 C
আবহাওয়া
১০:১৬ অপরাহ্ণ - জুলাই ৪, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » মক্কায় ১২৫ কিলোমিটার জুড়ে সোনার খনি!

মক্কায় ১২৫ কিলোমিটার জুড়ে সোনার খনি!


বিএনএ, ডেস্ক : সৌদি আরবের পবিত্র মক্কার প্রায় ১২৫ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এক সোনার খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় খনিজ কোম্পানি ‘মাআদেন’ জানিয়েছে, পরীক্ষাগারে নেওয়া নমুনায় দেখা গেছে, প্রতি টন মাটিতে সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৬ গ্রাম পর্যন্ত সোনা পাওয়া গেছে—যা আন্তর্জাতিক মানে ‘অত্যন্ত সমৃদ্ধ’ ধরা হয়।

‘মাআদেন’ আরও জানিয়েছে, মক্কার কাছাকাছি ওয়াদি আল-জাও ও জাবাল শাইবান অঞ্চলেও নতুন সোনা ও তামার ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় আকারের খনন কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি করবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই নতুন খনি হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে। এতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবে।

’মাআদেন’র প্রধান নির্বাহী রবার্ট উইলে বলেন, ‘এই নতুন আবিষ্কার মক্কাকে বৈশ্বিক সোনার মানচিত্রে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।’

বর্তমানে মানসুরা–মাসারাহ খনিতে প্রায় ৭০ লাখ আউন্স সোনা মজুত আছে এবং প্রতিবছর এখান থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার আউন্স সোনা উত্তোলন করা হয়। নতুন আবিষ্কারের ফলে উৎপাদন বহুগুণে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো অঞ্চলজুড়ে ১২৫ কিলোমিটারব্যাপী এক ‘গ্লোবাল গোল্ড বেল্ট’ বা আন্তর্জাতিক মানের স্বর্ণপট্টি গড়ে উঠতে পারে।

এদিকে ধর্মীয় মহলে এই আবিষ্কার নিয়ে দেখা দিয়েছে মতবিরোধ। অনেক ইসলামি গবেষক মক্কার স্বর্ণখনিকে হাদিসে বর্ণিত কেয়ামতের আলামতের সঙ্গে তুলনা করছেন। মিশকাতুল মাসাবিহী গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ফোরাত নদীর পানি শুকিয়ে গেলে এর তলদেশ থেকে স্বর্ণের খনি বের হবে”—যা কেয়ামতের একটি নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

তবে সৌদি আরবের বর্তমান বা সদ্য আবিষ্কৃত কোনো স্বর্ণখনিই ফোরাত নদীর কাছাকাছি নয়। ফলে অনেক আলেম মনে করছেন, এই খনির আবিষ্কারকে সরাসরি সেই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলা সঠিক নয়। অন্যদিকে, কিছু গবেষক মনে করছেন, পৃথিবীতে দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূতাত্ত্বিক ঘটনাপ্রবাহ হয়তো ভবিষ্যতে এই হাদিসের তাৎপর্য নতুনভাবে প্রমাণ করতে পারে।

অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও ধর্মীয় আলোচনার সংমিশ্রণে সৌদি আরবের এই নতুন স্বর্ণখনি এখন বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কেউ একে সৌদি অর্থনীতির আশীর্বাদ বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন—এটি হয়তো সময়ের শেষ অধ্যায়ের এক ইঙ্গিত।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বর্ণের মজুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে (৮,১৩৩.৫ টন)। এর পরেই রয়েছে জার্মানি (৩,৩৫১ টন), ইতালি (২,৪৫১.৮ টন), ফ্রান্স (২,৪৩৭ টন) ও রাশিয়া (২,৩৩২.৭ টন)।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সৌদি আরবের এই নতুন স্বর্ণভাণ্ডার বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক দামে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

Loading


শিরোনাম বিএনএ