বিএনএ, ঢাকা : শিরীন শারমিন কোথায়? তিনি কী হাওয়া হয়ে গেছেন? এটি এখন বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার খোঁজ মিলেনি। তিনি কোথায় আছেন, আদৌ দেশে আছেন নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেন, গত ১ বছর ৬ মাস ৯দিনেও এই সংক্রান্ত কোন তথ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে নেই! ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর প্রেক্ষাপটে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট, সকাল থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ মোট ১২ জন। পরে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে। গত বছর ২৩শে এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানিকালে এসব তথ্য জানান পলক।
যদিও অজ্ঞাত অবস্থান থেকে গত বছরের ২রা সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। ওইদিনই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে দেওয়া গেজেটে বলা হয়, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৪(২)(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্র গৃহিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের প্রথম দিকে শিরীন শারমিন রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। আত্মগোপনে থাকাবস্থায় গত বছরের ৩ অক্টোবর ই-পাসপোর্ট পেতে আবেদন করেন। গত ১০ অক্টোবর ঘরে বসে আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ দিয়েছেন, পরে সেই আবেদন বাতিল করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর। কেউ কেউ বলছেন, পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি স্থলপথে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।
২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুরে এক হত্যা মামলায় শিরীন শারমিনসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়। বাদী দিলরুবা আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী মুসলিম উদ্দিনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়, এবং এ ঘটনায় দ্বাদশ সংসদের স্পিকারের নির্দেশ ছিল।
শিরীন শারমিন দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি ২০১৩ সালে দেশের প্রথম নারী স্পিকার হন এবং টানা চার মেয়াদে ওই পদে ছিলেন।
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন পদত্যাগ করে বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে বন্দি। এই পরিস্থিতিতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের জন্য সরকার দুটি পথ ভাবছে:
১. রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি (যেমন প্রধান বিচারপতি) সরাসরি শপথ পাঠ করাবেন ।
২. রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন না থাকলে, ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মতে, সরকার ৩ দিন অপেক্ষা না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে আগ্রহী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে পারে। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কারাগারে আটক ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট সামশুল হক টুকু পদত্যাগ করেননি। তাকে জামিন বা প্যারলে মুক্তি দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করা যায় কীনা সে বিষয়েও চিন্তা ভাবনা চলছে। যদিও সেই সম্ভাবনা কম।
বিএনএনিউজ/শামীমা চৌধুরী শাম্মী/এইচ.এম।
![]()

