31 C
আবহাওয়া
৫:০৮ অপরাহ্ণ - মে ৭, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » আওয়ামী লীগ ফিরবে জামায়াতের কাঁধে চড়ে?

আওয়ামী লীগ ফিরবে জামায়াতের কাঁধে চড়ে?


বিএনএ ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক অদ্ভুত মোড় নিয়েছে। যে জামায়াতে ইসলামীর ওপর দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগ অবর্ণনীয় জুলুম চালিয়েছে, সেই জামায়াতই কি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ফেরার পথ হবে? ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এক নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছিলেন।

YouTube player

তিনি বলেছিলেন, রাজনীতিকদের ‘রাজকীয় মন’ থাকতে হবে এবং তারা আওয়ামী লীগের সকল নির্যাতন ক্ষমা করে দিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি রুমিন ফারহানা সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎকারে যা বললেন, তা যেন গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ফিরবে, এবং সেটা হতে পারে জামায়াতে ইসলামীর হাত ধরেই!’ আজ আমরা এই দুই ভিন্ন মেরুর বক্তব্যের মাঝখানের গভীর রহস্য উন্মোচন করব।

 

৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪।  জামায়াতে ইসলামীর বিট সাংবাদিকদের এক সম্মেলনে জামায়াত  আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের জুলুম ও নিপীড়নের জন্য জামায়াত কারো ওপর প্রতিশোধ নেবে না । তিনি একে ‘রাজনীতির বড় মন’ বা ‘রাজকীয় মন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

 

এদিকে, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এক টকশোতে বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি দীর্ঘদিনের বড় দল এবং তাদের আদর্শিক সমর্থকদের একদম মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরনের আদর্শিক বা কৌশলগত মেলবন্ধন হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রুমিনের মতে, আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা যাবে না এবং তাদের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যম হতে পারে খোদ জামায়াতই ।

রুমিন ফারহানা মনে করেন, এটি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের একটি কৌশলী পথ হতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, জামায়াত ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাথে মিলে আন্দোলন করেছে। তারও আগে ১৯৮৬ সালে বিএনপি বিহীন তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার সাথে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এরশাদের স্বৈর শাসনকে বৈধতা দিয়েছে।

 

জাতীয় সংসদের এই সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, জামায়াত বর্তমানে “রঙ বদলানো” রাজনীতির চর্চা করছে। তিনি দাবি করেন, তৃনমূল পর্যায়ে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি অলিখিত যোগসাজশ বা ‘গুপ্ত রাজনীতি’ থাকতে পারে, যেখানে অনেক নেতাকর্মী নিজেদের নিরাপত্তা ও সম্পদ বাঁচাতে এক দল থেকে অন্য দলে আশ্রয় নিয়েছে

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে, তবে টিকে থাকার স্বার্থে এবং বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে জামায়াত আওয়ামী লীগের বড় একটি ‘ভোট ব্যাংক’ বা জনসমর্থন কাজে লাগাতে চাইতে পারে। রুমিন ফারহানার এই আশঙ্কা কি কেবলই কল্পনা নাকি পর্দার আড়ালে কোনো বড় সমঝোতার ইঙ্গিত?

 

রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আজ যা শত্রুতা, কাল তা পরম মিত্রতা। জামায়াতের এই ক্ষমা কি মহত্ত্বের পরিচয় নাকি কৌশলী চাল? আর রুমিন ফারহানার ভবিষ্যৎবাণী কি সত্যিই ফলে যাবে? বাংলাদেশের রাজনীতির এই নতুন অধ্যায় নিয়ে আপনার মতামত কী? কমেন্ট বক্সে আমাদের জানাবেন।

 

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