বর্ণহীন বর্ষবরণ : স্বাগত ২০২১

বিএনএ, বিশ্বডেস্ক : করোনার থাবা প্রায় পুরা বছরটাই গেছে আতঙ্ক, সতর্কতা আর স্থবিরতায়। দেশে দেশে ছড়িয়েছে করোনা। লাশের মিছিল প্রতিদিন বেড়েছে, বাড়ছে। করোনার এমন আবহের মধ্যে দিয়ে বিশ্ববাসী নতুন একটি বছর বরণ করে নিচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব মানার চাপ আছে। তাই প্রতিবারের মতো এবারের বর্ষবরণের উৎসবে নেই কোনও উদ্দীপনা-হৈ হুল্লোড় কিংবা বর্নিল আতশবাজি দেখতে মানুষের ভিড়।

আরো পড়ুন

গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ

এর মাঝেও স্বল্প পরিসরে, নীরবে, ঘরোয়াভাবে নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছে বিশ্ববাসী। শুভ নববর্ষ ২০২১। বিশ্বের বড় বড় শহরে চলছে লকডাউন। সিডনি থেকে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত বিভিন্ন নগরীতে বাতিল করা হয়েছে আতশবাজি প্রদর্শণী, লোক সমাগম।

ফ্রান্সে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। নতুন বছর বরণের কোনও পার্টি যাতে না হয় সেজন্য মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখ পুলিশ।

দেশে দেশে বর্ষবরণ:

অস্ট্রেলিয়া :

বিশ্বে প্রথম নতুন বছরকে স্বাগত জানানো দেশগুলোর মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া। তবে এ বছর সিডনিতে নববর্ষ উদযাপনে আতশবাজি হলেও তা দেখতে বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।মানুষজনকে আতশবাজি দেখতে বলা হয়েছে ঘরে বসে। সিডনি হারবার ব্রিজে আয়োজন করা হয়েছে মাত্র ৭ মিনিটের আতশবাজি প্রদর্শনী।

চীন:

রাজধানী বেইজিংয়ে নববর্ষের লাইটশো’ বাতিল করা হয়েছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন নগরীতে নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠান কাটছাঁট করা হয়েছে। বেইজিংয়ের পর্যটন এলাকা ইয়ংহে লামা টেম্পলেও দর্শণার্থীর সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকেই। অনেক চীনা পর্যটকই ঘরে থাকছেন।

জাপান:

মহামারী আর তুষারপাতের দ্বৈত সংকটের কারণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা এবার লোকজনকে নতুন বছর নীরবেই পালন করা এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারত:

নয়াদিল্লিতে জনসমাগম এলাকাগুলোতে ৫ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর মুম্বাই এবং ব্যাঙ্গালুরুতে জমায়েত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে ৪ জনে।তবে গোয়ায় এমন কোনও বিধিনিষেধ নেই। গোয়ায় লোকজন গত সপ্তাহ থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।

নিউ জিল্যান্ড:

কড়া লকডাউন এবং সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে দেশটি করোনাভাইরাস সংক্রমণ একরকম দূর করতে সক্ষম হয়েছে। তাই দেশটির অকল্যান্ডে বরাবরের মতোই এবারও হচ্ছে আতশবাজি। অকল্যান্ডের মেয়রের কথায়, নিউ জিল্যান্ডবাসীদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় দূর হয়েছে কোভিড-১৯। আর তাই নিউ জিল্যান্ড অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক সময়ের মতোই জীবনকে উপভোগ করার সৌভাগ্যজনক অবস্থানে আসতে পেরেছে।

বিএনএনিউজ/এইচ.এম।