বিএনএ, ঢাকা : জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। দণ্ডিত হয়েছেন রাজসাক্ষী হওয়া চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও। তবে, এই সাজা নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী মানবাধিকার সংগঠন বিচার প্রক্রিয়া ও সচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সেই ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে আছে বিএনপি নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ফজলুর রহমান। দৈনিক কালের কন্ঠকে দেয়া দীর্ঘ একটি সাক্ষাৎকার দেন। এতে শেখ হাসিনার বিচার, চট্টগ্রাম বন্দর, করিডোর, সংবিধান সংস্কার, নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন উন্থাপন করেন।
ফজলুর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা গুম-খুনসহ নানা অপরাধে অপরাধী তার চরম শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু সম্প্রতি তার বিচারে যে পথে হয়েছে তা ভুল! তিনি জোর দিয়ে বলেন ঢাক-ডোল পিটিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ আদালত শেখ হাসিনা ও অন্যদের বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছে তা আগামীতে ঠিকবে না। কেননা যে ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়েছে সেই ট্রাইবুন্যাল গঠিত হয়েছে ৭৩ সালের আলবদর- রাজাকার- আল শামস ও দালালদের বিচার করার জন্য। সেই ট্রাইব্যুনালে কীভাবে গণতন্ত্র আন্দোলনের পরাজিত শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ফজলুর রহমান বলেন, যিনি রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটার হয়েছেন তিনি একই ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত আসামীদের আইনজীবী ছিলেন। তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছেন। তিনি ইসলামী ছাত্র শিবির কর্মী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র খুনের আসামী।
ফজলুর রহমান বলেন দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসলে ট্রাইব্যুনালের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে কেউ রিট করলে ট্রাইব্যুনালের গঠন সঠিক হয়নি বলে রায় আসতে পারে। তাহলে শেখ হাসিনা ও অন্যদের যে সাজা দেয়া হয়েছে তাও বাতিল হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন এই সিনিয়র আইনজীবী ও বিএনপি নেতা।
কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের ওপর ছড়ি ঘুরাচ্চে এবং নানা অপকর্ম করছে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারে থাকা বিদেশীরা। তারা বৃটিশ শাসক রর্বাট ক্লাইভের মত বাংলাদেশকে বিক্রি করতে তৎপর রয়েছেন।
বিএনএনিউজ/ সৈয়দ সাকিব/ এইচ.এম।
![]()
