পলাতক দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিলে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার

বিএনএ ডেস্ক : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিবকে ধরিয়ে দিতে পারলে ২০ লাখ টাকা পুস্কারের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

রোববার(২০ নভেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. মনজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এআইজি মো. মনজুর রহমান বলেন, পলাতক দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ লাখ করে ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,পুলিশের চোখে স্প্রে করে ঢাকার নিম্ন আদালত থেকে জেএমবির দুই সদস্য আবু সিদ্দিক ও মঈনুলকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে জঙ্গিরা। জেএমবির এ দুই সদস্য প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিল ।

রোববার (২০ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান হারুন আর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিবি প্রধান হারুন আর রশীদ বলেন, দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন লোক এসে পুলিশের চোখে স্প্রে করে আসামিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারা প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে  জানান, রোববার (২০ নভেম্বর) ১২টার দিকে এই দুই জঙ্গিকে ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে তোলার জন্য আদালত চত্বরে নিয়ে আসে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এ সময় নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের মুখে বিশেষ ধরনের স্প্রে করে লাপাত্তা হয়ে যায় তারা। ঢাকা শহর থেকে বের হওয়ার প্রতিটি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বের হওয়া গাড়িগুলো কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

আবু সিদ্দিক সোহেল
আবু সিদ্দিক সোহেল

পুলিশের দাবি, জঙ্গিরা আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের দিকে স্প্রে ছোড়ার পরই চারদিকে ধোঁয়ার মতো হয়ে যায়। এরপরই জঙ্গিরা পালিয়ে যান।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির
মইনুল হাসান শামীম

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বহিষ্কৃত মেজর জিয়া, আকরাম হোসেন, মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুস সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার এবং শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের। আসামিদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক।

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তার স্ত্রী শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিএনএ/ ওজি