29 C
আবহাওয়া
৮:২৭ পূর্বাহ্ণ - এপ্রিল ২৩, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » ইসলামে লাইলাতুল কদরের ফজিলত (2024)

ইসলামে লাইলাতুল কদরের ফজিলত (2024)

ইসলামে লাইলাতুল কদরের ফজিলত (2024)

।। রেহেনা ইয়াসমিন ।।

লাইলাতুল কদর বা শবে কদর কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদাপূর্ণ রাত বা ভাগ্যের রজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত। তাই লাইলাতুল কদরের রজনী হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রজনী। মুসলমানদের জীবনে লাইলাতুল কদরের ফজিলত এক কথায় বলে শেষ করা যাবে না।

পবিত্র কুরআনুল কারিম নাযিলের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই রাতকে হাজারের মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, উত্তম ও মহা সম্মানিত রাত হিসেবে আমাদের জন্য দান করেছেন।

শবে কদরের রাত

প্রতিবছর রমজানের শেষ দশদিনের যেকোনো বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা যায়, অর্থাৎ ২১,২৩,২৫,২৭, রমজান দিবাগত রাতগুলো। তবে অনেক আলেমদের গবেষণা ও ব্যাখ্যায় এবং বুজুর্গানেদ্বীনের মতে ২৬ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ সাতাশ তারিখে পবিত্র শবে কদরের অন্যতম সম্ভাব্য রাত।

লাইলাতুল কদর কবে ২০২৪


বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে চাঁদ দেখা কমিটি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের শবে কদর পালন করা হবে শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪।

লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া
লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া


শবে কদরের দোয়া(২০২৪)

হযরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি লাইলাতুল কদর কোনটি, তাহলে আমি সে রাতে কী বলব?

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘তুমি বলো, ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী’।

বাংলা অর্থ: ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করাটা আপনার পছন্দ। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।’

সুতরাং সারাদিন-রাত বেশি বেশি এই দোয়া করবেন। এই দোয়াটি হাঁটা-চলা-শোয়া অবস্থায় করা যায়। শেষ দশকে বেশি বেশি পড়া উচিত।

লাইলাতুল কদরের রাতে পঠিত সুরা -ইন্নাআনঝালনা

 

 সূরা ক্বদর বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাআনঝালনা-হু ফী লাইলাতিল কাদর।

ওয়ামাআদরা-কা-মা-লাইলাতুল কাদর।
লাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর।
তানাঝঝালুল মালাইকাতু ওয়াররুহু ফীহা-বিইযনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমর।
ছালা-মুন হিয়া হাত্তা-মাতলা’ইল ফাজরি।

মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত কর। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যদি কেউ ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদর কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে তবে তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে। (বুখারি, হাদিস নং : ৬৭২)

 

রাসূল (সা.) আরও বলেন, ‘রমজানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর। (মুসলিম, হাদিস নং: ১১৬৯)।
শবে কদরের আমল

মাহে রমজানে শবে কদরের রাত ইসলামী শরীয়ত মতে ফজিলতের দিক দিয়ে অনেক বড়। এ রাতেই সুরা কদরের মাধ্যমে ঐশীগ্রন্থ আল কোরআন নাজিল হয়েছে।

এ রাতে রাকাত করে যত খুশি নফল নামাজ আদায় করা যায়। বেশি বেশি জিকির করা। বিভিন্ন দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। বেশি থেকে বেশি গরিব ও অভাবী মানুষকে দান সদকা করা ।

যে মুসলিম নারী পুরুষ লাইলাতুল কদর পেলো কিন্তু ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে কাটাতে পারলো না, তার মতো হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই।

শেষ দশদিনে ইতেকাফ

আবু দাউদ শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশদিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন।

মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত হয়। পবিত্র  কোরআনের বর্ননা অনুসারে, আল্লাহ এই রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রজনীর উপাসনা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর মাহে রমজানে এই মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর মুসলিমদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে ।

এই রাতকে মহান আল্লাহ তা`আলা নিজেই হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাতকে যে কাজে লাগাতে পারেনি আল্লাহর প্রিয় হাবিব (সা.) তাকে বড় হতভাগা বলেছেন। উম্মতগণের এ রাতের প্রত্যেকটি আমল আল্লাহর দরবারে গৃহিত হয়। কেবল কয়েক শ্রেণির মানুষ ছাড়া বাকী সবার দোয়া কবুল হয়। মাত্র একরাতের আমল দিয়ে নিজেকে জান্নাতি বানানোর সুযোগ করে দিয়েছে শবে কদর।

