Bnanews24.com
Home » চট্টগ্রামে থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে নগরজুড়ে তল্লাশি
এক নজরে চট্টগ্রাম সব খবর

চট্টগ্রামে থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে নগরজুড়ে তল্লাশি

বিএনএ,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে পুরো নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপনের পাশাপাশি হোটেল, ক্লাব ও বিনোদন কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চলছে পুলিশের তল্লাশি।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) নগরের কাজীর দেওড়ী, নিউ মার্কেট, পতেঙ্গা বীচ, নেভাল-২, দুই নম্বর গেট, সিটি গেইট, ওয়াসা মোড় ও ইস্পাহানি মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রম দেখা গেছে। এসব এলাকায় পুলিশ মোটরসাইকেল, কার ও বিভিন্ন গণপরিবহন দাঁড় করিয়ে তল্লাশি করছেন। এছাড়া সন্দেহজনক পথচারীদেরও দাঁড় করিয়ে তল্লাশী চালাতে দেখা গেছে কাজীর দেউড়ী, জামালখান ও সিআরবি এলাকায়।

সিএমপির সিনিয়র সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) নোবেল চাকমা বলেন, জামালখান মোড়, কাজীর দেউড়ি মোড়, সিআরবি মোড়, গণিবেকারি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আবাসিক হোটেলগুলোতেও তল্লাশি চলছে।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার জানান, থার্টি-ফাস্ট নাইট ঘিরে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বহদ্দারহাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত আছে।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদীপ কুমার দাশ জানান, আগ্রাবাদ ও দেওয়ানহাট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এসএম মোস্তাক আহমদ খান বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় টহল পুলিশ রযেছে। এছাড়া হোটেল, ক্লাব ও বিনোদন কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) ইংরেজি নববর্ষ (থার্টি ফাস্ট নাইট) উদযাপনে উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এছাড়াও সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

সিএমপির ১৫ নির্দেশনাগুলো হলো— রাস্তা, ফ্লাইওভার, ভবনের ছাদ ও প্রকাশ্য স্থানে কোনো জমায়েত করা যাবে না। অনুমোদিত সভা, সমাবেশ এবং ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসমূহে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। উম্মুক্ত স্থানে নাচ, গান ও কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না। কোথাও কোনো ধরণের আতশবাজি বা পটকা ফোটানো যাবে না। কোনো ভবনের ছাদে আতশবাজি বা পটকা ফোটানো হলে ভবন মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার পর পতেঙ্গা সী-বীচ ও পারকি বীচ এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না।

৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নগরীর সকল লাইসেন্সকৃত বার ও মদের দোকান খোলা রাখা যাবে না। গাড়িতে উচ্চস্বরে হর্ণ বাজানো যাবে না বা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি বা মোটরবাইক চালানো যাবে না। আনন্দ উদযাপনের মধ্যে শালীনতা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে হবে। মাদ্রকদ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। মাদকাসক্ত অবস্থায় কাউকে পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নৈতিক মূল্যবোধ পরিপন্থী কর্মকাণ্ড হতে বিরত থাকতে হবে। অশোভন আচরণ এবং বে-আইনি কার্যকলাপ হতে বিরত থাকতে হবে।

হোটেলে ডিজে পার্টির নামে কোনো স্পেস বা কক্ষ ভাড়া দেওয়া যাবে না। জনগণের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড পরিহার করতে হবে। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১০টার পর থেকে সকল ফাস্ট পুডের দোকানসহ মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে। ৩০ ডিসেম্বর রাত ১০টা থেকে ১ জানুয়ারি সকাল ১০টা পর্যন্ত সকল প্রকার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহনে নগরবাসীকে বিরত থাকতে হবে।

নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

বিএনএনিউজ/মনির