Bnanews24.com
Home » প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর চৌকষ নেতৃত্ব
টপ নিউজ সম্পাদকীয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর চৌকষ নেতৃত্ব

৩১ অক্টোবর যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

।।মিজানুর রহমান মজুমদার।।

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ছাত্র মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন। এর ৯৮ দিন আগে ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম হয় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায়। বাবা শেখ মুজিবুর রহমান, মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা। বাবা রাজনীতিবিদ। স্কুলজীবন থেকেই  বাবা শেখ মুজিবের কাছে রাজনীতিতে হাতেখড়ি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা পা’ রাখলেন ৭৫ বছরে। তার রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু কন্যা যখন ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন, তখন ছাত্রলীগের সদস্যপদ চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সদস্যপদ দেয়া হয়নি। দেশে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে ছাত্রলীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনা দুঃখ করে এ কথা  বলেছিলেন। তিনি পিতার ক্ষমতার মাধ্যমে ছাত্রলীগের সদস্য পদ নেননি। ১৯৬৬ সালে ইডেন কলেজের ভিপি নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন তিনি নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।  ইডেন কলেজের সেই ভিপি এখন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়,  বিশ্ব নেত্রী হিসাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে।

দুই দফায় তিনি ৪ বার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তার চৌকষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশের কাতারে যুক্ত হওয়ার পথে অগ্রসরমান। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।  সারা দেশে চলছে উন্নয়নের উৎসব।  আইনি লড়াই করে মিয়ানমার ও ভারত থেকে  বিশাল সমুদ্র সীমা বাংলাদেশের ভূখন্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। যার পরিধি বাংলাদেশের সমান। পার্বত্য জেলায় যুগ যুগ ধরে চলমান সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করেছেন শান্তি চুক্তির মাধ্যমে।  বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল বিনিময় করা হয় শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায়।ছিটমহল বিনিময়ের ফলে ভারত ও বাংলাদেশের মানচিত্র পরিবর্তন করতে হয়েছে।  এতগুলো ছিটমহল বিনিময়ের নজির বিশ্বে  দ্বিতীয়টা আর নেই।

এক কথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে  বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে।  কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেবার মতো সাফল্য  দেখিয়েছেন তিনি। বিশেষত ভূমি ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ উৎপাদন,  নারীর ক্ষমতায়ন,  মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার কমানো,শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন,  দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানীমূখী শিল্পায়ন, ১০০ টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, রপ্তানী আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচক। পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ, বুলেট ট্রেনসহ দেশের মেগা প্রকল্পসমূহ অন্যতম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারি পরিবর্তন এনেছেন।  শত শত সেতু ও মহাসড়ক তৈরি করে টেকনাফ থেকে পঞ্চগড়, বরিশাল থেকে সিলেট  পর্যন্ত  যোগাযোগ ব্যবস্থার এক চক্রায়ন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। শুধু দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির মধ্যে তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। এগিয়ে গেছেন আর্ত-মানবতার সেবায়। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার নেতা হিসাবে বিশ্বে নিজেকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।