চার শ্রেণির মানুষ ক্ষমা পাবে না, এরা কারা

শবে কদরে চার শ্রেণির মানুষকে ক্ষমা করা হবে না, তাদের কোনো কিছুই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না যতক্ষণ না তারা এসব অপকর্ম থেকে সংশোধন হবে। এই চার শ্রেণির মানুষ হলো, এক- মদ্যপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি, দুই- মাতাপিতার অবাধ্য সন্তান, তিন- আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, চার- হিংসা বিদ্বেষ পোষণকারী ও সম্পর্ক ছিন্নকারী। (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড, ৩৩৬ পৃষ্ঠা)।

ফেরেশতারা এবাদতকারীদের জন্য দোয়া করেন

শবে কদর এমন একটি মহিমান্বিত রাত যে রাত সম্পর্কে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, হযরত জিব্রাইল (আ.) এর নেতৃত্বে ফেরেশতারা পৃথিবীতে চলে আসেন। প্রত্যেকের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করেন, যারা দাঁড়িয়ে কিংবা বসে এবাদত করে থাকেন।

শবে কদরের দোয়া : বাংলা অনুবাদ:

শবে কদরের দোয়া, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নী।” অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা ভালবাসো। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। [তিরমিযি ৩৫১৩, ইবন মাজাহ ৩৮৫০]

 

শবে কদরের রাত্রি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম

মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এই রাত সর্ম্পকে হাদিস শরীফে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। এমনকি মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কোরআনে সূরা ক্বদর নামে স্বতন্ত্র একটি পূর্ণ সুরা নাজিল হয়েছে। এই সুরায় শবে কদরের রাত্রিকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলাম ধর্ম মতে, মুহাম্মদ (সা.) এর পূর্ববর্তী নবী এবং তাদের উম্মতগণ দীর্ঘায়ু লাভ করার কারনে বহু বছর আল্লাহর ইবাদত করার সুযোগ পেতেন।

যে সব নবী জীবনে কোন প্রকার পাপ কাজ করেননি

কোরান ও হাদীসের বর্ননায় জানা যায়, ইসলামের চার জন নবী যথা আইয়ুব (আ.) জাকারিয়া (আ.) হিযকীল(আ.) ও ইউশা ইবনে নূন (আ.) প্রত্যেকেই আশি বছর আল্লাহর ইবাদত করেন এবং তারা তাদের জীবনে কোন প্রকার পাপ কাজ করেননি। কিন্তু মুহাম্মদ(স.) থেকে শুরু করে তাঁর পরবর্তী অনুসারীগণের আয়ু অনেক কম হওয়ায় তাঁদের পক্ষে আল্লাহর ইবাদত করে পূর্ববর্তীদের সমকক্ষ হওয়া কিছুতেই সম্ভবপর নয় বলে তাদের মাঝে আক্ষেপের সৃষ্টি হয়। তাদের এই আক্ষেপের প্রেক্ষিতে তাদের চিন্তা দূর করার জন্য সুরা ক্বদর নাজিল করা হয় বলে হাদিসের বর্ণনায় জানা যায়।

শবে কদরের রাতে গুনাহগারকে মাফ করেন, তওবা কবুল করা হয়

এ রাতে সিদরাতুল মুনতাহায় অবস্থিত অগণিত ফেরেশতাসহ হজরত জিবরাইল (আ.) দুনিয়ায় অবতীর্ণ হন এবং ফেরেশতারা দুনিয়ার সমস্ত অংশে ছড়িয়ে পড়েন। প্রত্যেক স্থানে স্থানে রুকু–সিজদা করেন। মুমিন নর–নারীর জন্য দোয়ায় মশগুল হন। (তাফসিরে ইবনে কাসির)। এই মহান রজনীতে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য গুনাহগারকে মাফ করেন, মানুষের তওবা কবুল করা হয়। এ রাতে মাতা–পিতা ও আত্মীয়স্বজনের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে তাদের কবর জিয়ারত ও তাদের জন্য দোয়া করলে আল্লাহতায়ালা কবুল করেন।

এ রাতে পড়ার জন্য রাসুল (সা.) যে দোয়া শিখিয়েছেন তার অর্থ হলো, ‘আল্লাহ আজকের রাতে আমাকে শবে কদরের ফজিলত দান করুন, আমার কাজকর্ম সহজ করে দিন, আমার অক্ষমতা মার্জনা করুন, আমার পাপসমূহ ক্ষমা করুন।’

 

