Bnanews24.com
চট্টগ্রাম বিশেষ সংবাদ সব খবর

চট্টগ্রামে বিয়েতে হাজার হাজার অতিথি, নির্দেশনা কাগজে-কলমে !

চট্টগ্রামে বিয়েতে হাজার হাজার অতিথি, নির্দেশনা কাগজে-কলমে !

বিএনএ, চট্টগ্রাম : সারাদেশে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। চট্টগ্রামের অবস্থাও ভয়াবহ।হাসপাতাল গুলোতে করোনা শয্যা খালি নেই। তবুও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না মানুষ। কমিউনিটি সেন্টার গুলোতে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিয়ে, বৌ-ভাত, গায়ে হলুদ ও মেজবান। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন একশত জনের বেশি অতিথি আপ্যায়ন করা যাবে না এমন নির্দেশনা দিলেও কেউ এটি মানছেন না। জেলা প্রশাসন নির্দেশনা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। নির্দেশনা ভঙ্গকারিদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। হাজার হাজার অতিথির ভিড়ে মুখরিত চট্টগ্রাম বিয়ের ক্লাব গুলো।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। ফলে রমজানের আগেই সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো সেরে ফেলার প্রতিযোগীতায় নেমেছে আয়োজকরা। কোন কমিউনিটি সেন্টার খালি নেই। শহর, গঞ্জ, গ্রাম সর্বত্র একই চিত্র। কোথাও স্বাস্থ্যবিবি মানা, মাস্ক পড়ার বালাই নেই। কমিউনিটি সেন্টারগুলোর মালিক পক্ষ ব্যবসায়িক স্বার্থে অতিরিক্ত লোকজনের আপ্যায়নকে উৎসাহিত করছে। তারা আয়োজকদের আশ্বাস দিচ্ছেন, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীকে ম্যানেজ আছে। তারা কোন অভিযান চালাবেন না! নির্দেশনা জারির এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও কোথাও কোন অভিযান পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ না করায়, আয়োজক ও অতিথিদের মধ্য এ নিয়ে কোন টেনশন দেখা যাচ্ছে না। যারা অনুষ্ঠান স্থগিত করেছিল, তারাও ফের আয়োজনে নেমেছে।

সূত্র জানায়, গত ২১ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত মাসিক উন্নয়ন সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় প্রকাশ্য স্থানে কোন সভা-সমাবেশ করা যাবে না। ১০০ জনের বেশি লোকের আপ্যায়ন করা যাবে না। অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন সংক্রামক রোধ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ, নির্মুল) আইন এর বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন। এর আগে ১৮ মার্চ কমিউনিটি সেন্টার, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন কেন্দ্রে স্বাস্থ্য বিধি মানার অনুরোধ জানিয়েছে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। ওই চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিককালে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীতে বৈশ্বিক করোনা মহামারী (কোভিড-১৯) সংক্রমণের হার এবং মৃত্যুর হার পূর্বের তুলনায় আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কমিউনিটি সেন্টার, হোটেল, রেস্তোরা, পর্যটন কেন্দ্র, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটছে এবং আগত জনসাধরণের মাঝে স্বাস্থবিধি প্রতিপালনের ক্ষেত্রে উদাসিনতা ও শৈথিল্যভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এমতাবস্থায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার রোধ করার লক্ষ্যে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানসমুহে আগত জনসাধারণকে স্বাস্থবিধি প্রতিপালনের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। তিনি এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনা, বিভাগীয় স্বাস্থ পরিচালক ও পুলিশ সুপারকে অবগত করেছেন। এরপর ২১ মার্চ কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল, হোটেল রেস্টুরেন্ট ও বিনোদন কেন্দ্র ইত্যাদি জায়গায় অনুষ্ঠানাদি সীমিতকরণ প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম জেলা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকার কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত নির্দেশনা প্রতিপালন, মাস্ক পরিধান নিশ্চিতকরণ, সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতকরণসহ নিম্মোক্ত শর্তাবলী মেনে কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক, ধর্মী ও রাজনৈতিক ইত্যাদি অনুষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

কমিউনিটি সেন্টারে ধারণ ক্ষমতার ৪ ভাগের ১ভাগের চেয়ে বেশি অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা যাবে না। ১শ’ জনের অধিক অতিথির উপস্থিতি নিরোৎসাহিত করাসহ ওই প্রজ্ঞাপনে ৭টি নির্দেশনা দেয়া হয। এসব বিষয় না মানলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৪’র দ-বিধি ১৮৬০ এবং সংক্রামক রোধ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ, নির্মুল) আইন ২০১৮ এর বিধান মতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু তাদের নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং সংক্রামক রোধ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ, নির্মুল) আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হলেও গত চারদিনে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি। ফলে চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, কিছু কিছু কমিউনিটি সেন্টারে অভিযান হয়েছে। অনুষ্ঠান করা যাবেনা-এ কথা কোথাও বলা হয়নি। ১শ’ জনের অধিক অথিতির উপস্থিতি নিরোৎসাহিত করা হযেছে। ১শ’ জনের বেশি লোকের আয়োজন করা যাবে এটা বলা হয় নি। পুরো বিষয়টি নিরোৎসাহিত করা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, কমিউনিটি সেন্টারগুলোকে নির্দেশনা জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে অভিযুক্ত কমিউনিটি সেন্টারে অভিযান চালানো হবে, সন্ধ্যার পর থেকে তারা এ্যাকশনে যাবে। তিনি আরও বলেন, আটজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে। তার মধ্যে তিনজন করোনায় আক্রান্ত। একজনকে অফিসে রাখতে হয়। চট্টগ্রাম নগরীতে প্রতিদিন এক কোটি মানুষের সমাগম। সেখানে রয়েছে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ফলে পুরো নগরী কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে অভিযান চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

বিএনএনিউজ/ওয়াইএইচ/আমিন