চৌকস শেখ হাসিনা ও উন্নয়নের ২০২২

।।  মিজানুর রহমান মজুমদার।।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ ঘটেছে। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনকালেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পায়।

আরো পড়ুন

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) মানদন্ড অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণের জন্য একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় তার থেকে অনেক বেশি অর্থাৎ ১৬১০ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দমমিক ৯। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম যেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভাগ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানীমূখী শিল্পায়ন, ১০০ টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, রপ্তানী আয় বৃদ্ধি পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কক্সবাজার বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল, পাতাল রেলসহ শতাধিক মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণের নেপথ্যে রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চৌকস নেতৃত্ব, সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল। ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ভিশন ২০২১’-এর মূল ভিত্তি হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেন। নির্বাচনী ইশতেহার অনুয়ায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২১ গ্রহণ করেছিলেন। এরপর অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। যা বিশ্বের বিস্ময়!

বিগত ১৪ বছরে ক্ষমতাসীন থাকার সুবাদে ২০২১ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী ট্যানেল, মেট্টোরেলসহ বেশ কিছু মেঘা প্রকল্প স্বপ্ন থেকে বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ১২ ডিসেম্বর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২২’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে।

সরকার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার চারটি ভিত্তি সফলভাবে বাস্তবায়নে কাজ করছে। এগুলো হচ্ছে—স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আগামী ৪১’ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। আর সেই বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে আমরা চলে যাব।’ স্মার্ট বাংলাদেশে প্রযুক্তির মাধ্যমে সবকিছু হবে। সেখানে নাগরিকেরা প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হবে। এর মাধ্যমে সমগ্র অর্থনীতি পরিচালিত হবে। সরকার ও সমাজকে স্মার্ট করে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদিত হয়েছে।

দেশের এ উন্নয়ন অগ্রগতিকে রুখতে দেশি-বিদেশি একটি চক্র নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। জনগণকে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে এ ব্যাপারে সর্তক থাকার পাশাপাশি উন্নয়ন বিরোধী শক্তিকে রুখে দিতে হবে। তবেই বাস্তবায়ন হবে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ‘সোনার বাংলা’ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’।