Bnanews24.com
Home » প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন গৃহীত
কভার রোহিঙ্গা সব খবর

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন গৃহীত

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন গৃহীত

বিএনএ ডেস্ক: জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো সর্বসম্মতিক্রমে ‘রোহিঙ্গা রেজুলেশন’ গৃহীত হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ ন‌ভেম্বর) জাতিসংঘে ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক রেজুলেশনটি গৃহীত হয়। ‘ওআইসি’ ও ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন’যৌথভাবে এটি উত্থাপন করেছে।

রেজুলেশনে বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি পূরণ ও জাতিসংঘের সব মানবাধিকার ব্যবস্থাপনাকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়াও, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কর্মসূচিতে তাদের অন্তর্ভূক্ত করায় রেজুলেশনটিতে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।

বলা হয়,  বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদান এবং জাতীয় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কর্মসূচিতে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ উদারতা ও মানবিকতা প্রদর্শন করেছে। কক্সবাজারের অত্যন্ত জনাকীর্ণ আশ্রয় ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর এবং এ লক্ষ্যে এখানে অবকাঠামোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা ও বিনিয়োগেরও স্বীকৃতি দেয়া হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

রেজুলেশনে ১০৭টি দেশ সহ-পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে। যে সংখ্যা ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসি ছাড়াও রেজুলেশনটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, জাপান, সাউথ কোরিয়াসহ বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ সমর্থন যুগিয়েছে এবং সহ-পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে।

এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। মানবিক বিবেচনায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, রোহিঙ্গাদের স্বপ্রণোদিত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমার ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের হতাশা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, যা এ অঞ্চলে নানা ধরনের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে বলে জানান তিনি।

রাবাব ফাতিমা ব‌লেন, আশা করা যায় এবারের রেজুলেশনটি নিজভূমি মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। যা দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যার টেকসই সমাধানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই স্থায়ী প্রতিনিধি।

বিএনএনিউজ/আরকেসি