বিএনএ, ডেস্ক—গুমের দুই মামলাসহ তিন মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানা ভুক্ত সেনানিবাসে আটক ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে সামনে নিয়ে সেনাবাহিনী- সরকার ও জনগণকে মুখোখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে একটি মহল। এর মধ্যে বিতর্কিত ব্লগার পিনাকী ভট্টাচার্য অন্যতম।

গত ১১ ই অক্টোবর ভোর রাতে সূদুর প্যারিস থেকে হঠাৎ করে ফেসবুক লাইভে এসে ঢাকা সেনানিবাসের ৪৬তম স্বতন্ত্র সেনা বিগ্রেডকে নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে তার অনুসারি এবং জুলাই যোদ্ধা, সমর্থক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের রাস্তায় শুয়ে যমুনা অভিমূখী সেনাবাহিনীর গতিরোধ এবং প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান।
পিনাকীর এমন মিথ্যা উস্কানিমূলক বক্তব্য মুহুর্তেই দেশ-বিদেশে ভাইরাল হয়ে যায়। ড.মুহাম্মদ ইউনূসহ অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।একে অপরকে ফোন করে সেনা ক্যু হয়েছে কীনা জানাতে চান এবং নির্ঘুম রাত কাটান।
অনেকে টেলিভিশন অন করে স্ক্রলের দিকে তাকিয়ে থাকেন। অনলাইন সংবাদপত্র, ফেসবুক ইউটিউবেও চোখ রাখেন। রাতের পালায় দায়িত্বরত সাংবাদিকরা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকতাকে ফোন করে ঘুম ভাঙ্গান। কিন্তু পিনাকী ভট্টাচার্যের জরুরি লাই্ভের বক্তব্যের সত্যতা মিলেনি। এই অবস্থায় লাইভে আসেন প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তিনি পিনাকীকে মদ্যপ ও পাগল বলে অবহিত করে ভৎর্সনা করেন।
শুধু জুলকারনাইন নন, কানাডা থেকে প্রচারিত নাগরিক টিভির বার্তা প্রধান নাজমুস সাকিব বলেন, পিনাকী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুজব ও উস্কানিমূলক প্রচারণার কড়া সমালোচনা করেন।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে পিনাকী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে কালিমা দিতে চেষ্টা করছেন।
শেখ হাসিনার আমলে পালিয়ে যাওয়া পিনাকী ভট্টাচার্য কেন গত ১৪ মাসে দেশে অআসেননি তার প্রশ্ন তুলে নাসমুস সাকিব আরও বলেন, পিনাকী ও তার সহযোগীরা দেশকে সব সময় একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় রেখে নির্বাচন বিলম্বিত করে ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে তৎপর রয়েছে।
এ দিকে সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল তার কথা ইউটিউব চ্যানেলে জানান, পিনাকী ভট্টাচার্য দেশের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে দিয়ে লাখ লাখ টাকার ভিউ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন । একই সঙ্গে নিজেকে বিপ্লবের জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়ার রহমানের সমান ভাবতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেন।
মাসুদ কামাল পিনাকী ভট্টাচার্যকে শুধু ভিউ ব্যবসায়ি বলে ক্ষান্ত হননি। তাকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এজেন্ট, মতলববাজ, দুর্বৃত্ত বলে অবহিত করেন।
প্রসঙ্গত, পিনাকী রোরবার ভোরে তার জরুরি লাইভে যে সেনা ক্যুর নাম জড়িয়েছেন সেটি হচ্ছে ৪৬তম স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড। এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ঐতিহাসিক সেনাদল। এই ব্রিগেডটি ঢাকা সেনানিবাসের একমাত্র পদাতিক ব্রিগেড। যার কমান্ডার হিসাবে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম ইমরান হামিদ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের গর্বিত সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি করে দেশ ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করা, গুজবের মাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ায় পিনাকীর বিরুদ্ধে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা করা প্রয়োজন। তবে অর্ন্তবর্তী সরকার সেই পথে হাটবেন কীনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের সেনানিবাস ও সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আবারও আলোচনায় পিনাকী ভট্টাচার্য।
১১ই অক্টোবর ভোরে প্যারিস থেকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ৪৬তম স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডকে নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।
এই বক্তব্যে সেনাবাহিনী, সরকার ও জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পিনাকীর এমন লাইভের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের, নাজমুস সাকিব এবং মাসুদ কামালসহ বিভিন্ন মহল থেকে কঠোর সমালোচনা আসে।
তারা দাবি করেন—পিনাকী ভট্টাচার্য সচেতনভাবে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন এবং নিজের ভিউ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সৈয়দ সাকিব
![]()

