Bnanews24.com
Home » খুলনার ৬ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির আদেশ
আদালত টপ নিউজ বাংলাদেশ

খুলনার ৬ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির আদেশ

বিএনএ, ঢাকা: ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খুলনার বটিয়াঘাটার ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এটি ট্রাইব্যুনালের ৪৭তম রায়।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম।

আসামিরা হলেন- বটিয়াঘাটা উপজেলার আমজাদ হোসেন হাওলাদার, সহর আলী সরদার, আতিয়ার রহমান, মোতাছিম বিল্লাহ, কামাল উদ্দিন গোলদার এবং মো.নজরুল ইসলাম। এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম পলাতক। আসামি আমজাদ কনভেনশন মুসলিম লীগের কর্মী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্থানীয় রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। আসামি মো. মোতাসিন বিল্লাহ জামায়াতে ইসলামির অনুসারী। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্থানীয় রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। বাকি আসামিরাও রাজকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন।

মোট তিনশ পৃষ্ঠার রায় দেওয়া হয়েছে। এর সার-সংক্ষেপ পড়েন তিন বিচারপতি। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। রায়ের প্রথম অংশ পাঠ করেন বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম।

দ্বিতীয় অংশ পাঠ করেন বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার। তিনি রায় পড়ার আগে বলেন, কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধীর বর্তমান বয়স বিবেচনায় বিচার হচ্ছে না। বিচার হচ্ছে ৭১ সালে তারা যেসব অপরাধ করেছেন সে অপরাধের বিবেচনায়। আজকে যাদের দেখছেন বয়স ৮০ বছরের উপরে, তখন তাদের বয়স ছিল ৩০ বছর। আদালতে রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম।

এর আগে, গত ২২ মে খুলনার বটিয়াঘাটায় এ ছয়জনের বিরুদ্ধে রায় যে কোন দিন (সিএভি) ঘোষণার জন্য রেখে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে দুদিন আগে রায়ের দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি বলেন, এই মামলায় প্রাথমিকভাবে মোট আটজন আসামি থাকলেও একজন মারা গেছেন। তাকে বাদ দিয়ে বাকি সাতজনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১০ আগস্ট বটিয়াঘাটার মাছালিয়া গ্রামের শান্তি লতা মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিনোদ মণ্ডলকে অবৈধভাবে আটক-নির্যাতন, অপহরণ ও গুলি করে হত্যা করে আমজাদ হোসেন হাওলাদারসহ চার-পাঁচজন রাজাকার।১৯৭১ সালের ১৫ অক্টোবর আসামিরা বটিয়াঘাটার পূর্বহালিয়া গ্রামের চাপরাশী বাড়িতে হামলা চালিয়ে নিরস্ত্র হরিদাস মজুমদারকে আটক, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করে। ১৯৭১ সালের ২১ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করতে বটিয়াঘাটার সুখদাড়া গ্রামে হামলা চালিয়ে নিরীহ নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের চারজনকে হত্যা, চার থেকে ছয়টি বাড়ির মালামাল লুট এবং অগ্নিসংযোগ করে আসামিরা। ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর বটিয়াঘাটার বারোআড়িয়া গ্রামে হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জ্যোতিষ মণ্ডল এবং আব্দুল আজিজকে গুলি করে হত্যা করে এই আসামিরা।

২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ২৭ পাতার প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে উল্লেখিত চারটি অপরাধেই আমজাদ হোসেন হাওলাদারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ হওয়ার পর ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে আসামি আসামি মোজাহার আলী শেখ মারা যায়।

প্রসিকিউশনের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের জেরার পর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষে গত ২২ মে মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় রাখেন ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তীতে ২৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে এ মামলায় রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) দিন ঠিক করা হয়।

বিএনএ/এমএফ