হালাল উপার্জন এবং ধর্মীয় বিধান

লাইলাতুল কদরের রাতে বেশি বেশি ইবাদত করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য জরুরি। লাইলাতুল কদরের রাত হাজার রাত অপেক্ষা উত্তম। এ রাতে যত বেশি নফল নামাজ আদায় করবেন তত বেশি সওয়াব। দীর্ঘ একটি মাস রোজা রাখার মাধ্যমে সকল মুসলমান আল্লাহর কাছে মাগফেরাত কামনা করে। রমজান মাসের অন্যতম একটি রাত্রি হচ্ছে শবে কদরের রাত্রি। এ রাত্রি জাগরণ করে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমান আল্লাহর কাছে নিজের সকল পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সুস্থ-স্বাভাবিক, প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ধর্মীয় বিধান পালন করা জরুরি। আল্লাহ তায়ালা হালাল উপার্জন এবং ধর্মীয় বিধান দুটিই পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো একটি ধরে কোনোটি ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেননি।

 

নফল নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত করা

শুধু নামাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এ রাতে তিলাওয়াতে কোরআন, জিকির, এস্তেগফার, তাসবিহ পাঠ, বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া একান্ত করণীয়। মহিমান্বিত এই রজনীতে উচিত নিজেকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখা, ফরজ নামাজ আদায় করে তার সঙ্গে সুন্নত, নফল নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত করা, না পারলে তেলাওয়াত শোনা, বেশি পরিমাণে রাসুল (সা.) এর উপর দরুদ শরীফ পাঠ করা, না ঘুমিয়ে রাতভর জিকির আসকার করা, দোয়া মোনাজাতে শামিল হওয়া, বেশি করে দান সদকা করা, অনাহারির মুখে ভাল খাবার তুলে দেয়াসহ যত ভাল কাজ আছে সবকিছু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।

লাইলাতুল কদরে করণীয় ও বর্জণীয়

রমজানের শেষ দশকের ইবাদাত-বন্দেগি ও ই’তিকাফের জন্য নবী করিম (স.) একমন এক ধ্যানে থাকতেন। কারণ একটাই, লাইলাতুল কদর প্রাপ্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। কারণ শেষ দশকের যে কোনো বিজোড় রাতেই লাইলাতুল কদর নিহিত।

সুতরাং রাত জেগে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, হাদিস অধ্যয়নসহ জিকির-আসকারে নির্ঘুম রাত কাটানোই লক্ষ্য। এ জন্য লাইলাতুল কদরের রাতে অতিরিক্ত না ঘুমিয়ে ইবাদাত বন্দেগি করা।

হাদিসে রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে সওয়াবের আশায় ইবাদতের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবে, তার অতীতের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হবে।’

অধিক ভোজন ত্যাগ করা

রাত জেগে ইবাদাত-বন্দেগি করতে সুস্থ সবল দেহ ও মন প্রয়োজন। তাই মাত্রারিক্ত খাবার খেয়ে লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখবেন না। কারণ পেট ভরে খেলে ঘুমের জন্য এবাদত করা যাবে না।  সে জন্য রমজানের শেষ দশকের প্রত্যেক রাত্রি স্বল্প আহার করা। যাতে রাত জেগে ইবাদাত-বন্দেগি করা উচিত।

রুসুম রেওয়াজ ত্যাগ করা

ইসলামে রসুম রেওয়াজের স্থান নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য নির্ভর জীবন ব্যবস্থা কুরআন। কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন- হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এ রাত। সুতরাং কল্পনা নির্ভর না হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পথে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা। লাইলাতুল কদর তালাশে কল্পনা না করা। কোনো প্রকার রসুম রেওয়াজে গা ভাসিয়ে না দেয়া।

এ রাতে কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিকভাবে নামাজ, জিকির আসকার, দান-খয়রাত, কুরআন তিলাওয়াত, ও হাদিস অধ্যয়ন করা।

অনেকেই সাওয়াবের কাজ মনে করে মাজারে মাজারে মোমবাতি-আগরবাতি বিতরণ, ঢোল-বাদ্যবাজনাসহ অনৈসলামিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।


দেশে দেশে লাইলাতুল কদর-


শবে কদরের রাতে যৌতুকবিহীন গণবিয়ে  আলজেরিয়ায় : 

