Bnanews24.com
এক নজরে বৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃহত্তর চট্টগ্রাম সব খবর

বাঁশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্র : আরও ২ জনের মৃত্যু

বাঁশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্র : আরও ২ জনের মৃত্যু

বিএনএ,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক ও পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মো. শিমুল (২৩) ও রাজিউল ইসলাম (২৫) নামের আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এরআগে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (২১ এপ্রিল) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবির।

জানা যায়, নিহত মো. শিমুল (২৩), সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার আব্দুল মালেকের ছেলে। আর নিহত রাজিউল ইসলাম (২৫) দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার বেতদিঘি গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। রাজিউল বাঁশখালীর এস আলম গ্রুপের পাওয়ার প্লান্টের বয়লারের ফিল্টারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবির বলেন, বিকেল সাড়ে ৫ টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিমুল। অন্যদিকে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে মঙ্গলবার রাত ২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রাজিউল ইসলাম।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া এবং পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভূঁইয়া জানান, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত শ্রমিক মারা গেছেন। ওইদিন আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে আনা হলে প্রথমে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি দেওয়া হয়। একই দিন অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। আজ বিকেল সাড়ে ৫ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়েছে।

পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ জানান, রাজিউল ইসলাম নামে একজনকে স্থানীয়রা পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করান। রোববার (১৮ এপ্রিল) তার অপারেশন করা হয়। পরে চিকিৎসারত অবস্থায় ২০ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে মারা যান তিনি।

এরআগে গত শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। আহত হন প্রায় ৩০ জন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মামলা হয়েছে দুইটি।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে-বিপক্ষের লোকজন ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে দুই ভাইসহ চারজন নিহত হয়েছিল। এ ঘটনায় আহত হয়েছিল ১১ পুলিশসহ অন্তত ১৯ জন। সেখানে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল স্থানীয়দের একটি পক্ষ। ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছিল।

এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে ২৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হচ্ছে। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ ভবনে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছিল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য গণ্ডামারা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমি কেনা হয়েছে।

এই প্রকল্পের ৭০ শতাংশের মালিকানা থাকবে এস আলম গ্রুপের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশের মধ্যে সেপকো ২০ শতাংশ এবং চীনের অপর প্রতিষ্ঠান এইচটিজি ১০ শতাংশের মালিক হবে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর কেন্দ্রটিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও উৎপাদনে যেতে পারেনি তারা।

বিএনএনিউজ/মনির