Bnanews24.com
Home » কৃষকদের কাছে প্রধানমন্ত্রী মোদির আত্মসমর্পন
ভারত ভিডিও সংবাদ

কৃষকদের কাছে প্রধানমন্ত্রী মোদির আত্মসমর্পন

বিএনএনিউজ:  বছর ব্যাপি কৃষকদের আন্দোলনে অবশেষে পিছু হটলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি(narendra modi)। শুক্রবার (১৯নভেম্বর)জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন (Farm Laws) বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কৃষকদের একটি অংশকে তাঁর সরকার কৃষি আইনের সুবিধার বিষয়ে বোঝাতে পারে নি।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীও জানান, ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা শীতকালীন সংসদ অধিবেশনে কৃষি আইন প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আইন তিনটি বাতিলে হাজার হাজার কৃষক গত বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির বেশ কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্টে শিবির বসিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। আন্দোকারী কৃষকদের বেশিরভাগই পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং পশ্চিম উত্তর প্রদেশের।  আইনগুলো হল – ফার্মারস প্রডিউস ট্রেড অ্যান্ড কমার্স (প্রোমোশন অ্যান্ড ফ্যাসিলিটেশন) আইন, ২০২০; ফার্মারস এম্পাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রোটেকশন (মূল্য নিশ্চয়তা এবং কৃষি পরিষেবা আইন ২০২০ এবং প্রয়োজনীয় পণ্য (সংশোধন) আইন, ২০২০।

তাছাড়া কৃষকদের অন্য দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিছু মন্তব্য না করায় কৃষকরা হতাশ হয়েছেন। তাদের অন্য দাবিগুলো ছিল,

০১. উপযুক্ত মূল্যে ফসল সংগ্রহ নিশ্চিত করতে ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের (এমএসপি) নিশ্চয়তা। কৃষকরাও এমএসপি এবং প্রচলিত খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা।

০২.বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল প্রত্যাহার করা, কারণ তাঁরা মনে করেন যে এর ফলে তাঁরা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাবেন না।

০৩. খড় পোড়ানোর ক্ষেত্রে শাস্তি প্রত্যাহার করতে হবে, খড় পোড়ানোর জন্য জরিমানা ও জেলের মেয়াদ রাখা যাবে না।

০৪. স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মেনে নেওয়া – কৃষকরা স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুসারে এমএসপি দাবি করে। স্বামীনাথন কমিশনের রিপোর্টে বলা হয় যে সরকারকে উৎপাদনের ওজনযুক্ত গড় খরচের থেকে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বেশি এমএমপি বাড়াতে হবে। এটি C2+50% সূত্র নামেও পরিচিত।

ভারতীয় সংবিধান অনুসারে নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদের যতটা ভূমিকা থাকে, কোনও আইন প্রত্যাহার বা বাতিল করতে হলেও সংসদকে সেই ভূমিকা পালন করতে হয়। সংবিধানের ২৪৫ ধারায় সংসদের আইন বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে। দেশের যেকোনও আইন বাতিল করতে গেলে সেই সংক্রান্ত প্রস্তাবনা পেশ করতে হয় সংসদে।বিলটি সংসদে পেশ করার কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের মন্ত্রীর। বিল পাশের মতোই আইন প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সংসদের উভয়কক্ষে এই নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর ভোটাভুটি হবে আইন প্রত্যাহার নিয়ে। পরে আইন প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাশ হলে সেই বিল পাঠানো হয় রাষ্ট্রপতির কাছে। রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলে আইনটি বাতিল হয়। একটি ‘রিপিল বিল’-এর মাধ্যেমেই সংশ্লিষ্ট তিনটি আইন বাতিল করা যেতে পারে।

আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হবে ভারতের সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। এই অধিবেশন চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন এই অধিবেশনেই তিন আইন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণার প্রতিক্রিয়া

কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত বলেছেন, পার্লামেন্টে এই আইন চূড়ান্তভাবে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন কৃষকরা।

কৃষি আইন বাতিল ঘোষণাকে কৃষকদের জয় হিসেবে দেখছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee )। ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে একটি কবিতাও লিখেছেন পশ্চিমঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।তবে কৃষক আন্দোলন নিয়ে এই যে প্রথমবার কবিতা রচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা কিন্তু নয়। এর আগেও বহুবার নানা ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কবিতায় কলম ধরেছেন তিনি। এনআরসি হোক কিংবা কৃষি বিল প্রণয়ন সব ইস্যুতেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কৃষি আইন বাতিলের পর মুখ্যমন্ত্রী কবিতা লিখে নিজের সামাজিক মাধ্যমে এই কবিতাটি পোস্ট করেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ(amit Shah )

কৃষি আইন বাতিলের কথা ঘোষণা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (narendra modi)। মোদির এই সিদ্ধান্তকে যথারীতি স্বাগত জানান, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ(amit Shah )।শাহ এদিন টুইট করেন, কৃষকদের (farmer) স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে কোনও ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। সে কারণেই তিনি কৃষি আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসাধারণ এক রাষ্ট্রনায়কদের পরিচয় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

শুক্রবার সকালে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করে আন্দোলনকারী কৃষকদের মধ্যে। কৃষকরা মিষ্টি বিতরণ, মিষ্টিমুখ করেন একে অপরকে। নেচে গেয়ে আনন্দ করেন নবীণ প্রবীণ কৃষকরা ভারতজুড়ে।

ইন্দিরা গান্ধীর নাতি প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর প্রতিক্রিয়া

গুরু নানকের জন্ম দিবসের পাশাপাশি শুক্রবার(১৯নভেম্বর) ছিল প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীরও জন্মদিন। সেই উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে প্রিয়ঙ্কা বলেন, ‘‘আমার আনন্দ লাগছে, শেষ পর্যন্ত সরকার বুঝতে পেরেছে, এ দেশে কৃষকদের চেয়ে বড় কোনও শক্তি নেই।’’কৃষি আইন সাংবিধানিক ভাবে প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেস লড়াইয়ের ময়দানে থাকবে জানিয়ে All India Congress Committee (AICC) -এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘আমাদের এখন একটাই কাজ। কৃষকদের পাশে থাকা। দীর্ঘ আন্দোলনপর্বে তাঁরা নানা সমস্যার জর্জরিত। ঋণের ভারে বিপর্যস্ত।’’

অধীররঞ্জন চৌধুরী

কৃষি আইন প্রত্যাহার প্রসঙ্গে লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘‘শুধু কৃষি আইন প্রত্যাহার করলে হবে না। যে ৭০০ জন কৃষক মারা গেলেন তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।দেশের ৫৮ শতাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু মোদী সরকার কয়েক জন পুঁজিপতিতে সুবিধা করে দিতে কৃষক-স্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছিল।

সূত্র : এবিপি,নিউজ১৮,এশিয়া নেট।