Bnanews24.com
Home » হল খুলে পরীক্ষা গ্রহণের দাবি ইবি শিক্ষার্থীদের
শিক্ষা সব খবর

হল খুলে পরীক্ষা গ্রহণের দাবি ইবি শিক্ষার্থীদের

ইবিতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কাল

বিএনএ, ইবি :  স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হলসমূহ খুলে পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা ।

মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১১৯তম সভায় হল বন্ধ রাখার শর্তে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চুড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় অনলাইনে সে ক্ষোভের প্রতিফলন হতেও দেখা যাচ্ছে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল সমূহ বন্ধ রেখে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন গুলো। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলবে উল্লেখ করে সংবাদ বিবৃতি দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা দাবি করে বলেন, আবাসিক সুবিধা ছাড়া পরীক্ষা গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হবে। এতে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের বিস্তার আরো ঘটবে। এছাড়াও প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রেখে অনলাইনে সম্পন্নকৃত কোর্স সমূহের রিভিউ পাঠদান না করে চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানাই।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হল চালু রেখে পরীক্ষা গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে। আবাসিক হলসমূহ বন্ধ রেখে পরীক্ষা গ্রহণ করলে প্রাণঘাতি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোন শিক্ষার্থীর ক্ষতিসাধন হলে এর দায় কোনভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়াতে পারে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তন্ময় সেন লিখেছেন, “হল না খুলে পরীক্ষায় বসতে আমরা রাজি না। হল খুলুন তারপর পরীক্ষার আয়োজন করুন। ছাত্রদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ছাত্ররা না।”

মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন আজাদ লিখেছেন, “আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রকারান্তে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুকূপে ধাবিত করা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হলসমূহ খোলা যেতে পারে। এছাড়াও প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতিতে অনলাইনে সম্পন্ন হওয়া কোর্সের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ যেমন অনুচিত হবে; তেমনই এতে দেশে অপরিপক্ব গ্রাজুয়েট তৈরি হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রউফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল বন্ধ রেখে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চুড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগে ফেলবে। তাদের সারাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষাকে এভাবে নেওয়া কখনোই ঠিক হবে না। আমরা আশা করি প্রশাসন বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করবে।

এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা সাইদুর রহমান বলেন, “সরকারি নির্দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এখানে সরকারের নীতি হচ্ছে করোনাকালীন সময়ে হলগুলো খুলবেন না। এতে করোনা বিস্তৃতি ঘটতে পারে। সে জায়গা থেকে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এজন্য আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে সেশন জট রুখে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাও নেয়া যায় এবং করোনার ঝুঁকিও না হয়।

শিক্ষার্থীদের হলের বাহিরে আবাসন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত চিন্তা ভাবনা হয়নি। তবে যখন পরীক্ষা নেয়া হবে তখন কোন প্রক্রিয়ায়, কিভাবে শিক্ষার্থীদের রাখা হবে, খাদ্য এবং নিরাপত্তা এসব বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।”

বিএনএ/তারিক সাইমুম,ওজি