নৌকায় ভোট চাইলেন শেখ হাসিনা

বিএনএ ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরো পড়ুন

কাতার ফুটবল বিশ্বকাপে সেমিতে যাওয়ার লড়াই

বাংলাদেশের সিরিজ জয়, আনন্দবাজার যা লিখেছে

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে যশোরের শামস-উল হুদা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভোট চান তিনি। এসময় শেখ হাসিনা বলেন, টানা সরকারে থাকায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে উন্নয়নের হাওয়া বইছে। যশোরে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, মেডিকেল কলেজ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, বিশ্ববিদ্যালয়, আইটি পার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু ও মধুমতি সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমের সাথে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী নির্বাচনে ভোটারদের কাছ থেকে ওয়াদা নেন তিনি। এসময় দু’হাত তুলে নৌকায় ভোট দিতে ওয়াদা করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীতে অর্থনৈতিক মন্দা। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমি দেখি, কেউ কেউ রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে। রিজার্ভের কোনো সমস্যা নাই। অনেকে বলে ব্যাংকে টাকা নাই, কেউ কেউ ব্যাংক থেকে টাকা তোলে। ব্যাংকের টাকা তুলে ঘরে রাখলে তো চোরে নিয়ে যাবে। চোরের জন্য সুযোগ করে দেয়া। ব্যাংকে টাকা নেই এ কথাটা মিথ্যা। গতকালও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ মিটিং করেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এ বিষয়ে কোনো সমস্যা নাই, প্রত্যেকটা ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা আছে।

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের রেমিট্যান্স আসছে, বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে। আমদানি-রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কর সংগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের অন্য দেশ যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, নিজেরা অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী আছে। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে সারা বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে, খাদ্য ও সবজি উৎপাদন করে যাচ্ছি। এই যশোরে একদিকে যেমন খেজুর গুড়ের দেশ আবার ফুলে ফলে শোভিত, ফুল উৎপাদনেও যশোর ১ নম্বরে আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কৃষকের সব রকম সুযোগ করে দিচ্ছি। ১০ টাকায় তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। কৃষি উপকরণ কার্ড দিয়েছি। ২ কোটি কৃষক সেই কার্ড পায়। ১ কোটি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। তাদের টাকা তাদের হাতে সরাসরি চলে যায়। ৯০ টাকায় সার কিনে মাত্র ১৬ থেকে ২২ টাকায় সেই সার আমরা কৃষককে দিচ্ছি। কৃষি উপকরণের কোনো অসুবিধা যাতে না হয় তার ব্যবস্থা আমরা করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রক্ত আর হত্যা ছাড়া বিএনপি আর কিছু দিতে পারেনি। তারা শুধু পারে মানুষের রক্ত চুষে খেতে। শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্টের পর বিচার পাওয়ার অধিকার ছিল না। বাবা-মা ভাই-বোন সবাইকে হারিয়েছি। তারপরও এই বাংলায় ফিরে এসেছি। বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল আমার লক্ষ্য।

মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে বিএনপি নিজেদের উন্নয়ন করেছে অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি কিছুই দিতে পারে না, শুধু পারে মানুষের রক্ত চুষে খেতে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

সরকার প্রধান বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সিদ্ধান্ত নিই একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না। এবার ক্ষমতায় এসে ভূমিহীনদের ঘর তৈরি করে দিয়েছি। তাই ৩৫ লাখ মানুষকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। ঘর পেয়ে মানুষের জীবন পাল্টে গেছে। জাতির পিতার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা হয়েছে।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের পরিচালনায় জনসভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

বিএনএ/এ আর