বিচারপতির বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ

বিএনএ ডেস্ক: হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, এমন একটি অভিযোগ প্রধান বিচারপতির কাছে করেছেন কয়েকজন আইনজীবী।

আরো পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে পরিবর্তন

যুবদল সভাপতি টুকু কারাগারে

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির বিএনপিপন্থী ৬ আইনজীবী নেতা প্রধান বিচারপতি বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করেন।

আইনজীবীরা হলেন- আইনজীবী সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সিনিয়র সহ-সম্পাদক মাহফুজ বিন ইউসুফ, সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম আকতার জাকির, মনজুরুল আলম সুজন ও কামরুল ইসলাম।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচন আসন্ন। সেখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর রাজনৈতিক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন তিনি।

অভিযোগে আইনজীবীরা বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, মিডিয়ায় ও ভিডিও থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার আসন্ন জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ওই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন এবং মাইক হাতে মাননীয় বিচারপতি মহোদয়কে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। ওই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাননীয় বিচারপতিকে তার স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওই সভাকে রাজনৈতিক দলের মতবিনিময় সভা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একটি রাজনৈতিক দলের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত নিম্নলিখিত আচরণ বিধি ভঙ্গ করেছেন।’

‘আমরা (অভিযোগকারীরা) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মনে করে, ওই ঘটনার মাধ্যমে বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন এবং সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। তাই এ বিষয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

প্রসঙ্গত, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার মেয়ের জামাতা। এ বিষয়ে বিচারপতির স্ত্রী ও ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রাব্বী বুবলী জানান, তিনি গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলের সিদ্ধান্তে নিজ অবস্থান থেকে সরে এসেছেন তিনি।

ফারজানা রাব্বী জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর তাদের বাড়িতে প্রয়াত ফজলে রাব্বী মিয়ার অনুসারীরা, বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং আত্মীয় স্বজনেরা যান। মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে তাদের মাঝে সান্ত্বনামূলক বক্তব্য দেন তিনি। পরে প্রয়াত বাবার জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই জামাতা হিসেবে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার সে দোয়ায় উপস্থিত ছিলেন।

ফারজানা রাব্বী জানান, মোনাজাত শেষে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন তাদের বাড়িতে হাজির হন। এরপর উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে তিনি সৌজন্যমূলক বক্তব্য রাখেন। সেখানে প্রয়াত শ্বশুরকে নিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার।

বিএনএ/এ আর