27 C
আবহাওয়া
৬:২১ অপরাহ্ণ - এপ্রিল ২৭, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » যুবদলের বহিস্কৃত চাঁদাবাজ ইসহাক এখন এনসিপি’র কান্ডারি!

যুবদলের বহিস্কৃত চাঁদাবাজ ইসহাক এখন এনসিপি’র কান্ডারি!


বিএনএ, ঢাকা: রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ। তাকে পিটিয়ে-কুপিয়ে- পাথর দিয়ে মাথা ও শরীর থেতলে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের চাঁদার লোভের বলি হয়েছেন সোহাগ।

YouTube player

সোহাগ হত্যার পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে লেখেন, “হে ক্ষতিগ্রস্ত মজলুম পরিবার, আমরা তোমাদের কাছে লজ্জিত। হে ব্যবসায়ী ভাই সোহাগ, তোমার এই পরিণতি হওয়ার আগে সত্যিকারের কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলাম না- এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে লজ্জিত।”

তৎকালীন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক বর্তমানে এনসিপির উত্তরাঞ্চল মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম আরেক কাঠি সরেস। সোহাগ হত্যার দুইদিন পর তিনি বিএনপির চেয়ারপাসন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে লিখেন, ‘আপনার দলের নেতাকর্মী নামক কতিপয় নরপিশাচকে সামলান জনাব তারেক রহমান। যে নিয়মে আওয়ামী লীগের করা হ-ত্যার দায় খুনি হাসিনার উপর বর্তায়, সেই একই নিয়মে বিএনপি, যুবদল- ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের করা খু-নের দায় আপনার উপরও বর্তায়’।

সারজিস আরও লিখেন, ‘মিডফোর্ড হাসপাতালের পাশে চাঁদা না দেওয়ায় একজন ব্যবসায়িকে উলঙ্গ করে, পাথর মেরে হত্যা করে তার লাশ ঘিরে চলছে যুবদলের কর্মীদের বুনো উল্লাস। এই দৃশ্য আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের বর্বরতার কথা স্বরণ করায়। এই জন্য বাংলাদেশের মানুষ জুলাই বিপ্লব করে নাই’।

রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নাই। ভাঙ্গারি ব্যবসায়ি সোহাগ হত্যার মাস্টারমাইন্ড যুবদল থেকে বহিস্কৃত সেই জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারই জাতীয় নাগরিক পার্টির এখন কান্ডারি হয়ে উঠেছেন। ২৪শে এপ্রিল যোগদানের দুইদিন পর তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাত্র ৯ মাসের মাথায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির এমন পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে জনগণকে স্বপ্ন দেখানো দলটিও ধীরে ধীরে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। রাজনীতির অচলায়তনে বন্দি হয়ে গেছে সোহাগের শিশু পুত্র-কন্যা ও স্ত্রীর আহাজারি ।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সোহাগকে হত্যার পর তার লাশের ওপর চলতে থাকে ভয়াবহ আদিম নৃশংসতা। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরও রক্তাক্ত নিথর দেহটি রাস্তার মাঝখানে ফেলে লাশের ওপর দাঁড়িয়ে উন্মত্ত উল্লাস করতে থাকে খুনিরা। ভারী পাথর তুলে তার শরীর ও নাকে-মুখে আঘাত করতে থাকে। তার শরীর থেকে একটি ছোট প্যান্ট ছাড়া সব খুলে নেওয়া হয়। ওই সময় আশপাশে শত শত লোক দাঁড়িয়ে থাকলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে যাননি।

অনুসন্ধানে জানা যায়. আওয়ামী লীগ আমলে মিটফোর্ড এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতেন যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে যুবদল নেতা ইসহাক এই চাঁদার নিয়ন্ত্রণ নেন। তিনি তার লোকজন দিয়ে মাসিক ৬ লাখ টাকা করে চাঁদা তুলতেন। সোহাগ সবার কাছ থেকে এ টাকা সংগ্রহ করে তাকে দিতেন। এর মধ্যে সম্প্রতি চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দেন ইসহাক। সেইসঙ্গে চাঁদা তোলার দায়িত্ব থেকে সোহাগকে সরিয়ে দিয়ে মাহমুদুল হাসান মহিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ।

বিষয়টি জানতে পেরে সোহাগ স্থানীয় আরেক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা হামিদের গ্রুপে ভেড়ার চষ্টো করেন। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে সোহাগকে হত্যার জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করা হয়। বিএনপি নেতা ইসহাকের পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় মহিন গ্রুপর লোকজন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিতে যোগ দিয়েই সরকার পতনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। তিনি বলেন, যদি দেখি বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আবার একইভাবে ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে আমরা আবার রাজপথে নেমে আসবো। সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদল থেকে বহিস্কৃত ইসহাক সরকারকে দলে নিয়ে এনসিপি তেমন লাভবান হয়নি। বেশি লাভবান হয়েছে, ইসহাক সরকার। তার রাজনীতিতে টিকে থাকার একটি প্লাটফরম এবং শীর্ষ একটি পদের প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘমেয়াদে ইসহাক সরকার এই ছোট দল এনসিপিকে ব্যবহার করে বড় কোনো অর্জনের পথে হাঁটছেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

Loading


শিরোনাম বিএনএ