বিএনএ, ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত ১২ই আগস্ট মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি; যাতে ক্ষমতা আসল প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তরিত হয়।

এর একদিন পর ১৩ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা কুয়ালালামপুরে সিঙ্গাপুরভিত্তিক চ্যানেল নিউজ এশিয়া টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে বাংলাদেশে আবার পুরোনো সমস্যাগুলো ফিরে আসবে।
প্রশ্ন ওঠেছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একদিনের ব্যবধানে এমন পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিলেন কেন? তাহলে জামায়াত ইসলামী ও এনসিপি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন বর্জনের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের যোগসূত্র আছে কি?
প্রসঙ্গত ১২ই আগস্ট মালেশিয়ায় যখন প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে—এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন, তখন রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত যুব সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ডেট ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না।
একই অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেখেছি গুম, খুন, হত্যার সঙ্গে কীভাবে রাষ্ট্রীয় এজেন্সিগুলো জড়িত রয়েছে। ডিজিএফআইকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এনসিপির উত্তরাঞ্চল সমন্বয়ক সারজিস আলমও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) এর কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের ওপর চড়াও হন। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চ্যানেলের নাম দেখে শান্ত থাকবো না, মালিককে দেখবো,
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান, ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় নাগরিক পার্টি তৈরি করেছেন, গত ৬ মাসের ট্রায়ালে নাহিদ-সারজিস হাসনাতরা জন সমর্থন লাভে ব্যর্থ হয়েছেন। তার ওপর দলটি চাঁদাবাজিসহ নানা দূর্নীতি, অনিয়ম ও কেলেঙ্কারিতে যুক্ত হয়ে গেছেন। এই অবস্থায় ড. ইউনূস এবং অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা ‘সেইফ এক্সিট’ পেতে বিএনপি’র ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
একই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিও বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা আসার পর ফের প্রধান উপদেষ্টার সংস্কার ও বিচারের প্রসঙ্গটি সামনে আনার বিষয়টির সাথে বিএনপি’র সঙ্গে রাজনৈতিক “দরকষাকষি”র সর্ম্পক রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে,’রাষ্ট্রপতির পদ’। এই রাষ্ট্রপতি পদের সুরাহা হয়ে গেলেই জামায়াত ইসলামী- এনসিপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক আর না করুক; —ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।
সৈয়দ সাকিব
![]()

