অনলাইনে খতিয়ান প্রাপ্তির বাস্তব অবস্থা

জমিজমা নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ লাগবে সরকারের ভূমিমন্ত্রাণালয় যথেষ্ট করেছে। তাদের কার্যক্রম চলমান। ভূমি অফিসগুলোতে যে ঘুষ দুর্নীতি প্রকাশ্যে ছিল সেটা কমেছে এক বাক্যে সকলকে স্বীকার করতে হবে। তবুও কিছু পরামর্শ সাধারণ মানুষের থাকে। তাই সুবিধা অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে হয়।

আরো পড়ুন

সাধারণের পরামর্শ ভূমিমন্ত্রাণালয়ের কার্যক্রমকে আরো বেগবান ও ফলপ্রসু করবে বৈকি। রাজধানীতে বসে যারা নীতি নির্ধারণ, সফওয়ার তৈরি,সুবিধা অসুবিধা সংযোজন বিজোযন করেন তাদের সাথে তৃণমূলের কর্মী ও কর্মকর্তাদের মতবিনিময় জরুরি। রাজধানীর সাথে উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের সংলাপ না থাকায় মধ্যেখানে পড়ে সাধারণ মানুষ অনলাইনের শতভাগ সুবিধা ভোগ করতে পারছে না।

০১.  প্রসঙ্গ খাজনা আদায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে: 

আবুল কাশেম নামে একব্যক্তি তিনকড়া জমির খাজনা দিতে গিয়ে দেখলেন, তিনি খাজনা দিতে পারবেন না। কারণ বিএস খতিয়ানে যে ব্যক্তির নামে ওই তিনকড়া জমিসহ আরও জমি রয়েছে সবজমির খাজনা তাকে দিতে হবে। ভূমিমন্ত্রাণালয় সফওয়্যারে খুচরা খাজনা দেয়ার নাকি  নিয়ম/সুযোগ নেই। জানালেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা।

তবে ভূমি অফিসগুলো এখন চমৎকারভাবে সাজানোগুছানো এবং কম্পিউটার বসানো হয়েছে।

০২. চট্টগ্রাম জেলা রেকর্ড রুম:

ভূমি মন্ত্রাণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিজ্ঞপ্তি প্রচার হয়, নামজারি খতিয়ান ব্যতিত সকল জেলায় সব ধরনের খতিয়ান অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন ও সরবরাহ করা হয়। তবে অনলাইনে খতিয়ান প্রাপ্তির বাস্তব অবস্থা একটু ভিন্নতর।

অনলাইনে একটি খতিয়ানের জন্য যখনই আবেদন করবেন, সবকিছু ঠিকটাক থাকলে অনলাইনে ৫০টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ৭-১৫দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেয়ার প্রতিশ্রতি থাকে মেসেজে। আবেদনের পেইড স্লিপটি জেলা রেকর্ডরুমের অভ্যর্থনা কক্ষে জমা করতে হয়,দিতে হয় খতিয়ান প্রতি ২০টাকা প্রিন্ট খরচ। বিএস এর ক্ষেত্রে খতিয়ান প্রিন্ট নিয়ে থানা,উপজেলা ও মৌজার দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তির হাতে পৌঁছে দিতে হয়। তিনি খতিয়ানে যাবতীয় স্বাক্ষরের ব্যবস্থা নেন। বলা হয়, আগামী সপ্তাহের শেষ দিনে আসুন। পাবেন। প্রিন্ট খরচ কেন ? আবেদনের ৫০টাকা নাকি মন্ত্রাণালয় পায়, ফিজিক্যালি যারা খতিয়ান প্রিন্ট দেন, তার খরচ কে দেবে। তবুও ভাল। কাজটা এখন করতে দালাল ধরতে হয় না।

বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন খতিয়ানটা অনলাইনে থাকে না।

০৩. খতিয়ান অনলাইন করার কাজে আরও মনযোগি দক্ষ জনবলের দরকার। যাদের উপজেলা, ইউনিয়ন,মৌজা, ইত্যাদি নাম নখদর্পনে থাকে। কারণ অনলাইনে প্রাপ্ত খতিয়ানগুলোতে হয় অংকের যোগফল ভুল না হয় নামের ভুল অহরহ। মৌজা ও মানুষের নামও ভুল থাকছে।

এসব ভুল খুব মারাত্বক। সংশোধনের জন্য লম্বা প্রসেস। মানুষের ভোগান্তির শেষ  থাকে না।

০৪. সিএস, জোট খতিয়ান, সংশোধিত আর এস খতিয়ান প্রাপ্তিও সহজ করার পদক্ষেপ ভূমিসেবায় আমূল পরিবর্তন আনবে।

০৫. রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স হতে অনলাইনে দলিল তালাশ, প্রাপ্তি আবেদন ,ফিস জমাদান করা গলে মানুষ আরও উপকৃত হতো।

দলিল তলাশের নামে হাজার হাজার টাকা মধ্যস্বত্বভোগিরা খেয়ে ফেলছে। যারা জেলা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স এ কর্মরত দলিল লেখক তাদের কাজের চাপে ছোট ছোট গ্রাহকদের তারা সেবায় দিতে পারেন না। শুধু দিচ্ছি দিব, কাল আসেন পরশু আসেন। আগের টাকা তালাশবাবদ শেষ । নতুন করে তালাশ করতে হলে টাকা দেন। এ সব হয়রানীও ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হবে।  তবে সঠিক তথ্য দিতে পারলে বেশিরভাগ দলিল পাওয়া যায়, হাসিমুখে মানুষ রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স হতে বাড়ি ফিরে যায়।

ভূমিমন্ত্রাণালয়ের উধ্বর্তন কর্মকর্তাগণ উপরোক্ত পরামর্শগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন আশা করি।

আবুল কাশেম

সোনাকানিয়া, সাতকানিয়া

মতামতের জন্য সম্পাদক বা সংবাদ মাধ্যম দায়ি নন। পাঠকের ব্যক্তিগত অভিমত।