সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও ঘরবাড়ি সংস্কারের দাবি

বিএনএ, চট্টগ্রাম : সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও ঘরবাড়ি সংস্কার এবং আইনি ব্যবস্থার নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর।  মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১৪ দফা দাবি তুলে ধরেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন হিল্লোল সেন উজ্জ্বল।

আরো পড়ুন

বারহাট্টায় দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত 

প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে পরিবর্তন

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সাবেক সভাপতি সাধন ধর, বিমল কান্তি দে, অ্যাড. চন্দন তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সুমন দেবনাথ, শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত, সহ-সভাপতি প্রদীপ শীল, বিপ্লব চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক মিথুন মল্লিক, সজল দত্ত, অ্যাড. নটু চৌধুরী, বিপ্লব সেন, অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন টুটুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক স্ট্যালিন দে, সহ-পূজা বিষয়ক সম্পাদক প্রিয়তোষ ঘোষ রতন, সদস্য সঞ্জয় ভৌমিক কনকন, অয়ন ধর, প্রিয়তোষ বল, লিটন দাশ, রাসেল দত্ত, সমীরণ মল্লিক, অর্পণ চক্রবর্তী, রুবেল কান্তি নাথ প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, বিগত দিনে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম যাতে সাম্প্রদায়িক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং তার আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি দেশের কিছু কিছু স্থানে মৌলবাদী ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে জবরদখল, মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুরের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা এখনো ঘটে চলেছে। গত বৎসর ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন চট্টগ্রামের প্রধান পূজামন্ডপ জে.এম সেন হলে হঠাৎ হামলা হয়। এসময় বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় সংগঠন প্রতিবাদ জানালে প্রশাসনের সহযোগিতায় ৮ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রায় ৭৬ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পূজা পরিষদের আইনী সেলের মাধ্যমে আদালতে জোরালো আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামিরা দীর্ঘদিন জেলহাজতে ছিলেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে আসামিরা একে একে জামিনে বের হয়ে আসায় আমরা শঙ্কিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা পোস্ট দিয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা থেকে বিরত ও সজাগ থাকতে হবে। আমরা প্রত্যাশা রাখি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সার্বিক সহযোগিতা ও বলিষ্ঠ ভূমিকায় এবারের শারদোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তি-শৃঙ্খলার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবছরের মত এবারও মহানগরের জেএমসেন হলসহ ১৬টি থানায় ব্যক্তিগত/ঘট পূজাসহ প্রায় ২৮৩টি পূজা মন্ডপে ১ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর পাঁচদিনব্যাপী দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। গত ২৫ অক্টোবর রোববার জেএম সেন হলে দেবীপক্ষের সূচনা শুভ মহালয়ার অনুষ্ঠান হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নগরীর সকল পূজামন্ডপ ডিজে মুক্ত ও প্রতিটি মন্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া পূজার আনুষ্ঠানিকতা রাত ১২টার মধ্যে শেষ করার জন্য পূজার আয়োজকদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে এবং প্রতিমা বিসর্জন ৫ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ১৪ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

বিএনএ/ ওজি