27 C
আবহাওয়া
৫:৫২ অপরাহ্ণ - মে ২৭, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » এক মাসে ভেঙ্গে গেল রাজকীয় বিয়ে!

এক মাসে ভেঙ্গে গেল রাজকীয় বিয়ে!

এক মাসে ভেঙ্গে গেল রাজকীয় বিয়ে!

।। শামীমা চৌধুরী শাম্মী ।।

বিএনএ, ঢাকা: ধনীর পুত্র দেখে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন মা-বাবা। বিয়েও হয়েছিল প্রচুর টাকা খরচ করে রাজকীয়ভাবে। কিন্তু বখে যাওয়া মেয়ে জামাই যে বাসর রাতেই বউকে ফেলে নেশার টানে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে অন্যত্র রাত্রিযাপন করবেন, তা কল্পনায়ও ছিল না! শুধু কি তাই? স্ত্রীকে জোর করে মদ পান করাতেও চলতো নানা চেষ্টা! আর এতেই ক্ষুব্ধ স্ত্রী। রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে স্ত্রী প্রিয়ন্তী সাফ জানিয়ে দিলেন, স্বামী দ্বীপের সাথে আর সংসার করবেন না।

মাদকাসক্ত স্বামীর বাসা থেকে উদ্ধারের পর বাবার বাড়িতে এসে গত ১৭ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন প্রিয়ন্তী। ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর সদরের চৌধুরীকান্দা গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

ফুটপাতে সামান্য হলুদ-মরিচ বিক্রেতা কুমারেশ সাহার কন্যা প্রিয়ন্তী সাহা। ভাঙ্গা কেএম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী তিনি। তার রূপলাবণ্যে বিমোহিত হয়ে পারিবারিকভাবেই বিয়ে করেন ভাঙ্গা বাজারের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি রবিন সাহার ছেলে দ্বীপ সাহা।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সনাতন প্রথার রীতি অনুযায়ী জাঁকজমক আয়োজনে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল নজরকাড়া। বিয়ের বাজার করা হয় সিঙ্গাপুর থেকে। আর এ বিয়েতে স্বর্ণালঙ্কারই দেয়া হয়েছে প্রায় দুই শ’ ভরি। এক সপ্তাহ ধরে ধুমধাম রাজকীয়ভাবে চলে এই আয়োজন। বিয়ের অনুষ্ঠানে খরচ করা হয় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ওপরে। স্থানীয় রাজনীতিবীদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হোমড়াচোমরা বাদ পড়েনি কেউ বিয়ের নিমন্তন্নে। কিন্তু নতুন জীবনে সুখের সংসার গড়ার সব আয়োজন যেন ভেঙে খান খান হয়ে যায় বাসর রাতেই।

প্রিয়ন্তী অভিযোগ করেন, তার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড বদলে বিভিন্ন অন্তরঙ্গ মুহূর্তের এবং জোর করে তোলা কুরুচিপূর্ণ নানা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে ছেড়ে দিবে বলে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা চালায়।

প্রিয়ন্তী আরও বলেন, বাসর রাতেই নেশায় আসক্ত হয়ে স্বামী দ্বীপ আমাকে একা ঘরে রেখে বেরিয়ে যায়। ফিরে আসে ভোররাতে। সেই রাতেই আমি তার চরিত্রের গোপন দিকটি দেখতে পাই। এরপর সে যেনো আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। আমি তার স্ত্রী নই, যেনো নেশার আসক্তি পূরণের রক্ষিতা! আমাকে দিয়ে সে জোর করে মদ পান করানোর চেষ্টা চালায়। আমি তাতে বাঁধ সাধলে শুরু করে নির্যাতন। শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। আমাকে টয়লেটে আটকে শাস্তি দিতো সে।

বিষয়টি বাবা-মাকে জানানোর পরে ৩১ মার্চ দ্বীপের বাড়ি থেকে প্রিয়ন্তীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে প্রিয়ন্তীকে তার বাপের বাড়িতে পৌঁছে দেয় পুলিশ। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রিয়ন্তীর স্বামী দ্বীপ। গত পয়লা এপ্রিল প্রিয়ন্তীর বাবার বাড়িতে হামলা চালায় দ্বীপ। খবর পেয়ে তাকে আটক করে পুলিশ। এসময় তার নিকট থেকে চার বোতল ফেনসিডিলও জব্দ করে। দ্বীপের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় ভাঙ্গা থানা পুলিশ।

বিএনএনিউজ/ বিএম/হাসনা

Loading


শিরোনাম বিএনএ