আলজেরিয়াতেও এই রাতকে বাচ্চাদের প্রথম রোজা মনে করা হয়। এই রাতে প্রতি ঘরে ঘরে বিশেষ ধরনের শরবত বানানো হয়। যেসব বাচ্চা নতুন রোজা রেখেছে তাদেরকে তা খাওয়ানো হয়। পানি, মিষ্টি ও ফুলের পানি দিয়ে তৈরি এই বিশেষ শরবতের পাত্রে রেখে দেওয়া হয় একখানা স্বর্ণ বা রুপার রিং। খাবারের বেলায় একেক অঞ্চলে একেক ধরনের অভ্যাস। এই রাতে আলজেরিয়াতে আরেকটি কাজ খুব গুরুত্বের সঙ্গে হয়ে থাকে। বিভিন্ন কল্যাণ সমিতি বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যুবক-যুবতীদের যৌতুকবিহীন গণবিয়ের আয়োজন করা হয়।

গণবিয়ের ব্যবস্থা
দরিদ্রতার কারণে যেসব যুবক-যুবতীর বিয়ের সুযোগ হয় না, তাদের গণবিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। বিয়েতে প্রতিটি বর ও কনের পরিবারের মেহমানসহ উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়ণ করা হয়। খাবারের তালিকায় থাকে হরেক রকমের মূল্যবান ও সুস্বাদু খাবার ও কোমল পানীয়। সর্বশেষ পরিবেশন করা হয় মিষ্টি। বিয়ে শেষে নব-দম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হয় নানা উপহার সামগ্রী। এছাড়া তাদের পুনর্বাসনের জন্য দেওয়া হয় মূল্যবান বিভিন্ন সামগ্রী। অন্যদিকে যেসব বাচ্চা এ বছর নতুন রোজা রেখেছে তাদেরকে দেওয়া হয় নতুন পোশাক ও মূল্যবান উপহার সামগ্রী।


২৭ রমজান যেভাবে কাটায় তিউনিশিয়ানরা

তিউনিশিয়াতেও এই রাতে অনেকে বিয়ে করেন। বিয়ের প্রস্তাবকারী পুরুষ ও নারী এই রাতে এক সঙ্গে বের হন। কেনাকাটা করেন। স্বর্ণ-গহনা কিনে বিয়ের জন্য প্রস্তুত হন। এই রাতে তিউনিশিয়ায় বাচ্চাদের খতনা (মুসলমানি) করানো হয় এবং বড় করে অনুষ্ঠান করে সবাইকে দাওয়াত দেয়া হয়। বাচ্চাদের নতুন পোশাক কিনে দিয়ে তার পকেটে টাকা-পয়সা রেখে দেওয়া হয়। যাতে তারা তা পেয়ে খুশি হয়। তিউনিশিয়ানরাও এই রাতে তাদের মৃত আত্মীয়-স্বজনদের কবর জিয়ারত করে থাকেন। তাদের জন্য ইসালে সাওয়াব করেন।


লিবিয়ায় যেভাবে কাটে শবে কদর

লিবিয়াতে এই রাতে খাবারের বাহারটাই বেশি। গ্রামের মহিলারা এই রাত উপলক্ষ্যে তৈরি করেন “বাজিন” নামক এক বিশেষ খাবার। যা তাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় স্বাস্থ্যসম্মত বলে পরিচিত। আর শহরের মহিলারা রান্না করেন কুসকুস। এটিও তাদের কাছে খুব প্রিয়।

মৌরতানিয়ায় শবে কদর

একশ ভাগ মুসল্লির দেশ মৌরতানিয়ার মুসলিমরা এই রাতে বিভিন্ন রকম ধূপ জ্বালায়। তাদের ঘরগুলোকে আতর দিয়ে সুবাসিত করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা এই রাতে সুই গরম করে বাচ্চাদের হালকা ছেকা দেয়, যাতে বাচ্চাদের (তাদের ধারণা অনুযায়ী) শয়তান ধরতে না পারে।

সকলকে লাইলাতুল কদরে রাতভর এবাদত করার তৌফিক দিন 

আসন্ন লাইলাতুল কদরে বেশি বেশি ইবাদত করে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের চেষ্টা করা আমাদের উচিত। এ রাতের বরকত পাওয়ার জন্য প্রথমেই তওবা করতে হবে। তওবা আল্লাহপাক কবুল করার পরই এই রাতের ফজিলত লাভ করবেন একজন মুসলিম।

এ রাতে যারা নিজের অপরাধ ক্ষমা চেয়ে এবং আল্লাহর রহমত কামনা করে চোখের পানি ফেলবেন, তাদের দোয়া নিশ্চয়ই কবুল হবে। হে আল্লাহ, সকল মুসলমানকে লাইলাতুল কদরে রাতভর এবাদত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

বিএনএনিউজ24/ বিএম,এসজিএন/হাসনা

Loading


শিরোনাম বিএনএ